মগজ ধোলাই
(ঘরোয়া নির্যাতন) – শেষ পর্ব
মগজ ধোলাই থেকে
কিভাবে মুক্ত হবেন এবং নিজের মনের উপরে নিয়ন্ত্রণ ফেরাবেন

গত পর্বে আমরা জেনেছি মগজধোলাই কি, কেন মগজকে ধোলাই করা হয়,
এবং কিভাবে তা করা হয়। আপনার আমার আপন লোকেরাই, শুধুমাত্র নিজের নিয়ন্ত্রণ
প্রতিষ্ঠা করে নিজের অনুগত বানিয়ে রাখতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে। আমরা অনেকেই কম বা
বেশি এই মগজধোলাই এর শিকার হই। কিন্তু এই মগজধোলাই থেকে কি মুক্তি লাভ করা সম্ভব?
সম্ভব কি এর ইফেক্ট থেকে আরোগ্য লাভ?
হ্যা অবশ্যই সম্ভব। একবার যদি আপনি বুঝে যান অভিজ্ঞতাটা,
আপনি নিজেই পারবেন মগজধোলাই থেকে মুক্ত হতে, উদ্ধার পেতে পারবেন এই সকল ঘরোয়া
নির্যাতন থেকে । প্রথমে আপনাকে জানতে হবে, কি কি উপায়ে নির্যাতনকারী আপনার মগজকে
ধোলাই করে আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এরপরে আপনাকে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ কৌশল শিখতে হবে যেন
আপনি শৃঙ্খলমুক্ত হতে পারেন। বিশ্বাস করুন, মগজ ধোলাই হতে যত সময় লেগেছে, তার থেকে
অনেক কম সময়ের মধ্যেই আপনি মুক্ত হতে পারবেন। মগজধোলাই এর পদ্ধতি কায্যর্করী
হওয়াটা বেশ সময়স্বাপেক্ষ। কেননা, গোটা ব্যাপারটাই আপনার সচেতনতার জগতের বাইরে চলতে
থাকে। না আপনি জানতে পারেন কি ঘটছে, না পারেন আন্দাজ করতে। অতি সতর্কতার সাথে
আপনাকে কিচ্ছু বুঝতে না দিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এমনকি নির্যাতনকারীও হয়তো অনেকক্ষেত্রে
বুঝতে পারে না সে কি করছে। তবে, আসলে তার জানা না জানায় কিছুই আসে যায় না। তারা
কাজটা করছে, এবং আপনাকে এর থেকে মুক্ত হতে হবে।
যদি আপনার এই নিবন্ধ পড়ার কারণ এটা হয়, যে আপনি জানেন আপনার
মগজকে ধোলাই করা হয়েছে, তাহলে বলা যায় আপনি সবথেকে কষ্টসাধ্য ধাপ পেরিয়ে এসেছেন।
আপনি এখন জাগ্রত, সচেতন। যদি আপনার পড়ার উদ্দেশ্য এই হয়, যে আপনার মনে হচ্ছে,
আপনার কোন প্রিয় মানুষের মগজকে ধোলাই করা চলছে, আপনার আসলে খুব বেশি কিছু করার
নেই। তাকে সেই আবিষ্কার , খুশি ও আশাবাদের জাদুকরী জাগরণ এর মুহূর্তে পৌঁছাতে দিতে
হবে। আপনি অবশ্যই তাকে সাহায্য করোতে পারেন এ ব্যাপারে। যেমন,
·
তাকে বিশ্বাস ও আস্থা জোগান দিন
·
আগেই পরামর্শ না দিয়ে , ধৈর্য্য ধরে তার কথা
শুনুন
·
তাকে বলুন, আপনার মনে হচ্ছে সে নির্যাতনের
শিকার। প্রয়োজনে ওয়েবসাইট বা পুস্তিকা পড়তে দিন। তার ব্যাপারে যা ভয় পাচ্ছেন, তা
লুকিয়ে না রেখে পরিষ্কার জানান
·
চমৎকার আচরণ ও গুণাবলী
সম্পর্কে তাকে অবহিত করুন
·
তাকে বিচার করতে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন
মগজধোলাই থেকে নিজেকে মুক্ত করতে কিছু পদ্ধতি
অবলম্বন করুন
Dr. Michelle Toomey এই জাগরণকে ভাবনা ও
আবেগের সমন্বয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যখন আমি আমার নিজের জাগরনের সময়ের কথা ভাবি,
আমার মনে পড়ে সেই অনুভুতির কথা যে কত বছর পরে এই আমি প্রথম ঠিকমত ভাবতে পারছি। যখন
আমার চিন্তা ও আবেগ একাকার হয়ে বছরের পর বছর চলে আসা উৎকন্ঠা উদ্বেগের বোঝা হালকা করছিলো, আমার ভেতরের
আমি’র উৎফুল্ল চিৎকার আমি শুনতে
পাচ্ছিলাম। অবশেষে আমি যখন নিজের ভাঞা টুকরোগুলো জোড়া দিলাম, অসম্ভব উদ্বিপ্ত, উত্তেজিত ছিলাম। বিন্তু
তারপরে, আমার নির্যাতনকারীর ভয়ঙ্কর স্বরূপ আমার সামনে উন্মোচিত হলো, আমি সাংঘাতিক
ভীত হয়ে পড়লাম। সে যে “সবজান্তা ও সর্বশক্তিমান” এই ভাবনাটা (যা মগজ ধোলাই এর সময়
আমার মতধ্যে প্রেথিত করা হয়েছিলো) আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিলো। আমার একটাই ভাবনা
ছিলো, কি করে এই পাকচক্র থেকে আমার মুক্তি ঘটবে ? এই পরিস্থিতি যখন আসবে আসবে
আপনার সামনে নিচের পদ্ধতি অবলম্বন করুনঃ
১) নিজের একাকীত্ব ভেঙে বেরিয়ে আসুনঃ
নিজের ভিতরের এই ভয় থেকে বেরিয়ে আসার দ্রুততম উপায় হচ্ছে,
সাইকোলজিস্ট, সোশাল নেটওয়ার্ক, অনলাইন ফোরাম, ক্লাব বন্ধুমহল বা এমনকি নিজের
পরিবারের মধ্যে নিজেকে উন্মুক্ত করুন। সবথেকে ভালো হয়, যদি আপনি নিজের উপরে চলতে
থাকা নির্যাতন এর ব্যাপারটা প্রকাশ করতে পারেন। আমি জানি, আচমকা কারো কাছে গিয়ে
প্রথমেই ”এই জানো, আমার পার্টনার না আমাকে রোজ নির্যাতন করে” এভাবে শুরু করাটা
সম্ভব না। তবে, আপনি যে কোন কিছু নিয়ে কথা বা আড্ডা শুরু করে নিজের এবং নিজের
ভাবনার উপরে কনফিডেন্স জড়ো করতে পারেন। কিন্তু দয়া করে, আপনার থেরাপিস্ট বা যার
উপরে আপনার আস্থা আছে বা যারা আপনাকে সাহায্য করোতে পারে, তাদেরকে জানানো থেকে
বেশিদিন বিরত থাকবেন না।

যদি প্রকাশ না করেন, এই যন্ত্রনা নিজের মধ্যে আটকে রাখতে
রাখতে আপনি ক্রমাগত খারাপ থেকে আরো খারাপ অনুভব করতে থাকবেন। এমনি এমনকি নিজেকে এও
বুঝিয়ে ফেলতে পারেন , যে আপনার পার্টনার আপনাকে নির্যাতন করছে এটা আসলে কাউকে বলার
প্রয়োজন নেই, কারণ আপনি এই নানা বিষয়ের আড্ডা নিয়েই তো আগের চাইতে বেশ ভালো আছেন।
যদি আপনি পিছিয়ে যেতে যাকেন, নিজেকে মনে করিয়ে দিন, এই নিজের প্রতি বা সাহায্য
নেয়ার প্রতি যেই দ্বিধা, তার কারণ ঐ মগজধোলাই। মগজধোলাই করতে আরোপ করোতে হয়
একাকীত্ব, যেমন নির্যাতন করোতে চাই নিরবতা। নিজেকে একাকীত্ব থেকে বের করলেই
মগজধোলাই আপনাআপনি থেমে যাবে না। আপনাকে আপনার আশেপাশে সেই সকল লোকেদের জড়ো করতে
হবে, যারা জানে আপনি নির্যাতিত হচ্ছেন। আপনার ধোলাই হয়ে পরাবাস্তবতায় পৌঁছে যাওয়া মননে যৌক্তিকতার
কষ্ঠস্বর হয়ে থাকবে তারা। আপনি যদি অনকে না জানান আপনি প্রতিনিয়ত কিসের সম্মুখীন
হচ্ছেন, আপনি আসলে কিছুতেই জাল কেটে বেরোতে পারবেন না।
যদি মনে করেন আপনি আসলে বুঝতে পারছেন না কিভাবে নিজের
সাপোর্ট নেটওয়ার্কে নিজের হাল জানাবেন, প্রকাশের ধরণটা প্র্যাকটিস করে নিতে পারেন।
এনোনিমাসলি অনলআইন ফোরামে বিভিন্নভাবে
হিসেবে লিখতে পারেন। Verbal Abuse Journals১ বা এমন আরো কিছউ ওয়েবসাইট আছে , যেখানে আপনার পুরো গল্পটা লিখে জানাতে
পারেন। এবং সবসময়ের জন্যে কাউকে কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করুন, যে আপনাকে সাপোর্ট ,
উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যুগিয়ে যাবে।
২) সকল প্রকার
নির্যাতন সম্পর্কে জানুন, নিজেকে শেখানঃ
ঘরোয়া নির্যাতন সম্পর্কিত জ্ঞান, আপনাকে অবমাননা ও
মর্যাদাহানী করার সকল প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আপনার শক্তি হয়ে দাঁড়াতে পারে। আপনি যখন
জানতে পারবেন , নির্যাতনকারী আপনাকে আঘাত করছে আপনার উপরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে।
আপনার দোষ আছে বলে নয়, শুধুই বিধ্বস্ত করার জন্যে, তখন আসলে আর আপয়ান্র প্রতি ধেয়ে
আসা তার কথা বা কাজে নিজের খারাপ লাগাটা এত বাড়বে না।

ঘরোয়া সহিংসতা ও নির্যাতন সম্পর্কে যত বেশি সম্ভব জানুন এবং
শিখুন। নির্যাতন২ মোটামুটি এই
কয় প্রকারের হয়
Ø মৌখিক নির্যাতন
ঃ অনেক রকমভাবেই এই নির্যাতন করা হয়। কথার সাথে সাথে বডি ল্যাংগুয়েজ এরও ভূমিকা থাকে। ধরুন ধমকানো,
মারতে যাওয়া, অমমান করা, অপদস্ত করা , গলা টিপে ধরতে যাওয়া, ইত্যাদি
Ø আর্থিক
নির্যাতনঃ দাম্পত্য তহবিলে যোগান দিতে পারলে এবং অধিকার থাকলেও, আপনি এই নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। হয়তো,
আপনাকে প্রতিনিয়ত নিজের টাকার গরম দেখাচ্ছেন বলে খোঁযা দেয়া হবে। আপনার খরচের পাই
টু পাই হিসাব চাওয়া হবে। কোন কাজে এক পয়সা দিতে চাইবে না, উলটো বিভিন্ন আর্থিক দায়
আপনার উপরেই চাপাবে
Ø মানসিক নির্যাতনঃ মগজ ধোলাই
থেকে নিয়ে অযথা দোষারোপ এবং আপনার প্রতি না বলা কথাকেও নিজের মনে তৈরি করে আপনাকে
অভিযুক্ত করা, এসকলই আপনার প্রতি মানসিক অত্যাচার ।
Ø সামাজিক
নির্যাতনঃ নির্যাতনকারী আপনাকে লোকের মধ্যে অপদস্ত করবে, পরিস্থিতি
সৃষ্টি করে আপনাকে অবমাননা করার চেষ্টা করবে। আপনার সন্তান বা পরিবারের লোকেদের
সামনে আপনাক নিচে নামাবে। আপনাকে সবার থেকে সরে থাকতে বাধ্য করবে। এবং পাবলিক
প্লেসে এমন আচরণ করবে যেন আপনি লজ্জায় মিশে যান
Ø যৌন নির্যাতনঃ আপনার
পার্টনারই আপনাকে যৌন নির্যাতন বা ধর্ষন করতে পারে। আপনার ইচ্ছা অনিচ্ছার প্রতি
কোন গুরুত্ব না দিয়ে আপনাকে যৌন সামগ্রী হিসেবে দেখতে পারে। আপনার অনিচ্ছার উপরে
জোর পূর্বক নিজের যৌন আচরণ চাপিয়ে দিতে পারে। সার্বক্ষনিক যৌন প্রতারনার অভিযোগ
জারি রাখতে পারে।
Ø শারিরীক
নির্যাতনঃ শারিরীক নির্যাতন তখন আসে, যখন আপনি তার কঠা শুনবেন না,
নির্দেশ মানবেন না, নিষেধ মানবেন না, নিজের মতকে প্রাধাণ্য দেবেন। আপনাকে
চড়-ঘুষি-লাথি মাথা হতে পারে, চুল ধরে টানা হেঁচড়া করা হতে পারে , জোর খোঁচা মারা
হতে পাড়ে, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হতে পাঁড়ে, বেদম পেটানো হতে পারে। হতে পাড়ে আরো
অনেক কিছুই।
আপনি যখন এগুলো সম্পর্কে জানবেন, আপনি বুঝতে পারবেন, কি
ধরণে আচরণ বা নির্যাতন আপনার সাথে করা হচ্ছে। আপনার ধোলাই হওয়া ভাবনায় আসতে থাকে
“এই তো স্বাভাবিক” বা “আসলেই আমার দোষ” জাতিয় ভবাবনার সাথে যুঝতে আপনাকে সাহায্য
করবে এই শিক্ষা।
একটা প্রশ্ন প্রায় সবার মনেই আসে, “আমাকে ও এত অত্যাচার কেন
করছে?” এসব নিয়ে ভেবে বেশি সময় নষ্ট করবেন না। আপনার স্বাভাবিক সহমর্মিতাবোধ হয়ত
আপনাকে ভাবাবে, যে আপনার অত্যাচারি পার্টনারের প্রতি সহানুভুতিও দেখানো উচিৎ। বা ভাবতে
পারেন, ভালোবাসা দিয়েই হয়তো তার মানসিক সুস্থতা এনে দেবেন। একদমই এসব ভাববেন না,
এসব একদম ভুল। ক্রমাগত মগজধোলাই ও নিত্ররযাতন আপনার মধ্যে ভালোবাসার বোধ এবং অর্থ
সম্পূর্ণ বিকৃত করে ফেলেছে। এই মুহূর্তে
“ভালোবাসা” ব্যাপারটার উপরেই আস্থা রাখা উচিৎ হবে না , বিশেষ করে আপনার নির্যাতনকারী পার্টনারের প্রতি তো বটেই। কেননা আপনার ধোলাই হওয়া ভাবনা
আপনার ভালোবাসার উপলব্ধিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
৩) আপনার উদ্বেগ ও কষ্টকর ভাবনাগুলোকে স্বীকার করুন ও মেনে
নিনঃ
যেই সময়টাতে আপনি মগজধোলাই থেকে মুক্ত হচ্ছেন, নিজের মনকে
পুনরায় জোড়া লাগাচ্ছেন এবং নির্যাতনকারীর প্রভাব ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন, নানারকমের
আপ্রীতিকর আবেগ বা অনুভুতি মনে আসতে পারে।
কিছু কিছু প্রেথিত ভাবনা হয়তো ভুল প্রমাণীত হবে, যেমন “আসলে সে আমাকে আঘাত করতে
চায় না” বা “ভিতরের মানুষোটা কিন্তু আসলে ভালো”। সত্যি স্বীকার করা আসলেই কঠিন।
বিশেষত নির্যাতিত হতে হতে ট্রমা’র মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরে আরো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

সাধারণত ঘরোয়া নির্যাতনের ফলে নিচের তিন ধরণের ট্রমা
পরবর্তী স্ট্রেস ডিজওর্ডার (Posttraumatic Stress Disorder/PTSD)৩ দেখা যায়ঃ
Ø
এড়িয়ে চলা ও অবসাদ্গ্রস্ততা
·
কিছু মনে রাখতে সমস্যা হওয়া
·
মনযোগ দেয়াটা অসম্ভব হয়ে পড়া
·
ভালো লাগার কাজগুলো থেকে মন উঠে যাওয়া
·
যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতিগুলো নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়া
·
কাছের সম্পর্কগুলো মেইনটেইন করতে মুশকিল হওয়া
·
এবং মনের দিক থেকে সম্পূর্ণ অনুভুতিহীন হয়ে যাওয়া
Ø অতিরিক্ত উদ্বেগ ও অতি
উত্তেজনা
·
সবসময় আতঙ্কে কুঁকড়ে থাকা ও চমকে যাওয়া
·
হাত পা কাটা, নেশা বা অতি ভোজনের মত আত্মবিধ্বংসী আচরণ
·
হ্যালুসিনেশন
·
নিজের প্রতি দূর্বার অপরাধবোধ/ লজ্জা অনুভব করা
·
ঘুমে সমস্যা হওয়া
Ø অযাচিত স্মৃতিকাতরতা
এগুলো হচ্ছে সেই সমস্ত স্মৃতি যা আপনাকে সম্পূর্ণভাবে আচ্ছন্ন করে ফেফেলে। আপনি নিজের মনে এগুলো বারয়াবার নাড়াচাড়া বন্ধই করোতে পারেন না। আচমকা চিন্তার জগতে ফ্ল্যাশব্যাক এনে বর্তমান এবং সেই সময় গুলিয়ে ফেলেন অনেকসময়। ঘুমের মধ্যেও বারবার হানা দিতে থাকে সেই ঘটনাগুলোর ভুত
এগুলো হচ্ছে সেই সমস্ত স্মৃতি যা আপনাকে সম্পূর্ণভাবে আচ্ছন্ন করে ফেফেলে। আপনি নিজের মনে এগুলো বারয়াবার নাড়াচাড়া বন্ধই করোতে পারেন না। আচমকা চিন্তার জগতে ফ্ল্যাশব্যাক এনে বর্তমান এবং সেই সময় গুলিয়ে ফেলেন অনেকসময়। ঘুমের মধ্যেও বারবার হানা দিতে থাকে সেই ঘটনাগুলোর ভুত
যেই না আপনি নিজের কাছে স্বীকার করবেন তার মিষ্টি স্বভাবের মুখোশের আড়ালে সে
আসলে আপনাকে আহত করতে চায়, একদা ভালোবাসার মানুষোটার প্রতি তীব্র যন্ত্রনাদায়ক
ভীতি অনুভব করবেন। এপর্যাওন্ত যদি আপনি কোন সাইকো থেরাপিস্ট এর কাছে না গিয়ে
থাকেন, দয়া করে এবারে যান। ভয় সম্ভবত আমাদের সবতঝেকে সঙ্গত ও অসঙ্গত অনুভুতিগুলোর
একটা। উচ্চতাভীতি বা শুঁয়োপোকা দেখে আতঙ্ক বা এজাতীয় আতঙ্কগুলোর মতই সমান তীব্রতা
ও বাস্তবিকতা নিয়ে হাজির হতে পারে এই ভীতি। কিভাবে একই সাথে সঙ্গত ও অসঙ্গত
অনুভুতি আসতে পারে দেখুন – যখন নির্যাতনকারী মুখে খুন করবে বলে আপনার দিকে তেড়ে
আসে, আপনাকে কি খুন করে ফেলতে পারে? এটা খুবই সঙ্গত আচরণ যে, সে করতেই পারে ভেবে
আপনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাববেন। কিন্তু যদি আপনি ভাবেন, আপনাকে খুন করতে পারে
তাই আপনি তাকে কিভাবে আগেই আঘাত করবেন, এটা অসঙ্গত ভাবনা। একজন ভালো থেরাপিস্ট
আপনার মনে খুঁটি গাঁড়া এই ভীতি সরানোর ব্যাপারে সর্বোত সাহায্য করতে পারবেন।
স্ট্রেস থেকে মুক্তি পাওয়ার সর্বকালের অন্যতম সেরা উপায় হচ্ছে নির্যাতনকারীকে ছেড়ে চলে যাওয়া। সারাক্ষণ ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলতে থাকা ঐ অসহ্য মানুষটার উপস্থিতি না থাকলে অনেক বেশি শান্তি পাবেন। হ্যাঁ মানছি, চাইলেই ছেড়ে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয় না, বা অনেকে বেরিয়ে আসতেও চান না। তাই বলা চলে , স্ট্রেস থেকে মুক্ত হতে পারার পদ্ধতিগুলো প্রায় মানবজাতির মতই অসংখ্য। প্রাণায়াম অভ্যাস করোতে পারেন, সঠিক চিকিৎসা সেবা, সুষম খাবার, আত্মনিয়ন্ত্রণ , হাঁটাহাঁটি করা, ভালো গান/সিনেমা/বই, এমনকি প্রেমও আপনাকে স্ট্রেসমুক্ত রাখতে সাহায্য করোতে পারে।
এই গোটা নিবন্ধটাতে আপনার উপরে নির্যাতন , তার ফল এবং মগজধলাই থেকে মুক্ত হয়ে সুস্থ জীবন যাপনের ব্যাপারে যথাসম্ভব তথ্য প্রদানের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে , এখানেই গল্পের শেষ নয়। মগজধোলাই থেকে সম্পূর্ণ নিরাময়ের আরো পথ আছে। আশা করি সামনে আরো নতুন নতুন দিক খুলে যাবে।
সংযুক্তি ঃ