সোমবার, ৩০ মে, ২০১৬

ইসলামের উত্থানে রোমান ক্যাথলিকদের ভুমিকা - একটি কপটিক গল্প

এক বিষয় নিয়ে তথ্য খুঁজতে গিয়ে আকষ্মিকভাবে মাঝেমধ্যে অদ্ভুত  অদ্ভুত এক একটা বিষয় নজরে আসে।  তেমনি, সেদিন নজরে এলো, একটা Web Text Repository. কপ্টিক খ্রিস্টানদের সাথে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের বা আরেকটু বিস্তারিতভাবে দেখলে, ক্যাথলিকদের সাথে প্রোটেস্টেন্টদের বিরোধ নিয়ে মূলত: এই ওয়েব লাইব্রেরি। কপ্টিক অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা নিজেদেরকে প্রকৃত খ্রিস্টান ভাবে, রোমান ক্যাথলিকরা ওদের দৃষ্টিতে ভন্ড স্বার্থান্বেষী। কপ্টিক ক্রিশ্চিয়ান সম্পর্কে একটু ছোট্ট ইন্ট্রো দেই, কনস্ট্যানটাইন ক্যাথলিক ক্রিশ্চিয়ানিজম আমদানি করার আগের ৩০০ বছরে, রোমান এবং ইহুদীদের তাড়া খেয়ে প্রারম্ভিক যুগের খ্রিস্টানরা উত্তর আফ্রিকা এবং আরব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ওদের বক্তব্যমতে Mark the Evangelist এই কপটিকদের নিয়ে বেরিয়ে আসে এবং আরব ও আফ্রিকায় ছড়িয়ে দেয় খ্রিস্টের গসপেল (ক্যাথলিক গসপেল এর সাথে বেশ কিছু অমিল আছে, কপটিকদের ভাষায়, রোমানরা নিজেদের সুবিধামত চেঞ্জ করে নিয়েছে)। 

নিচে আমি লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি, স্বাভাবিকভাবেই ইংরেজীতে সবকিছু। যাঁরা ইংরেজী দেখলেই সাপ দেখার মত আঁতকে ওঠেন, তাঁদের জন্যে সংক্ষেপিত একটা অনুবাদ দিচ্ছি, মূল বক্তব্য বুঝতে পারবেন। কিন্তু পুরোপুরি রস আস্বাদন করতে হলে, আপনাকে মূল লেখাটা পড়তে হবে। এদের বক্তব্য অনুসারে মূল লেখাটা Alberto Rivera নামে একজন সাবেক Jesuit প্রিস্টের, যিনি পরবর্তিতে প্রোটেস্টেন্ট মতে কনভার্টেড হন। The Prophet নামে একটি বই প্রকাশ করেন  তিনি, যেখানে তাঁর ভাষ্যমতে ভ্যাটিকান এ লুকিয়ে রাখা ক্যাথলিকদের বিভিন্ন অপকর্ম প্রকাশ করেছেন। এই বইটা প্রকাশের পর থেকেই তাঁর উপরে বহুবার হত্যাপ্রচেষ্টা চালানো হয় এবং অবশেষে খাবারে বিষ মিশিয়ে তাঁর মুখ চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হয়। 

ভূমিকা শেষ। এবারে মূল গল্প (তীব্র ধর্মান্ধতাপূর্ণ লেখা, এটা পড়তে গিয়ে মাথায় রাখতে হবে, লেখক একজন খ্রিস্টান প্রিস্ট, তাঁ্র কাছে পুরো ব্যাপারটাই ঐশ্বরিক এবং শয়তানী শক্তির দ্বন্দ্ব। ঈশ্বরবিরোধী কোনকিছু এখানে নেই। এবং এটা একটা Alternate History, বেশ কিছু ভ্রান্তি আছে ইতিহাস নিয়ে।  সত্যতা বা রেফারেন্স আমার কাছে জানতে না চেয়ে নিচের মূল সোর্স দেখাটাই কাম্য। নিচে মূল আর্টিকেল এর লিঙ্ক আছে, সাথে The Vision at Fatima নামে একটা ধর্মীয় ঘটনার উইকি লিঙ্ক, ঘটনাটা অন্য সোর্স থেকেও নিশ্চিত হতে পারবেন):

"প্রারম্ভিক যুগের খ্রিস্টানরা  গসপেল'এর মতাদর্শ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছিলো চতুর্দিকে এবং ছোট ছোট চার্চ স্থাপন ও বাণী প্রচারের মধ্যেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছিলো। কিন্তু শুধু এটুকু করতে গিয়েও তারা ইহুদী এবং শক্তিশালী রোমান সাম্রাজ্যের তীব্র বিরোধিতা, অত্যাচার ও বিতাড়ণের শিকার হয়। কিন্তু ইহুদীরা রোমানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করে এবং ৭০ খ্রিস্টাব্দে জেনারেল টাইটাস এর নেতৃত্বে রোমান সেনাবাহিনী জেরুজালেম এ প্রবেশ করে সলোমনের মন্দির, ইহুদীদের সবথেকে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থনাস্থল সম্পূর্ণ  ধ্বংস করে দেয়, জীবিত ইহুদীরা ছড়িয়ে যায় বিভিন্ন দিকে। 

হাওয়া চিরকাল একদিকে বয় না। দুর্নীতি, লালসা, বিকৃতি, নৃশংসতা এবং বিদ্রোহ রোমান সাম্রাজ্যের ভিত কুরে কুরে খেয়ে ফেলছিলো, একদিন ভেঙেচুরে পড়তোই। খ্রিস্টানদের উপরে নির্যাতন চালানোটা, আসলে কোন কাজেই আসেনি। প্রারম্ভিক খ্রিস্টানেরা গসপেল বিশ্বাসকে বজায় রাখতে রোমান তলোয়ারের নিচে মাথা ঝুঁকিয়ে দিতে, জীবন বিসর্জন দিতেও পিছপা হয় নি। শুধু শয়তানের পক্ষেই সম্ভব ছিলো ঈশ্বরের দেখানো পথ বানচাল করে, সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী এক খ্রিস্টান ধর্ম সৃষ্টি করা। 

আর এর জন্যে শয়তানের হাতে একমাত্র সমাধান ছিলো রোম। এই সেই রোম, যাদের ধর্মের উদ্ভব হয়েছিলো অভিশপ্ত ব্যাবিলন থেকে, শুধু নবরূপ দেয়াটুকুর প্রয়োজন ছিলো। তবে রাতারাতি কিছুই হয় নি, প্রারম্ভিক "Church Father"দের লেখনীর মাধ্যমে শুধু আরম্ভ হয়েছিলো। তাদের লেখনীর মাধ্যমেই ধীরে ধীরে এই নতুন ধর্ম রূপ লাভ করতে থাকে, রোম শহরের জুপিটারের মূর্তি হয়ে যায় সেইন্ট পিটার, ভেনাসের মূর্তি হয়ে দাঁড়ায় ভার্জিন মেরি। নিজেদের সদরদপ্তরের জন্যে তারা বেছে নেয় "Vaticanus" নামে এক পাহাড়চূড়া, যেখানে আগে ছিলো দানবীয় দেবতা Janus'এর (আরম্ভ, সময়, সিদ্ধান্ত, দরজা এবং যাত্রাপথের রোমান দেবতা) মন্দির।

সমধর্মী প্রধাণ তিনটে ধর্মের একটা ব্যাপারে খুব মিল আছে। ক্যাথলিকেরা তাদের সমস্ত আশা প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে থাকে পবিত্র ভ্যাটিকান শহরের দিকে, ইহুদিদের কাছে আশা ভরসার স্থল জেরুজালেমের বিলাপরত দেয়াল এবং মুসলিমদের কাছে, কাবাঘর। এদের প্রত্যেকেই বিশ্বাস করে, একবার তারা তাদের সব থেকে পবিত্র স্থান ভ্রমণ করে প্রার্থণা করলেই, সারাজীবনের জন্যে ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হবে। কালে কালে জেরুজালেম শহর ক্যাথলিকদের হাতছাড়া হয়ে যায়। কিন্তু অমূল্য ধর্মীয়, ঐতিহাসিক এবং স্ট্যাটেজিক অবস্থানের জন্যে জেরুজালেমকে দখলে রাখা খুব জরুরী হয়ে পড়েছিলো ক্যাথলিকদের জন্যে। তাদের নিজেদের তো লোকবল এত ছিলো না, তাই তাদের নজর পড়েছিলো, ইসমাইলের বংশধর, বেচারা আরবদের দিকে।

গোড়ার দিকে,  বিভিন্ন আরব গোত্র এই "ঈশ্বরের গৃহে" অর্ঘ এবং উপহারসামগ্রী নিয়ে আসতো, কাবা'র তত্বাবধায়কেরা আগমনকারী সবাইকেই সমান সদয় দৃষ্টিতে দেখতো। এমনকি অনেকে নিজেদের গোত্রের দেবমূর্তি নিয়ে এলেও তাদের মনে যেন আঘাত না লাগে, তাই মূর্তিগুলোকে এই পবিত্র স্থানে রেখে দেয়া হতো। বলা হয়ে থাকে, পার্শ্ববর্তি ইহুদিরা কাবা'কে প্রত্যন্ত মন্দির ভেবে ভক্তি শ্রদ্ধা করতো, কিন্তু মূর্তি স্থাপনের ফলে দুষিত হয়ে যাওয়ায় তারা এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। জমজম কূপ নিয়ে গোত্রদ্বন্দের কারণে একসময় কাবা থেকে সমস্ত উপঢৌকন এবং মূর্তি নিয়ে এসে জমজমে ফেলে বালি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়, জমজমের অবস্থান লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। বহু বছর পরে, আব্দুল মুত্তালিব স্বপ্নে দেখে জমজম কূপ খুঁজে বের করে। সে মক্কার সবথেকে মান্যগণ্য ব্যক্তি হয়ে যায়, এবং মোহাম্মদের পিতামহ হওয়াটাও তার ভবিতব্য হয়ে দাঁড়ায়।

এর বেশি কিছুদিন আগে, অগাস্টিন যখন উত্তর আফ্রিকার বিশপ হলো , তার স্বপ্ন ছিলো গোটা আরবে রোমান ক্যাথলিসিজম ছড়িয়ে দেয়া। তার অনুসারীরা শুধু ব্যাক্তি বিশেষ নয়, কিছু ক্ষেত্রে গোটা গোত্রকেও কনভার্ট করতে সক্ষম হয়েছিলো। এই কনভার্টেড আরব ক্যাথলিকদের মধ্যেই আস্তে আস্তে একজন আরব নবীর ভাবনা ডালপালা মেলতে শুরু করে।

শৈশবেই পিতা, মাতা এবং পিতামহকে হারানো মোহাম্মদ, চাচার ঘরে বেড়ে উঠছিলো। একবার ব্যাবসায়িক প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার সময় মোহাম্মদকে সাথে নিয়ে যায়, আবু তালিব। সেখানে তাদের সাথে দেখা হয় এক ক্যাথলিক সন্ন্যাসীর। মোহাম্মদের পরিচয় জানার পরে সে তালিবকে বলে,

"যত দ্রুত সম্ভব তোমার এই ভাতিজাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাও, আর ওকে ভালোভাবে পাহারা দিয়ে রাখো। কারণ আমি এর সম্পর্কে যা জানি, তা যদি ইহুদীরা জানতে জানতে পারে,  তাহলে ওর বিভিন্ন রকম ক্ষতি করার চেষ্টা করবে। এই ছেলে ভবিষ্যতে বিশাল বড় কিছু হতে চলেছে"

মোহাম্মদের অনুসারীদের হাতে ভবিষ্যত ইহুদী নিধনযজ্ঞের বীজ, মূলত: এই রোমান ক্যাথলিক সন্ন্যাসীর মাধ্যমেই প্রেত্থিত হয়।

জেরুজালেম শহরের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক এবং স্ট্রাটেজিক গুরুত্বের কারণে ক্যাথলিকেরা এই শহরটিকে করায়ত্ব করার ওতপ্রোত চেষ্টা করছিলো, বাধা হয়ে ছিলো ইহুদীরা। ওদের আরেকটা জ্বলজ্যান্ত সমস্যা ছিলো উত্তর আফ্রিকার গসপেল অনুসারী সত্যিকারের খ্রিস্টানরা। শক্তি এবং ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতিপক্ষের প্রতি অসহিষ্ণুতাও উত্তরোত্তর বেড়ে চলছিলো। রোমান ক্যাথলিকদের জন্যে জরুরী হয়ে পড়েছিলো এমন একটা অস্ত্র, যা দিয়ে একইসাথে ইহুদি এবং ক্যাথলিসিজম অস্বীকারকারী সত্যিকারের খ্রিস্টানদের নির্মূল করা যায়। আরব থেকে শুরু করে উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত তাকিয়ে, তাদের নজরে এসেছিলো, বিশাল আরব সম্প্রদায়, যাদের ব্যবহার করে নিজেদের নোংরা কার্য্য সমাধা করা সম্ভব। রোমান নেতাদের প্রতিনিধি হিসেবে কিছু আরব ক্যাথলিককে সরাসরি নিয়োগ করা হয়েছিলো, যাদের কাজ ছিলো এলাকাভিত্তিক তথ্য ভ্যাটিকানে সরবরাহ করা। বাকিদের দিয়ে গড়ে তোলা হয় আন্ডারগ্রাউন্ড স্পাই নেটওয়ার্ক, যারা ঐ ক্যাথলিসিজম প্রত্যাখ্যানকারী বিশাল আরব সম্প্রদায়কে নিয়ন্ত্রণ করার রোমান মাস্টারপ্ল্যানকে সুচতুরভাবে এগিয়ে নিয়ে চলছিলো। 

অগাস্টিন যখন দৃশ্যপটে এলো, অনেকদূর এগিয়ে গেছে কার্যক্রম। তার নেতৃত্বে ক্যাথলিক মঠগুলোর কাজ ছিলো, মূল খ্রিস্টানদের থেকে আসল বাইবেলের কপি খুঁজে বের করে বিনষ্ট করে ফেলা। ভ্যাটিকান চাইছিলো, আরবদের মধ্য থেকে একজন মসীহা তৈরী করতে, এমন একজন যাকে বড় মাপের নেতা হিসেবে সামনে রাখা যায়, অসামান্য প্রতিভাধর একজন মানুষ যাকে তারা প্রশিক্ষিন দিতে পারে, এবং একসময় সকল নন-ক্যাথলিক আরব জনতাকে তার অনুসারী বানিয়ে গড়ে তোলা যেতে পারে এক বিশাল সেনাবাহিনী, যার মাধ্যমে জেরুজালেমকে হাতের মুঠোয় নেয়া যাবে।

ভ্যাটিকান কার্ডিনাল Augustine Bea জেসুইট দের ব্রিফিং দেয়ার সময়  বলেছিলো:

পোপের বিশ্বস্ত অনুসারী এক ধন্যাঢ্য আরব মহিলা ছিলো এই নাটকের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায়। তার নাম ছিলো খাদিজা, একজন বিধবা। নিজের সমস্ত সম্পত্তি চার্চে দান করে, কনভেন্টে সন্ন্যাসীর জীবন কাটাচ্ছিলো, কিন্তু তাকে একটা এসাইনমেন্ট দেয়া হলো, সেই মুহাম্মদ এখন এক প্রত্যয়দীপ্ত মেধাবী যুবক, তাকে করায়ত্ব করতে হবে। ভ্যাটিকানের আরেক বিশ্বস্ত অনুসারী, খাদিজার চাচাতো ভাই ওয়ারাক্বাহকে নিযুক্ত করা হলো মুহাম্মদের পরামর্শদাতা হিসেবে এবং সেই সাথে নিযুক্ত করা হলো আরো কিছু প্রশিক্ষক, যারা সেইন্ট অগাস্টিনের লেখাগুলো বোঝানোর মাধ্যমে মোহাম্মদকে প্রস্তুত করবে তার নবুওতের জন্যে। ক্যাথলিক আরবদের মাধ্যমে গোটা আরব-উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে রটিয়ে দেয়া হলো, ঈশ্বরের মনোনীত এক মহামহিমান্বিত পুরুষের আগমন ঘটতে যাচ্ছে। মোহাম্মদকে বোঝানো হলো, রোমান ক্যাথলিকরাই আসল ঈশ্বরবিশ্বাসী খ্রিস্টান, ইহুদীরা শয়তান, আর বাকি খ্রিস্টানরা ভ্রান্ত পথের পথিক, যাদের অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে।

অবশেষে এক সময় মোহাম্মদ "ওহী" প্রাপ্ত হতে থাকলো  এবং ওহী বিশ্নেষনের কাজে ওয়ারাক্বাহ সাহায্য করতে থাকলো। শুরু হলো কোরান রচনা। পূর্বাত্মন ধর্মবিশ্বাসকে অস্বীকার করায় মক্কায় অত্যাচারের শিকার হতে শুরু করার পরে, মোহাম্মদ তার কিছু অনুসারীকে আবিসিনিয়া পাঠালো, এবং সেখানকার রোমান ক্যাথলিক রাজা নেগি তাদের সাদর অভ্যর্থনা জানালো, কারণ মোহাম্মদের দৃষ্টিভঙ্গীতে বর্ণিত ভার্জিন মেরীর সাথে ক্যাথলিক বিশ্বাসের বেশ মিল ছিলো। 

ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, ইসলামের আবির্ভাবেরও বহূ আগে থেকে আরবের Sabean সম্প্রদায় উপাসনা করতো এক চন্দ্র দেবতার, যার তিন দেবী সন্তান ছিলো, যাদেরকে গোটা আরবে "আল্লাহর কন্যাত্রয়" হিসেবে উপাসনা করা হতো। ১৯৫০ সালে প্যালেস্টাইনের হাজর এ খননকার্য্যের সময় পাওয়া যায় একটি মূর্তি, সিংহাসনে আল্লাহ আসীন, যার বুকের উপরে বাঁকা চাঁদ। মুহাম্মদ ঘোষনা দিলো , আল্লাহর তরফ থেকে ওহী এসেছে, "তুমি আল্লাহর রাসুল"। মুহাম্মদের যখন মৃত্যু হয়, ইসলাম তখন বিষ্ফোরণোন্মুখ।  যাযাবর আরব গোত্রগুলো আল্লাহ এবং তার রাসুল মোহাম্মদের নামে একীভুত হচ্ছিলো। মোহাম্মদের কিছু বক্তব্য কোরান হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়েছে, বাকিগুলো জনসম্মুখে আসে নি, ওগুলো আছে, আয়াতুল্লাহদের হাতে। কার্ডিনাল বি'র ভাষ্যমতে,
"মুহাম্মদের এসমস্ত কথা সুরক্ষিত রাখা, কারণ এগুলোতে ইসলামের সৃষ্টির পিছনে ভ্যাটিকানের কলকাঠি নাড়ার  তথ্য আছে।" 
মুসলিম এবং ক্যাথলিক, উভয়ের হাতেই দুপক্ষের সম্পর্কে এত গোপনীয় তথ্য আছে, যে যদি কখনো প্রকাশ পায়, দুটো ধর্মের জন্যেই তা হবে প্রলয়ঙ্করী

কোরানে জেসাসকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নবী হিসেবে উল্লেখ করা আছে। যদি পোপ দুনিয়াতে সেই জেসাস এর প্রতিনিধি হয়, তাহলে পোপ নিজেও ঈশ্বরের দূত। এই কারণেই মুহাম্মদের অনুসারীরা পোপকে বড় মাপের ঐশী পুরুষ হিসেবে ভয় পেত, শ্রদ্ধা করতো। পোপ আরব জেনারেলদের উত্তর আফ্রিকা আক্রমণের অনুমতি দিলো। শুধু তাইনা, কয়েকটা শর্তে আরবদের অভিযানে অর্থ সংস্থানও করলো। শর্তগুলো হচ্ছে:
১) সকল ইহুদী এবং ভিন্ন মতাবলম্বী  খ্রিস্টানদের খতম করতে হবে
২) অগাস্টিনিয়ান সন্ন্যাসী এবং ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের  সুরক্ষা দিতে হবে
৩) ভ্যাটিকানের তরফ থেকে জেরুজালেম দখল করতে হবে।

সময়ের সাথে সাথে মুসলিমদের সামরিক শক্তি প্রচন্ডরূপ ধারণ করলো। ইহুদী এবং প্রকৃত খ্রিস্টানরা হত্যাকান্ডের শিকার হলো, জেরুজালেম মুসলিমদের হস্তগত হলো। কিনতি এই গোটা সময়টাতে না ক্যাথলিকদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হলো, না তাদের কোন মঠ আক্রান্ত হলো। কিন্তু যখন তাদের কাছ থেকে জেরুজালেম বুঝে নিতে চাওয়া হলো, পোপকে হতবাক করে দিয়ে  তারা অস্বীকার করে বসলো। নিজেদের সামরিক শক্তি এবং সাফল্যে মত্ত মুসলিম জেনারেলদের, পোপের কথায় ভয় পাওয়ার কোনই কারণ ছিলো না এবং তাদের নিজেদের পরিকল্পনার বাইরে অন্য কিছু ভাবার ইচ্ছাও ছিলো না। 

ওয়ারাক্বার পরিকল্পনামাফিক মুহাম্মদ লিখেছিলো, ইব্রাহিম তার সন্তান ইসমাইলকে উৎসর্গ করতে যাচ্ছিলো। বাইবেল এ ইসহাকের কথা লেখা থাকলেও, মুহাম্মদ সেটা সরিয়ে  ইসমাইলের নাম ঢুকিয়েছিলো। ইসমাইলকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং মেরাজ এর কাহিনীর কারণে বিশ্বাসী মুসলিমেরা ডম অফ রক নামে একটা মসজিদ তৈরী করেছিলো জেরুজালেমের ঠিক সেই স্থানে, যেখানে ৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমানরা ইহুদিদের মন্দির গুঁড়িয়ে দিয়েছিলো। এটা মুসলিমদের কাছে দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থান। বিদ্রোহ  জন্ম না দিয়ে  কিভাবে সম্ভব জেরুজালেমকে পোপের হাতে তুলে দেয়া?

পোপ যখন শুনতে পেলো, তাকে মুসলিমেরা কাফির বলছে, তখন তার উপলব্ধি হলো, তারা যেই দানবের জন্ম দিয়েছে, সে এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ততদিনে মুসলিম সেনাপতিরা আল্লাহর নামে পৃথিবী দখল করার পাঁয়তারা কষছে এবং তাদের নজর পড়েছে ইউরোপের দিকে। ইসলামী দূত ভ্যাটিকানে এসে পোপের কাছে ইউরোপিয়ান দেশগুলো আক্রমণের অধিকার দাবী করলো। ভ্যাটিকান ক্ষোভে ফেটে পড়লো, অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠলো যুদ্ধ। মুসলিমরা ইউরোপ আক্রমণ করলো, স্পেন থেকে পর্তুগালের কিছু অংশ পর্যন্ত দখল করে ফেললো। মুহাম্মদের মেয়ে ফাতিমার নামে পর্তুগালের একটা পাহাড়ি এলাকার নামকরণও করলো (অবশ্য ওরা স্বপ্নেও হয়তো ভাবে নি, একদিন এই নাম বিখ্যাত হয়ে যাবে),  আরেকদিকে তুরষ্কের উপরে চলতে লাগলো মুহুর্মুহু আক্রমণ। 

ভ্যাটিকানের কিছু সময় লেগে গেলো, নিজেদের সামরিক শক্তি গুছিয়ে নিতে। কিন্তু অবশেষে ইসমাইলের বংশধরদের থেকে ক্যাথলিক ইউরোপকে রক্ষা এবং পবিত্র জেরুজালেম উদ্ধারের লক্ষে ক্রুসেড শুরু করা হলো। কয়েকশো বছর ধরে, ক্রুসেড চলার পরেও জেরুজালেম তো উদ্ধার হলোই না, উলটো তুরষ্কও মুসলিমদের করায়ত্ব হয়ে গেলো। শেষ পর্যন্ত, যখন সার্ডিনিয়া এবং কর্সিকা দ্বীপে সেনা জমায়েত করলো, ইটালি আক্রমণের জন্যে, মুসলিম সেনাপতিদের বোধোদয় হলো, তারা তাদের সামরিক শক্তি খুব বেশি এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ফেলেছে, যুদ্ধ না করে বরং শান্তি আলোচনা করাই উত্তম। মুসলিমদেরকে ক্যাথলিক বিশ্বে তুরষ্ক অধিকৃত রাখতে দেয়া হলো এবং বিনিময়ে ক্যাথলিকরা আরব বিশ্বে লিবিয়া অধিকৃত রাখলো। চুক্তিতে এটাও ছিলো, মুসলিমেরা যেকোন ক্যাথলিক দেশে মসজিদ তৈরী করতে পারবে, যতক্ষন পর্যন্ত ক্যাথলিকদেরকে মুসলিম দেশে ধর্ম প্রচার করতে দেয়া হবে।। 

এভবেই আস্তে আস্তে বাইবেলের প্রকৃত সত্য থেকে পৃথিবীবাসীকে বিমুখ করে ফেলা হলো। মানুষকে বিভ্রান্ত রাখার এবং নিয়ন্ত্রণ করার ক্যাথলিক প্রচেষ্টা এখানেই শেষ নয়। ১৯১০ সালের দিকে  পর্তুগাল সোশালিজমের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলো, লালা পতাকা উড়ছিলো, ক্যাথলিক চার্চগুলো বন্ধের উপক্রম হচ্ছিলো। ১৯১৭ সালে সেই ফাতিমা গ্রামে "The Vision at Fatimah" নামে একটি নাটক মঞ্চস্থ করা হয়, ভার্জিন মেরি এসে দেখা দিলো , তিনটে ভবিষ্যতবাণী করলো। এতটাই সফল মঞ্চায়ন ছিলো এই বিশ্বাসের নাটকের, পর্তুগাল থেকে সোশালিজম চিরতরে বিদায় নেয়, ক্যাথলিক চার্চ ফের পূর্বাবস্থা ফিরে পায়। এই ভবিষ্যতবাণীর রেশ ধরেই পরবর্তিতে পোপ Pius XII, নাৎসিদের দিয়ে ইহুদী নিধনযজ্ঞ চালায়, রাশিয়া এবং তার অর্থোডক্স চার্চ ধ্বংস করতে রাশিয়া আক্রমণ করায়। শয়তান এভাবেই ১৭০০ বছর ধরে ক্যাথলিকদের মাধ্যমে পৃথিবীবাসীকে ভ্রান্তির পথে নিয়ে যাচ্ছে"

মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০১৬

স্বগতোক্তি

ভাবনা ভাবিতে মোর লাগে বড় শঙ্কা
এত ভেবে হবে কিবা, কোন লবডঙ্কা
চিন্তা মুক্ত নই, মুক্তির চিন্তা
মুক্ত চিন্তা মোর, তা ধিন ধিন তা
চারপাশে যত দেখি, footage'এর রাজ্য
Footage আমারও চাই, জ্ঞান পরিত্যাজ্য
মুখস্থ বিদ্যায়, কিবোর্ড ও মাউসে
একই কথা ঘুরে ফিরে, একঘেয়ে হাউশে
ধর্মকে তুলোধুনা, মারি চার ছক্কা
এই এলো চাপাতি, এই হলো অক্কা
উদার গ্রহণ মনে, চায় কোন জন
জয় গুরু Rigidity, কষে বাঁধি মন
সকলে সমান, আরে, বলছো এ কি গো?
আমি ম্যাঁও, হুলো ক্যাট, মোর আছে ego
"আমি" তো অনেক হলো, মোর কথা কই
এত কেন ভাগাভাগি, ভাগের পরেও ভাগ?
আমরা আমরাই তো, তবু কেন এত রাগ?
কাঁদি, হাসি, ভালোবাসি, রোজ অনলাইনে
কবে  কে বা ঠুকে দেবে, ৫৭ আইনে
ভারি লেখা, মোটা বই, হয়নাকো পড়া
বসে বসে তাই লিখি, কাপলেট এ ছড়া

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০১৬

যৌন মনস্তত্ব - ১

বিবেক বলে আসলে কিছু হয় না, ভাগ্য টাইপ ধ্যানধারণা। আসল কারণ Psychosexuality (হায় রে মাতৃভাষা মোর, এসব শব্দের একটা সহজ বাংলা নেই, "অবচেতন যৌন মনস্তত্ব" এর চাইতে সাইকোসেক্সুয়ালিটি সহজবোধ্য)। ধরা যাক একটা ছেলেকে ছোটবেলায় তার Biological পরিবার থেকে আলাদা করা হলো। সে আর কোনদিনও জানতে পারলো না , নিজের বায়োলজিকাল ফ্যামিলি মেম্বারদের ব্যাপারে। ধরা যাক তার একটা বোন আছে , কিন্তু সে জানে না, এটা তার বোন। এবারে ছেলেটা সেই মেয়েটার প্রতি Sexual Atraction ফিল করতে পারে, সেক্স হতে পারে।  আমাদের সমাজের Social Construct (Construct অর্থ সাইকোসেক্সুয়ালিটিকে প্রভাবিত এবং বাধাগ্রস্ত করে এমন কিছু) আসলে এধরণের সম্পর্কগুলোকে জেনেশুনে তৈরী না হওয়ার পিছে মূল ভুমিকায়। সামাজিকভাবে ধারাটা এমন, তাই, জেনারেশনের পরে জেনারেশন এটাই ফলো করে আসছে।

কিন্তু সাইকোসেক্সুয়ালিটি এত সহজে ডিফাইন করে ফেলা যায় না। অনেক রকমের কন্ট্রাস্ট। তাই তো বর্তমান সমাজেও মা-ছেলে বাবা-মেয়ে ভাই-বোন, তথাকথিত অজাচার দেখা যায়, উল্লেখ্যোগ্যরকম কম হলেও। এখানে বিবেকের ভুমিকা খুব কম। সাইকোসেক্সুয়ালিটিকে যদি সোশাল কন্সট্রাক্ট ব্যহত না করতো। তাহলে হয়তো অজাচার নামক টার্মটা থাকতো না। একটা সময় তুলনামূলক সভ্য সমাজেও সেক্সুয়ালিটি এত গোপন গহীন কোটরে রাখার ব্যাপার ছিলো না। তাই প্রাচীন স্ক্রিপচারে আমরা বিভিন্ন রকম সেক্সুয়াল রিলেশনশিপ পাই, যেগুলো সেই সময় অজাচার বা ব্যাভিচাররূপে গন্য ছিলো না। Freud নামক লোকটিকে অপছন্দ করার আমার অনেক কারণ আছে। Freudian তত্বানুসারে সাইকোসেক্সুয়ালিটি জগৎময়, কৃষ্ণের মত। ভদ্রলোক মায়ের দুধ খাওয়ার সময়কালীন বাচ্চাদের মায়ের স্তনের প্রতি এডিকশনকে সাইকোসেক্সুয়ালিটির প্রারম্ভিকতা বলেছেন। এবং আপনি ভালো খাবার খাওয়ার খেয়ে পাওয়া পরিতৃপ্তি, Pleasure, আপনার Sexuality'র অংশ, Freud-Jung এর তত্বানুসারে। গল্পের গরু গাছে ওঠার আগে প্রসঙ্গে আসি।

এই দুই ভদ্রলোক Oedipus Complex নামক একধরনের সাইকোসেক্সুয়াল থিওরি দিয়েছেন, এবং সম্ভবত এখন পর্যন্ত সবথেকে প্রতিষ্ঠিত হাইপোথিসিস। মায়ের প্রতি ছেলের অবিচেতন যৌন আকর্ষন বা ভাইস ভার্সা। হয়তো আমাদের অনেকের ধারণা নেই, আমাদের সমাজে এমন সাইকোসেক্সুয়াল প্রান্তিক মানুষ আছেন, তাঁ্রা পারেন না নিজেদের সাইকোসেক্সুয়ালিটিকে সামাজিক কন্সট্রাক্ট'এ আটকে রাখতে, তাঁ্রা সেক্সুয়ালি একটিভ হয়ে যান, যা থেকে পুত্রবধুর আত্মহত্যা পর্যন্ত ঘটে থাকে অনেকক্ষেত্রে। এখানে পারষ্পরিক আপত্যস্নেহের সেক্সুয়াল দখলদারিত্ব দেখা যায়। আমাদের চোখে এটা অজাচার কারণ অন্তত গত এক হাজার বছর ধরে একে সম্পূর্ণরূপে সামাজিক অজাচার বলে গণ্য করে আসছে, তার আগে পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে অজাচার হিসেবে গণ্য হতো না। তবে এই Oedipus আমার কাছে Freud এর নিষ্ঠুরতা মনে হয় আমার কাছে। গ্রিক মূল গল্পে, ওদিপাউস আর তার মা  জন্মলগ্নে আলাদা হয়ে যায়, কেউ কাউকে চিনতো না, পাকেচক্রে পড়ে আলাদা হওয়ার ২৫ বছর পরে বিয়ে হয় এবং তাদের সন্তান হয়। এবং একসময় তারা জানতে পারে, মহিলা আত্মহত্যা করেন, ওদিপাউস নিজের চোখ উপড়ে ফেলে পরিতাপ করতে সব ছেড়ে চলে যায়। এটা মোটামুটি ২০০০ বছর আগের গল্প, তখন একে অজাচার ধরা হহতো, কিন্তু ঠিক হাজার কখানেক ববছর আগেও গ্রিসে মমা ছেলে সম্পর্ক অজাচার গণ্য হতো না। আমি সবার আগে যে কথা বলছিলাম, আপনার না জানা থাকলে সেক্সুয়াল এট্রাকশন থেকে সেক্স সবই হতে পারে। এবং শুধু সোশাল কন্সট্রাক্টের কারণে এধরণের সাইকোসেক্সুয়ালিটি সচরাচর প্রস্ফুটিত হয় না।

এঁদের আরেকটা অবদান Electra Complex, বাবা-মেয়ে সাইকোসেক্সুয়ালিটি। উদাহরণ কম চোখে বাধে না। আরব অসভ্যরাই নয় শুধু, পশ্চিমা তথাকথিত সভ্য থেকে আমাদের মত মডারেট রক্ষণশীল সমাজেও। ওদিপাউস কমপ্লেক্স যেখানে স্নেহমূলক দখলদারিত্বের সাইকোসেক্সুয়াল প্রতিরূপ, ইলেক্ট্রা কমপ্লেক্স সেখানে Power and Dominance মূলক মনস্তাত্বিক যৌন দখলদারিত্ব। তবে ওদিপাউসের গল্পটা যদিওবা তত্বের সাথে Relevant, ইলেক্ট্রার গল্প দেখলে একেবারে বাজে Metaphor. কোন এক গ্রিক দ্বীপের রাজা বর্তমান স্ত্রী এবং তার প্রেমিকের ষড়যন্ত্রে খুন হয়। রাজার আগের পক্ষের মেয়ে ইলাক্ট্রা, প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে এতটাই ফ্যানাটিক হয়ে ওঠে, প্রতিশোধ না নিয়ে মৃতদেহ সৎকার অস্বীকার করে এবং একসময় সৎ মা ও তার প্রেমিককে খুন করে প্রতিশোধ নেয়। তত্বের সাথে কোন মিল পেলেন? :D যাই হোক, বাবার অধিকার নিয়ে বা নজরে বেশি আসা নিয়ে মা মেয়ের নির্মল মধুর দ্বন্দ, Freud-Jung এএ দৃষ্টিতে ইলেক্ট্রা কমপ্লেক্স সাইকোসেক্সুয়ালিটি এবং এটা যে একেবারে ফেলে দেয়ার মত নয় তার প্রমাণ, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অনেকসময় বাবা-মা-মেয়ের সাইকোসেক্সুয়াল ট্রায়াঙ্গল আমাদের কানে আসে। এটা অসুস্থতা নয়, সাইকোসেক্সুয়াল স্বাভাবিকতা।

ভাই-বোন "অজাচার" কিভাবে সামাজিক কন্সট্রাক্টের উপরে ভিত্তি করে প্রেথিত, তার একটা সহজ উদাহরণ দেয়া যাক। মুসলিম সমাজে তুতো ভাই-বোনের  মধ্যে বিয়ে অসম্ভব কমন ব্যাপার। এদিকে ইহুদি-খ্রিস্টানরা ফার্স্ট কাজিনের সাথে (মানে আপন চাচাতো বা মামাতো) বিয়ে এলাউ করে না। হিন্দুদের সমাজে সকল কাজিন ভাই বোন (অন্তরালে যৌন সম্পর্ক অনেক আছে)।  তাহলে সেই কন্সট্রাক্ট, কাউকে যৌনাচার এলাউ করছে, কাউকে বলছে এটা অজাচার। যদি সোশাল কন্সট্রাক্ট না থাকতো, তাহলে এই সাইকোসেক্সুয়ালিটি অনেকের মধ্যেই প্রস্ফুটিত হতে পারতো হয়তো বা। যেমনটা হয়েছিলো রোমান সাম্রাজ্যে। ক্রিশ্চিয়ানিটি রোমকে গ্রাস করার আগে পর্যন্তও ভাই বোন যৌনতা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা ছিলো তৎকালীন রোম এ, অজাচার বলতে কিছুর অস্তিত্বও ছিলো না।

তাহলে, অজাচার বা Incest নামক কালের বিচারে সাম্প্রতিক টার্মকে কিছুতেই বিবেক বা ধর্ম নামক বায়বীয় অযৌক্তিকতা দিয়ে বিচার করতে পারি না। মানুষের স্বাভাবিক সাইকোসেক্সুয়ালিটি, সামাজিক কন্সট্রাক্ট দ্বারা অবদমিত হয়ে, অজাচারে রূপান্তরিত হয়েছে। কারণ আসলে আমাদের সমাজ সাইকোসেক্সুয়াল প্রান্তিকতা নিয়ে সচেতন নয়। আমার মনে হয়, আধুনিকতা এবং  যৌক্তিকতার বর্তমান বিশ্বে প্রান্তিক যৌনতার মানুষ এবং প্রান্তিক মনস্তাত্বিক যৌনতা নিয়ে সচেতন হওয়ার সময় এসেছে।