২০০৩ এর ডিসেম্বরে ওটা একটা আনলিস্টেড ভিজিট ছিলো দেশে, এবং বাধ্যতামূলক, কারণ অক্টোবরে বাবা মারা গেছিলো, ঐ ৪০ দিন পরে ইত্যাদি ইত্যাদি করতে এসেছিলাম। মনের কোন তাল ঠিকানাই তখন নেই, ঐ অক্টোবরেই আমার ব্রেকাপ হয়েছে, আচমকা। আমার স্বভাবসুলভ ভাবেই আমি ডিপ্রেশনে, এসবের পরে এবং নিজেকে নিজের মধ্যে আটকে ফেলেছি, নাথিং গোইং আউট, এটা খুব ভালো, কিন্তু একই সাথে নাথিং কামিং ইন, একদম কোকুনে আবদ্ধ। যাই হোক, ব্যাঙ্গালোর ফিরে থার্টিফার্স্ট ধরতে হবে। শালা সব উড়িয়ে দেবো, উল্লাট মাস্তিতে, প্রোগ্রাম সব ঠিক, অল সেট, শুধু আমার পৌঁছানো। উই আর প্ল্যানিং সামথিং গ্রান্ড।
বেনাপোল দিয়ে ২৬ তারিখ বর্ডার পার হলাম। ২৭ দুপুরে করোমান্ডেল এক্সপ্রেসে রিজার্ভেশন করা, আমি ২৯ পৌঁছে যাবো। শালা ২৭ জনের জন্য স্টিক বানাতে হবে, এভারেজে ৪ টে তো বটেই, পার্সোনাল রেকর্ড ফেকর্ড নিয়ে ভাবছি। চিরচেনা রুট। এপারের ইমিগ্রেশন কাস্টমস, ওপারেএ ইমিগ্রেশন কাস্টমস, স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের জন্য নামমাত্র, আনুষ্ঠানিকতা শুধু, দুপার মিলিয়ে ঘন্টা দেড়েক, ফর্ম ফিলাপ আর জমা দিতে যতটুকু লাগে। তারপরেই বনগাঁ স্টেশন, ট্রেনে শিয়ালদা এবং মির্জা গালিব স্ট্রিটে হোটেল প্যারামাউন্ট। খুব বেশি হলে আড়াইটার মধ্যেই চেক ইন। তারপরে রেগুলার কাজ, বিকালে নিউমার্কেট যাওয়া, রোল খাওয়া, হলটাতে যেই সিনেমাই চলছে দেখে নেয়া, রাতে খাবার আর একটা বাকারডি পাইন্ট নিয়ে হোটেলে। ২৭ দুপুরে ট্রেন, ১১ টার মধ্য প্রভিশন নেয়া কমপ্লিট যার প্রধাণ উপকরণ ৫ বোতল ফেন্সিডিল। ওহহ হাউ আর মিস ঐ ফেন্সিডিল-জুস-ব্রেড-অমলেট ৩৪/৩৫ ঘন্টা।
এই প্রথম একা, কোন বন্ধু নেই সাথে, সো ফাকিং হোয়াট। হুইলার থেকে দুটো বই বেশি নিলাম, নিশ্চিন্তে পড়বো, কেউ ডিস্টার্ব করবে না। স্মুদ টাইমিং এ হাওড়া, হাফ বোতল খেয়ে ট্রেনে, আমার সাইড লোয়ার, আহা, সাইড লোয়ার। সব ঠিক। আমি তো ঘুমাইনা ট্রেনে, ফেন্সিডিল জাগিয়ে রাখে, ১৫ মিনিট পরপর সিগারেটের তেষ্টা পায়, ঘুম আসবে কি করে। এই ভাইজাগ পার হবার পরে, কি যেন মনে হলো, পাসপোর্ট নিয়ে, ভাবলাম একটু দেখি। যাহ বাঁড়া, আমার পাসপোর্ট কই? এটা কি হলো? আমি ফেললাম কোথায়? পাসপোর্ট ছাড়া তো অচল। বাল, আমি হোটেল থেকে চেক আউটের সময় পাসপোর্ট ফেরতই নিই নি। সব প্ল্যান দুচে গেলো, আমাকে ফের কোলকাতা ফিরতে হবে। চেন্নাই নেমেই ফের ছোট রিজার্ভ করতে, ঐ রাতেই পেয়ে গেলাম, করমান্ডেল, নাকি ত্রিভান্দরম, নাকি কোচি, নাকি চেন্নাই মেইল মনে নেই, তবে আমার ২৯ তারিখ সকালে যেখানে ব্যাঙ্গালোর থাকার কথা সেখানে ৩০ তারিখ দুপুরে আমি ফের কোলকাতা। হাওড়া নেমেই একবার চেক করলাম, উঁহু আগামী ১০ দিন কোন রিজার্ভেশন নেই।
যতটুকু লাইট ছিলো আমার মধ্যে সেটুকুও চলে গেলো, আমি কিচ্ছু দেখছিনা আর। ঘোরতর একা। কিচ্ছু করার নেই। প্যারামাউন্টে ফিরে পাসপোর্ট পেলাম, কিন্তু ওদের খালি নেই, অন্য হোটেল। হোটেলের এটেনডেন্টকে টিকেটের ব্যবস্থা করতে বললাম, ওরা খুব ভালো পারে কাজটা, ফেয়ারলি প্লেসে গিয়ে লাভ নেই, তাও গেলাম সন্ধ্যায়, কিস্যু হবে না। সব রিজার্ভড। লাস্ট কয়েকবার, ফেরার পথে, রিজার্ভেশন বারাসাত থেকে করাতাম, ওখানকার একটা দালাল বেশ পরিচিত, অন্তত ২ বার আমাদের ১ দিনে করিয়ে দিয়েছে। পরদিন বারাসাত, চা খেতে খেতে বললো, বস, কোন লাভ নেই, সব দালাল বলবে করে দিচ্ছি, হবে না আসলে। আমার নাম্বার নিয়ে যান, আমি দেখছি, রোজ একবার করে ফোন দেবেন, আর্লিয়েস্ট পসিবল করে দিচ্ছি, তবে ধরে নিন সপ্তাহ। আমি এক সপ্তাহর জন্যে কোলকাতা আটকে গেলাম, আর এমন একটা সময়, যখন এনজয়মেন্ট বলতে কিছুই নেই মনের মধ্যে। ভালো কিছুই হচ্ছে না, আমি কোলকাতা থাকতে চাইনা, একা থাকতে চাইনা, হুল্লোড় করতে চাই, টানা ৩০ ঘন্টা, ৪০ ঘন্টা।
এরপরে রুটিনবাঁধা, ১০/১১ টায় ঘুম থেকে ওঠা, ইচ্ছা হলে নিউমার্কেটের সামনে, পিৎসা, ৩/৪ টের দিকে মির্জা গালিবেই কোন একটা বাংলা রেস্তোরাতে খেয়ে নিউমার্কেটের সামনে ঐ রোলওলাদের পাশে ওখানে চুপচাপ বসে থাকা, প্রচুর লোক বসে ওখানে, আমার বয়েসি ছেলেমেয়েরা আসে বসে আড্ডা দেয়, রোল খায়, প্রেম করে, আমি চুপচাপ একটার পরে একটা সিগারেট। কে জানে, এই এখন যাদের সাথে কথা হয়, আড্ডা হয় অনলাইনে, অনেকেই হয়তো সেই ২০০৪ এর জানুয়ারির প্রথম ৫/৬ দিন ওখানে গ্যাছে, আড্ডা দিয়েছে, অতিরিক্ত সিগারেট খাওয়া ছেলেটার দিকে বিরক্ত হয়ে তাকিয়েছে, ফিচারলেস নোবডি। একদিন পরপর বারাসাত, কাজ তো নেই কোন, টিকেটের খোঁজা নেয়ার নামে বারাসাত স্টেশনে গিয়ে ঘুরে আসা, ঐ লোকটার সাথে ঘন্টাখানেক গল্প, সময় তো কাটে। রাতে কোন একটা মুসলিম হোটেল থেকে প্রচুর কাবাব আর বাকারডির বোতল। রাতে টিভি দেখার ফাঁকে ফাঁকে আমার দুপাশের রুম থেকে ভেসে আসা আওয়াজ, একপাশে বর-বউ লাগাচ্ছে , আরেকপাশে প্রেমিক প্রেমিকা থ্রিএক্স দেখছে। একদিন খুব জোর আওয়াজে এক্স দেখছিলো, দিনের বেলা, সেদিন হোটেলের লোকেদের সাথে ওদের হেব্বি বাওয়াল, যা করবেন করুন, সবাইকে জানিয়ে কেন? ৩/৪ তারিখ নাগাদ ৬ তারিখের টিকেট পাওয়া গেলো, রাতে চেন্নাই মেল। লোকটা এক্সট্রা ১০০ টাকা নিয়েছিলো, নিজে চেয়ে, যে আমি কিছুই নেবো না, এটা খরচ, এত ভালো দালাল আমি আসলেই আর দেখিনি কখনো। প্রচুর সময় দিয়েছে আমাকে, কাজটা নিজের মনে করে করেও দিয়েছে, নামটা মনে নেই, তখন এমন করে ভাবিওনি, আজ যেমন ভাবে।
কলেজ স্ট্রিট যাওয়া আর বই কেনা বাকি ছিলো, ৬ তারিখেই সারলাম কাজটা। ৫ টা ইয়ে নিয়ে রাতে হাওড়া স্টেশনের সামনের একটা হোটেলে খেয়ে, রাতে ট্রেনে। ফাইনালি, ফাইনালি, আমি পৌঁছাবো। ৮ তারিখ দুপুরে যখন ঢুকছে ব্যাঙ্গালোর মেইল আস্তে আস্তে ব্যাঙ্গালোরে, ভাবছিলাম, কি মিস করলাম, আমার নিজের প্ল্যান, কি কি করা হবে, সবাই সব করলো, শুধু আমিই থাকলাম না। ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ট্রেইন যখন ঢুকছে, দেখলাম প্লাটফর্মে ওরা ৫/৬ জন দাঁড়ানো, দাঁত বের করে, পিত্তি আরো জ্বলে গেলো। নেমে কাছে গিয়ে দেখি, একি!!! দুজনের নাক ভাঙা, একজনের ভুরুর কাছে কাটা, দুজনের চোখের নিচে হাড়ের উপরে কালো, শুধু সঞ্জয় সিংহ ঠিক, বরাবরের মতই। কি কেস? এ তো ক্যালাকেলির সিগনেচার মার্কস। বললো ক্যালাকেলি না, ক্যালানি খাওয়ার। থার্টি ফার্স্ট, ওরা মারাথাহাল্লি রিং রোড থেকে মাল ফাল খেয়ে ব্রিগেড রোডে এসে মাল দেখছিলো, আর গাঁজা রোল করছিলো, এমন সময় মুশকো ৩/৪ টে লোক এসে চলে যেতে বললো। ওরা ৭/৮ জন, হেব্বি রোয়াব নিয়ে নিলো। লোকগুলো কোন কথা বললো না, স্ট্রেইট হাত চালালো, তারপরে সবাই সবার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং পাইকারি ক্যাল। ওরা নাকি সিভিল ড্রেস পুলিস ছিলো, একদম মেপে মেরেছে, নাকে মেরে দুজনকে আউট, ৩ জনকে চোখে, দুজনের কলার ধরে টেনে নিয়ে মাথা দিয়ে ঠুকে দিয়েছে। কোনমতে ওরা ছুটে পালিয়েছে। মনটা জান্তব আনন্দে ভরে গেলো আমার, এইসব গল্প শুনতে শুনতে। আমার অভিশাপ একেবারে বৃথা যায় নি :P
বেনাপোল দিয়ে ২৬ তারিখ বর্ডার পার হলাম। ২৭ দুপুরে করোমান্ডেল এক্সপ্রেসে রিজার্ভেশন করা, আমি ২৯ পৌঁছে যাবো। শালা ২৭ জনের জন্য স্টিক বানাতে হবে, এভারেজে ৪ টে তো বটেই, পার্সোনাল রেকর্ড ফেকর্ড নিয়ে ভাবছি। চিরচেনা রুট। এপারের ইমিগ্রেশন কাস্টমস, ওপারেএ ইমিগ্রেশন কাস্টমস, স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের জন্য নামমাত্র, আনুষ্ঠানিকতা শুধু, দুপার মিলিয়ে ঘন্টা দেড়েক, ফর্ম ফিলাপ আর জমা দিতে যতটুকু লাগে। তারপরেই বনগাঁ স্টেশন, ট্রেনে শিয়ালদা এবং মির্জা গালিব স্ট্রিটে হোটেল প্যারামাউন্ট। খুব বেশি হলে আড়াইটার মধ্যেই চেক ইন। তারপরে রেগুলার কাজ, বিকালে নিউমার্কেট যাওয়া, রোল খাওয়া, হলটাতে যেই সিনেমাই চলছে দেখে নেয়া, রাতে খাবার আর একটা বাকারডি পাইন্ট নিয়ে হোটেলে। ২৭ দুপুরে ট্রেন, ১১ টার মধ্য প্রভিশন নেয়া কমপ্লিট যার প্রধাণ উপকরণ ৫ বোতল ফেন্সিডিল। ওহহ হাউ আর মিস ঐ ফেন্সিডিল-জুস-ব্রেড-অমলেট ৩৪/৩৫ ঘন্টা।
এই প্রথম একা, কোন বন্ধু নেই সাথে, সো ফাকিং হোয়াট। হুইলার থেকে দুটো বই বেশি নিলাম, নিশ্চিন্তে পড়বো, কেউ ডিস্টার্ব করবে না। স্মুদ টাইমিং এ হাওড়া, হাফ বোতল খেয়ে ট্রেনে, আমার সাইড লোয়ার, আহা, সাইড লোয়ার। সব ঠিক। আমি তো ঘুমাইনা ট্রেনে, ফেন্সিডিল জাগিয়ে রাখে, ১৫ মিনিট পরপর সিগারেটের তেষ্টা পায়, ঘুম আসবে কি করে। এই ভাইজাগ পার হবার পরে, কি যেন মনে হলো, পাসপোর্ট নিয়ে, ভাবলাম একটু দেখি। যাহ বাঁড়া, আমার পাসপোর্ট কই? এটা কি হলো? আমি ফেললাম কোথায়? পাসপোর্ট ছাড়া তো অচল। বাল, আমি হোটেল থেকে চেক আউটের সময় পাসপোর্ট ফেরতই নিই নি। সব প্ল্যান দুচে গেলো, আমাকে ফের কোলকাতা ফিরতে হবে। চেন্নাই নেমেই ফের ছোট রিজার্ভ করতে, ঐ রাতেই পেয়ে গেলাম, করমান্ডেল, নাকি ত্রিভান্দরম, নাকি কোচি, নাকি চেন্নাই মেইল মনে নেই, তবে আমার ২৯ তারিখ সকালে যেখানে ব্যাঙ্গালোর থাকার কথা সেখানে ৩০ তারিখ দুপুরে আমি ফের কোলকাতা। হাওড়া নেমেই একবার চেক করলাম, উঁহু আগামী ১০ দিন কোন রিজার্ভেশন নেই।
যতটুকু লাইট ছিলো আমার মধ্যে সেটুকুও চলে গেলো, আমি কিচ্ছু দেখছিনা আর। ঘোরতর একা। কিচ্ছু করার নেই। প্যারামাউন্টে ফিরে পাসপোর্ট পেলাম, কিন্তু ওদের খালি নেই, অন্য হোটেল। হোটেলের এটেনডেন্টকে টিকেটের ব্যবস্থা করতে বললাম, ওরা খুব ভালো পারে কাজটা, ফেয়ারলি প্লেসে গিয়ে লাভ নেই, তাও গেলাম সন্ধ্যায়, কিস্যু হবে না। সব রিজার্ভড। লাস্ট কয়েকবার, ফেরার পথে, রিজার্ভেশন বারাসাত থেকে করাতাম, ওখানকার একটা দালাল বেশ পরিচিত, অন্তত ২ বার আমাদের ১ দিনে করিয়ে দিয়েছে। পরদিন বারাসাত, চা খেতে খেতে বললো, বস, কোন লাভ নেই, সব দালাল বলবে করে দিচ্ছি, হবে না আসলে। আমার নাম্বার নিয়ে যান, আমি দেখছি, রোজ একবার করে ফোন দেবেন, আর্লিয়েস্ট পসিবল করে দিচ্ছি, তবে ধরে নিন সপ্তাহ। আমি এক সপ্তাহর জন্যে কোলকাতা আটকে গেলাম, আর এমন একটা সময়, যখন এনজয়মেন্ট বলতে কিছুই নেই মনের মধ্যে। ভালো কিছুই হচ্ছে না, আমি কোলকাতা থাকতে চাইনা, একা থাকতে চাইনা, হুল্লোড় করতে চাই, টানা ৩০ ঘন্টা, ৪০ ঘন্টা।
এরপরে রুটিনবাঁধা, ১০/১১ টায় ঘুম থেকে ওঠা, ইচ্ছা হলে নিউমার্কেটের সামনে, পিৎসা, ৩/৪ টের দিকে মির্জা গালিবেই কোন একটা বাংলা রেস্তোরাতে খেয়ে নিউমার্কেটের সামনে ঐ রোলওলাদের পাশে ওখানে চুপচাপ বসে থাকা, প্রচুর লোক বসে ওখানে, আমার বয়েসি ছেলেমেয়েরা আসে বসে আড্ডা দেয়, রোল খায়, প্রেম করে, আমি চুপচাপ একটার পরে একটা সিগারেট। কে জানে, এই এখন যাদের সাথে কথা হয়, আড্ডা হয় অনলাইনে, অনেকেই হয়তো সেই ২০০৪ এর জানুয়ারির প্রথম ৫/৬ দিন ওখানে গ্যাছে, আড্ডা দিয়েছে, অতিরিক্ত সিগারেট খাওয়া ছেলেটার দিকে বিরক্ত হয়ে তাকিয়েছে, ফিচারলেস নোবডি। একদিন পরপর বারাসাত, কাজ তো নেই কোন, টিকেটের খোঁজা নেয়ার নামে বারাসাত স্টেশনে গিয়ে ঘুরে আসা, ঐ লোকটার সাথে ঘন্টাখানেক গল্প, সময় তো কাটে। রাতে কোন একটা মুসলিম হোটেল থেকে প্রচুর কাবাব আর বাকারডির বোতল। রাতে টিভি দেখার ফাঁকে ফাঁকে আমার দুপাশের রুম থেকে ভেসে আসা আওয়াজ, একপাশে বর-বউ লাগাচ্ছে , আরেকপাশে প্রেমিক প্রেমিকা থ্রিএক্স দেখছে। একদিন খুব জোর আওয়াজে এক্স দেখছিলো, দিনের বেলা, সেদিন হোটেলের লোকেদের সাথে ওদের হেব্বি বাওয়াল, যা করবেন করুন, সবাইকে জানিয়ে কেন? ৩/৪ তারিখ নাগাদ ৬ তারিখের টিকেট পাওয়া গেলো, রাতে চেন্নাই মেল। লোকটা এক্সট্রা ১০০ টাকা নিয়েছিলো, নিজে চেয়ে, যে আমি কিছুই নেবো না, এটা খরচ, এত ভালো দালাল আমি আসলেই আর দেখিনি কখনো। প্রচুর সময় দিয়েছে আমাকে, কাজটা নিজের মনে করে করেও দিয়েছে, নামটা মনে নেই, তখন এমন করে ভাবিওনি, আজ যেমন ভাবে।
কলেজ স্ট্রিট যাওয়া আর বই কেনা বাকি ছিলো, ৬ তারিখেই সারলাম কাজটা। ৫ টা ইয়ে নিয়ে রাতে হাওড়া স্টেশনের সামনের একটা হোটেলে খেয়ে, রাতে ট্রেনে। ফাইনালি, ফাইনালি, আমি পৌঁছাবো। ৮ তারিখ দুপুরে যখন ঢুকছে ব্যাঙ্গালোর মেইল আস্তে আস্তে ব্যাঙ্গালোরে, ভাবছিলাম, কি মিস করলাম, আমার নিজের প্ল্যান, কি কি করা হবে, সবাই সব করলো, শুধু আমিই থাকলাম না। ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ট্রেইন যখন ঢুকছে, দেখলাম প্লাটফর্মে ওরা ৫/৬ জন দাঁড়ানো, দাঁত বের করে, পিত্তি আরো জ্বলে গেলো। নেমে কাছে গিয়ে দেখি, একি!!! দুজনের নাক ভাঙা, একজনের ভুরুর কাছে কাটা, দুজনের চোখের নিচে হাড়ের উপরে কালো, শুধু সঞ্জয় সিংহ ঠিক, বরাবরের মতই। কি কেস? এ তো ক্যালাকেলির সিগনেচার মার্কস। বললো ক্যালাকেলি না, ক্যালানি খাওয়ার। থার্টি ফার্স্ট, ওরা মারাথাহাল্লি রিং রোড থেকে মাল ফাল খেয়ে ব্রিগেড রোডে এসে মাল দেখছিলো, আর গাঁজা রোল করছিলো, এমন সময় মুশকো ৩/৪ টে লোক এসে চলে যেতে বললো। ওরা ৭/৮ জন, হেব্বি রোয়াব নিয়ে নিলো। লোকগুলো কোন কথা বললো না, স্ট্রেইট হাত চালালো, তারপরে সবাই সবার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং পাইকারি ক্যাল। ওরা নাকি সিভিল ড্রেস পুলিস ছিলো, একদম মেপে মেরেছে, নাকে মেরে দুজনকে আউট, ৩ জনকে চোখে, দুজনের কলার ধরে টেনে নিয়ে মাথা দিয়ে ঠুকে দিয়েছে। কোনমতে ওরা ছুটে পালিয়েছে। মনটা জান্তব আনন্দে ভরে গেলো আমার, এইসব গল্প শুনতে শুনতে। আমার অভিশাপ একেবারে বৃথা যায় নি :P