যে
কোন মানুষ, নারী বা পুরুষ অপর একজন নারী বা পুরুষের নির্যাতনকারী হতে পারে। যে কোন
ধরণের নিকট সম্পর্ক, বিয়ে বা
বিসমকামী/সমকামি প্রেম, দেখাশোনাকারী-বৃদ্ধ সম্পর্ক, মাতাপিতা-সন্তান
সম্পর্ক বা আপনার ভাবনায় আসতে পারে এমন যে কোন কিছুই অবমাননাকর হয়ে উঠতে পারে। এবং
এই নির্যাতনের মধ্যে সবথেকে মারাত্মক হচ্ছে মগজধোলাই (Brainwashing)
মগজধোলাই
কি?
আপনার ভাবনা ও
চিন্তাজগতের উপরে অবমাননা ও নির্যাতনের যেই প্রভাবগুলো আপনার উপরে পড়ে সেগুলোকে এক
কথায় বলা যায় “মগজ
ধোলাই”। একমুহূর্তের জন্যেও ভাববেন না নির্যাতনকারী
আপনার মগজকে ধোলাই করার জন্যে যথেষ্ট চৌকষ নয়। কাউকে ব্রেইনোয়াশ করতে পারার ক্ষমতার
সাথে চৌকষ হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই
·
অনেক নির্যাতনকারীই অতীতে নিজে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, এবং
নিজের নির্যাতনকারীর থেকে স্বাবভাবিকভাবেই আত্মস্থ করেছে
·
অনেক নির্যাতনকারী আছে যাদের কোন মানবতা বা বিবেকবোধ নেই
(সাইকোপ্যাথ বা সোশিওপ্যাথ) এবং খুব অল্প বয়স থেকেই পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে অন্যদের
নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করতে শেখে
·
এছাড়াও অনেকে আছে, যারা মিলিটারি স্কুলে শত্রুকে ব্রেইনওয়াশ
করতে শেখে, এবং ব্যক্তি সম্পর্কের মধ্যে এগুলোকে অপব্যবহার করে
·
এমনকি অনলাইনে পড়াশুনা করেও অনেকে শিখতে পারে
বলা হয়ে থাকে,
এমনকি নিয়ান্ডারথালরাও অন্যের মগজকে ধোলাই করতে শিখতে সক্ষম। আপাতঃভাবে আপনি হয়তো ব্রেইনওয়াশের কাছে
নতি স্বীকার করার মত বোকা নন। ব্রেইনওয়াশিং টার্মটা তুলনামূলক নতুন হলেও, এর
চর্চার ইতিহাস প্রায় পৃথিবীর মতই প্রাচীন। মানবজাতি বরাবরই জানে, কিভাবে কাউকে
আঘাত করতে হয় এবং কিভাবে সেই ক্ষত সারানো যায়। একজন নির্যাতনকারীর শিকার বাছাই
করার পিছে মানবতার উপকারের প্রতি সেই
মানুষটির স্বাভাবিক ঝোঁক এর বেশ খানিকটা ভূম্মিকা আছে। অন্যের দুঃখ দুর্দশার প্রতি
আপনার যেই সহানুভুতি , সহমর্মিতা ও সচেতনতা আপনার ভিতরেকে পোড়ায়, সেই অনুভুতিকেই
সচরাচর টার্গেট করা হয়ে থাকে।
কিভাবে নির্যাতনকারী আপনার মগজকে ধোলাই করে
একবার
নির্যাতনকারী আপনার সহমর্মিতা (ও মনযোগ) আদায় করতে পারলে “মনস্তাত্বিক নিয়ন্তণ
পদ্ধতি” (Psychological
Coercion Techniques)* অবলম্বন
করে। Albert Biderman নামে এক সমাজতাত্বিক ১৯৫৭ সালে এই পদ্ধতির রূপরেখা প্রণয়ন করেছিলেন। এমনেস্টি
ইন্টারন্যাশনাল তাদের “রিপোর্ট অফ টর্চার”এ একে গ্রহণ করেছে । এই নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
নিম্নরুপঃ
১) বিচ্ছিন্নকরণ
নির্যাতনকারী তার শিকারকে নিজের পরিবার ও বন্ধুদের থেকে
বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। যদি
নির্যাতনকারী আপনাকে বিচ্ছিন্ন করতে না পারে, তাহলে এই সম্পর্কের মেয়াদ দীর্ঘায়িত
হবার সম্বভাবনা খুবই কম। কারণ আপনার পরিবার ও বন্ধুরা আপনাকেই সমর্থন দিয়ে যাবে
এবং আপনার এই নতুন ভালোবাসার মানুষটির যেসমস্ত ব্যাপারগুলো তারা অপছন্দ করে, তা
আপনাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাবে। আপনার নির্যাতনকারী আপনাকে যা বিশ্বাস করাতে চায়,
এই সাপোর্ট নেটওয়ার্ক তার বিরুদ্ধে
বাস্তবতা নির্ধারক হিসেবে কাজ করে।
ধর্মান্ধ বা এজাতীয় গোষ্ঠী যারা মানুষকে নিয়ন্তণের জন্যে
মগজধোলাই করে থাকে, তাদের অনেক সদস্য থাকে যারা ইতিমধ্যেই গোষ্ঠীগুলোর ধুম্রজালে
আবদ্ধ। তাদের সঙ্গে চলার আকাঙ্খা থেকেই তারা অন্যদের করায়ত্ব করতে নেতাদেরকে
সহযোগীতা করে। আপনার নির্যাতনকারী ওয়ান-ম্যান-ব্যান্ড (বা ওয়ান-ওম্যান-বান্ড)
হওয়ায়, আপনাকে আলাদা করতে তাকে গোষ্ঠীনেতাদের চাইতে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
নিম্নলিখিত উপায়ে আপনার এবং আপনার পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করা
হবেঃ
·
আপনার বন্ধুদের দোষ খুঁজে বের
করা এবং প্রকারান্তরে বোঝানো যে আপনি আসলে তাদের মত হতে চান না
·
নিজের বন্ধুমহলে আপনাকে পরিচয়
করিয়ে দেয়া এবং জোর দিয়ে বোঝানো যে তার বন্ধুরা আপনার বন্ধুদের চাইতে উন্নততর।
শুধুমাত্র তার বন্ধুদের আয়োজিত সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জোরাজুরি করা
·
ঈর্ষান্বিত আচরণ প্রদর্শন করা
এবং প্রকারান্তরে বোঝানো, আপনার বন্ধু বা যে কারো প্রতি আপনার যৌনকামনা আছে
·
আপনার পিছে কথা বলা, এবং আপনার
বন্ধুদের মনকে আপনার প্রতি বিষিয়ে তোলা (বিশেষ করে আপনার বন্ধু যদি হিংসুটে,
অল্পবয়সী বা সদ্যপরিচিত হয়)
·
এমন মহান নারি বা পুরুষ হিসেবে
নিজেকে প্রদর্শন করা, যে আপনার সরলবিশ্বাসী বন্ধু ভাবতেই পারবে না এই নির্যাতনকারী
আসলে কতটা জঘন্য ও পৈশাচিক চরিত্র
·
আপনাকে নিজের আদর্শ জীবনসঙ্গী
বলে চলে এবং এমন এক কাল্পনিক জগত তৈরি করে, যেখানে আপনারা দুজন ছাড়া কারো অস্তিত্ব
নেই
·
আপনাক যারা ভালোবাসে তাদের
ছেড়ে অনেক দূরে, নিজের পছন্দমত স্থানে চলে যেতে উদ্বুদ্ধ করে
আপনার অনাগত সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রে, বন্ধুদের সাথে সংযোগ এর
ব্যাপারে সদা সচেতন থাকুন। যদি কখনো আপনার মনে হয় সাপোর্ট সিসয়টেম থেকে দূরে সরে
সাচ্ছেন, সাথে সাথে পুনঃ সংযোজিত হোন।
২) অনুভব কুক্ষিগতকরণ
“অনুভব
কুক্ষিগতকরণ” এর মত চটকদার টার্ম ব্যবহার করে বাইডারম্যান আসলে নিচের চারটা জিনিস
বুঝিয়েছেনঃ
·
নির্যাতনকারী আপনার মনযোগকে সম্পূর্ণ নিজের প্রতি
টেনে রাখবে (হতে পারে এমন ভালোবাসা দেখাবে যে আপনি কিছুতেই ছেড়ে থাকতে পারবেন না,
সম্পর্কের মধ্যে নাটকীয়তা আসতে পারে, ঈর্ষা দেখাতে পারে, অসংলগ্ন আচরণ করতে পারে,
কথায় কথায় কান্নায় ভেঙে পড়তে বা রাগে ফেটে পড়তে পারে এবং আপনি অবশ্যই কারণটা
জানবেন এমন প্রত্যাশার প্রদর্শন করতে পারে, ইত্যাদি)
·
নির্যাতনকারী এমন সমস্ত কথা বলবে, যে আপনি পুরোপুরি
অন্তর্মুখী হয়ে নিজের ভিতরের সমস্যাগুলো দূর করতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন (সমস্যার
অস্তিত্ব আসলেই থাকুক বা না থাকুক)
·
আপনার যেসমস্তব্যাপার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম নয়,
সেগুলো থেকে আপনাকে সরিয়ে দেয়া্র চেষ্টা করবে (চাইবে না আপনি বিশেষ কোন টেলিভিশন
শো দেখেন, বা আপনার নিজস্ব পরিমন্ডল বা গ্রুপ নিয়ে বাজে কথা বলবে, কোথা থেকে আপনার
জামাকাপড় কিনবেন সেটা ডিক্টেট করবে বা আপনাকে নিয়ে যেতে চাইবে – বুঝতেই পারছেন
পুরোটা)
·
নির্যাতনকারী আপনাকে যা করতে মানা করবে, তা করাটা
আপনার জন্যে অসম্ভব করে তুলবে। (আপনি বন্ধুদের সাথে থাকলে সার্বক্ষণিক কল বা
টেক্সট, আচমকা হাজির হয়ে যাওয়া, অস্বস্তিকর অবস্থা সৃষ্টি করা,...এককথায় আপনাকে
বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করবে কিন্তু এমনভাবে যেন মনে হয় এই বশ্যতা আপনার
স্বেচ্ছাকৃত)
৩)
দুর্বলতা ও অবসাদ’এর প্রণোদনা দেয়া
নির্যাতনকারীর
নিয়ন্ত্রণকে প্রতিহত করার আপনার যে সহজাত ক্ষমতা আছে, সেটাকে নিম্নরূপে দুর্বল করে
ফেলা হবেঃ
·
আপনার বিশেষ বিশেষ অনুভুতিকে অগ্রহণযোগ্য বলা, বা
বিশেষ বিশেষ অনুভুতি প্রকাশ করলে আপনাকে নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করা (যেমন, আপনার কোন
অধিকারই নেই রাগ করার বা ভয় পাওয়ার বা কাঁদার বা সার্কাজম বাদে অন্যকিছুতে মজা
পাওয়ার। সার্কাজম আসলে কৌতুকের মাধমে অবমাননাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা)
·
তার সাথে একমত না হলে বা তার কথামত না চললে আপনাকে
অপরাধবোধে ভোগানোর উপায় খুঁজে বের করা
·
জোর দিয়ে আপনাকে নিচুশ্রেণীর বলা এবং নিজেকে শুধরে
নিতে জোরাজুরি করা
·
নিজের বস এর স্বামী বা স্ত্রীর সাথে বন্ধুত্ব করতে এবং
তার নিজের ক্যারিয়ারে উন্নতি হয় এধরণের সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জোর দাবী রাখা
·
একটা সম্পর্কে যেসমস্ত দায়িত্ব থাকা উচিৎ তার থেকে
অতিরিক্ত এবং অসংগতিপূর্ণ দায় আপনার জীবনে চাপিয়ে দেয়া
·
এবং আপনার সময় ও স্বভাবের উপরে চাপানো এত ভারী বোঝা
স্বত্বেও আপনাকে খুশি ও সন্তুষ্টি দেখাতে
বাধ্য করতে যে কোন কিছু করা
৪)
হুমকি
নির্যাতনকারী
আপনাকে হুমকি দেবে যদি আপনি অমুক অমুক (নিজে শুন্যস্থান পুরন করে নিন) না করেন
তাহলে সে আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে (বা তার চাইতেও অনেক বেশি খারাপ কিছু করবে)।
নির্যাতনকারীর হুমকিগুলো আপনার কাছে পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে
৫)
কদাচিৎ প্রশ্রয়
নির্যাতনকারী
কখনো কখনো আপনার প্রতি খুব ভালো আচরণ করবে বা “ভাল” হয়ে থাকার জন্যে সাময়িক
স্বাধীনতা দেবে। নির্যাতন চক্রের মধ্যে এই প্রশ্রয়ের সময়টাকে হানিমুন পিরিয়ড বলা
হয়, যার পরপরই আসে সুতীব্র আনুভুতিক , মৌখিক বা শারীরিক নির্যাতন পর্ব। এই কদাচিৎ
প্রশ্রয় তখনই মেলে যখন নির্যাতনকারীর মনে হয় সে আপনাকে খাদের কিনারে নিয়ে যাচ্ছে
এবং আপনি আর হয়তো তার এসমস্ত আচরণ নিতে পারছেন না।
আপনার
ইচ্ছার প্রতি নির্যাতনকারীর এই সাময়িক প্রশ্রয় আসলে আপনাকে তার হাতের মুঠোয় রাখতে
সাহায্য করে। এমনিকি হাজার ইচ্ছাকে গলা টিপে মারার পরেও সামান্য একটা ইচ্ছাপুরণ
হলেই আপনি নির্যাতনকারীকে বশ্যতা মেনে তার চাহিদামত চলতে চাইবেন, বা ভাববেন এতে
হয়তো আপনার আরো কিছু ইচ্ছাপুরণ হবে। আপনি এমনকি এই ভ্রান্তিতেও চলে আসতে পারেন, যে
নির্যাতনকারী হয়তো ভালো হয়ে যাচ্ছে বা পাল্টাচ্ছে
উল্টোভাবে
ভেবে দেখুন, একটা বাচ্চার বায়নাক্কা এবং
মেজাজের কথা চিন্তা করুন । টানা তিন দিন যাবত আপনি তার বায়নাক্কা উপেক্ষা করে
গেলেন এবং সে যা চাইছে তা দিলেন না। এবারে , চতুর্থ দিনে আপনি আর সহ্য করতে পারলেন
না এবং তাকে তার পছন্দের চকোলেট কিনে দিলেন। পঞ্চম দিনে সেই বাচ্চা কি করবে বলে
আপনার মনে হয়? হাজার খারাপ কিছুর পরে একটা ভালো কিছুই আপনাকে দিয়ে নির্যাতনকারীর
সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করানোর জন্যে যথেষ্ট – বিশেষ করে যখন আপনার সাপোর্ট
নেটওয়ার্ক নেই, নির্যাতনকারীই আপনার ভাবনা জগতের একমাত্র কেন্দ্র এবং তার চাহিদা
পুরণ করতে করতে আপনি শারীরিক ও মানসিকভাবে নিঃশেষিত
৬)
“সর্বশক্তিমত্তা” প্রদর্শন
অধিকাংশ
নির্যাতনকারীর সম্পর্ক চলাকালীন সময় আপনাকে অনুসরণ করবে, নিজের বন্ধুদের ব্যবহার
করে বা দৈবচক্রে জানা কোন ঘটনার সুযোগ
নিয়ে প্রমাণ করবে, সে অনুপস্থিত থাকাকালীন আপনার সমস্ত কার্যকলাপ সে আসলে জানতে
পারে। হয়তো সে সামরিক বাহিনীতে আছে বা
কম্পিউটার নিয়ে কাজ করে এবং আপনাকে উপলব্ধি করাবে
সে সবসময় জানতে পারে, আপনি কোথায় আছেন (কিন্তু আসলে হয়তো সে আপনার গড়িতে বা
ব্যাগ এ জিপিএস লোকেটর সেট করে রেখেছে)। আপনার নির্যাতনকারী ধারনা দেবে সে সবসময়ই
আপনার আশেপাশে আছে এবং কোন সামান্য সময়ের জন্যেও আপনি একা নন।
এছাড়াও,
নির্যাতনকারী নিজের সর্বশক্তিমত্তা প্রকাশের জন্যে নিজেই জাজ, জুরি ও প্রসিকিউটর
এর রোল প্লে করবে। সে বলবে আপনি কি করেছেন, কেন করেছেন এবং আপনার অপরাধের জন্যে কি
শাস্তি দেয়া উচিৎ। আপনার বলা কোন কথাই তার দেয়া শারিরিক বা বাক্যিক শাস্তির
নৃশংশতা থামাতে পারবে না, এবং যতক্ষণে নির্যাতনকারী তার মারধোর বা অত্যাচার
থামাবে, ততক্ষণে আপনারই মনে হবে আসলেই হয়তো শাস্তিটা আপনার প্রাপ্য ছিলো।
৭)
তুচ্ছ দাবীগুলো আদায় এ জোর করা
জনৈক
নারীকে তার স্বামী বলেছিলো, তার জানা উচিৎ একতা বাথটাব পরিষ্কার করতে ঠিক কতটা খরচ
হয়। তার দাবী ছিলো ক্লিনিং প্রোডাক্ট এর দাম, তার স্ত্রী কতটা ব্যবহার করেছে, এবং
কতক্ষণ সময় লেগেছে বাথটাব পরিষ্কার করতে, তার পুংখানুপুঙ্খ হিসাব দিতে হবে। সে জোর
দিয়ে বলেছিলো, তার স্ত্রীর সময়ের দাম আসলে সর্বনিম্ন মজুরির সমান এবং দাবীটা ছিলো
তাকে জানাতে হবে, প্রতি সপ্তায় বাথটাব পরিষ্কারে তার ঠিক কত টাকা খসছে। আপনার
নির্যাতনকারী ঠিক এভাবেই আপনার সময় , ভাবনাজগত এবং মানসিক শক্তির উপরে চাপ প্রয়োগ
করবে , যে কথা না শুনলে কি আপনার উপরে কি আসতে যাচ্ছে, তা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে
থাকবেন।
এই
দাবিটা এমনকিছু নিয়ে হতে পারে , যা আপনাকে একসময় আনন্দ দিতো , যেমন বাগান করা বা
ছবি আঁকা। তো যাই হোক, আপনার নির্যাতনকারীর এই বিকৃত দাবী যে আপনাকে ঠিক এভাবেই
করতে হবে, বা অমুক সময় করতে হবে বা এই পরিস্থিতে করতে হবে , এসব শুনে আস্তে আস্তে
আপনি আপনার সেই শখের ( বা চাকরির) প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন
৮)
সম্মানহানী
নির্যাতনকারী
আপনার সবথেকে বেশি ক্ষতি তখন করবে, যখন আপনি তার নির্দেশ প্রত্যাক্ষান করবেন এবং
নিজের ভাবনাকে প্রাধাণ্য দেবেন। যতবার আপনি প্রচন্ড রেগে যাবেন এবং নির্যাতনকারীকে
আপনার ক্রোধ সামলাতে হবে, ততবারই আপনাকে স্বাভাবিকের চাইতেও ভয়াবহ শাস্তি পেতে হবে। আপনার মনে হতে থাকবে,
প্রত্যাখান না করে বশ্যতা স্বীকার করাতেই হয়তো খানিকটা হলেও আত্মসম্মান বজায়
থাকতো।
আপনাকে
নিচে নামানোর জন্যে নির্যাতনকারী যাচ্ছেতাই বলতে পারে, শারীরীক ও যৌন নির্যাতন বা
ধর্ষন করতে পারে, এবং নিজের বন্ধুবান্ধব
বা আপনার সহকর্মীদের সামনে যখন তখন আপনাকে অবমাননা করতে পারে। এই অবমাননা আপনার
আত্মসম্মান বা মূল্যবোধকে কমোডে লেগে থাকা নোংরার চাইতেও নিচে নামিয়ে দিতে পারে। নিজের
কাছেই নিজেকে তুচ্ছ মনে হবে। নির্যাতনকারীর নির্দেশমাফিক যে কোন কিছু তার
ইচ্ছানুযায়ি করে নিজের মূল্য প্রমাণ করতে আপনি উঠেপড়ে লাগবেন, কেননা ততদিনে আপনার
পৃথিবীতে আপনি আর নির্যাতনকারী ব্যতীত আসলে আর কেউ নেই।
যেই
সুস্থ্য ভাবনা ও মধুর সম্পর্ক নিয়ে আপনার মনে সুখের স্বপ্ন ছিলো, তা আপনার মাথা
থেকে ধুয়ে মুছে নিঃশেষিত হয়ে যাবে।
এই
লেখাটা লিখতে গিয়েই নিজেকে নিঃশেষিত মনে হচ্ছে, কারন আমার মনে পড়ে যাচ্ছে ঠিক
এভাবেই আমার এক্স আমাকে ব্রেইনওয়াশ করতো। আমার এবং আমার মত লক্ষ লক্ষ মানুষ আছে
যারা ব্রেইনওয়াশের হাত থেকে বেঁচে ফিরতে পেরেছে। আপনি এই নির্যাতন এবং ব্রেইনওয়াশ
এর পরবর্তি প্রভাব থেকে খুব কম সময়েই মুক্ত হতে পারেন, এমনকি যতটা সময় নিয়ে আপনাকে
আপনার নির্যাতনকারী নিজের কন্ট্রলে এনেছিলো, তার চাইতেও কম সময় লাগতে পারে। কিন্তু
কিভাবে, তা জানবেন পরের পর্বে
(চলবে)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন