বুধবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৬

আমরা, বাংলাদেশী ক্রিকেট সমর্থক

বাংলাদেশে আমাদের বাংলাদেশ  ক্রিকেট নিয়ে খুব একটা মাথাব্যাথা ছিলো না। কলোনির মধ্যে ফুটবল প্লেয়াররাই দেখতাম ক্রিকেটার হয়ে ক্রিকেট খেলতো। গোটা থানায় আমাদের কলোনির টিমই বেটার ছিলো, আমাদের নিজেদের মধ্যে ৪ টে টিম পর্যন্ত করা যেত। যাই হোক, ক্রিকেট বলতে ওটুকু, খুব বেশি হলে আবাহনী মহামেডান ম্যাচ, ব্যাস। এরপরে   সবাই হয় ভারত সাপোর্টার, নয়তো পাকি সাপোর্টার, সংখ্যালঘু কিছু এদেশ ওদেশ সাপোর্টার ছিলো,  হালে পানি পেতো না। বাংলাদেশ দলের খোঁজ আমরা রাখতাম না, লাভ কি? প্লেইং ইলেভেনের ১১ জনের নামই জানতাম না , যখন ক্লাস নাইনে পড়তাম। জানলাম, এস্ট্রো টার্ফ বসিয়ে ন্যাশনাল টিম প্র‍্যাকটিস করবে,  ৯৭ এ নাকি ICC Trophy,  ৯৯'এর বিশ্বকাপে যাবে যদি চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স আপ হয়। খ্যা খ্যা করে হাসলাম, "সাব্বাস জাকির ভাই, শাহীন ভাই বাল শুধু চারই মারে, ছয় মারে না", "সাইদ আনোয়ারের আগে ৫০ সেঞ্চুরি হবে না, তেন্ডুলকারের?", "এই হচ্ছে ক্লাস, আকরাম কোমরে বেল্ট বেঁধে সুইং করায়, মইন-আকরাম লেট অর্ডারে একসাথে মানে যাতা", "সৌরভ-তেন্ডুলকার ওপেনিং ভার্সাস আমির-সাইদ সোহেল", বাংলাদেশ, who? আমরা ৯০ দশকের ৯০% আম বাংলাদেশী ক্রিকেট দর্শক।

এসএসসি'র আগে টেস্ট শেষে ৩ মাস প্রিপারেশন ব্রেক। এই সময় আইসিসি ট্রফি, মালয়েশিয়ায়। তখন ডিশ লাইন ঘরে ঘরে ছিলো না, বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রচার করেছিলো কিনা মনে নেই, আর গ্রামাঞ্চলে তো বিদ্যুৎই ছিলো না, টিভি কোত্থেকে।    রেডিও বাংলাদেশই একমাত্র ভরসা ছিলো।  খবরের কাগজে হেব্বি চলছে, বাংলাদেশের ওয়ার্লড কাপ খেলতে পারার সম্ভাবনার কাটাছেঁড়া। আমরা বাংলাদেশ স্কোয়াড দেখছি , কয়েকজনের নাম জানি , আবাহনী মহামেডানে খেলে , বুলবুল, আকরাম, নান্নু, আতাহার, রফিক, শান্ত, পাইলট এমন ৭/৮ জন, বাকিদের এই প্রথম খেয়াল করছি বোধহয়। আমরা তখনো হাসি ঠাট্টা করছি বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলবে, খ্যা খ্যা খ্যা। এতবার আইসিসি খেললো, প্রতিবার ২/৩ টে করে দেশ যায় ওয়ার্লড কাপে বাংলাদেশ ছিঁড়েছে , এবারে এস্ট্রো টার্ফে প্র‍্যাকটিস করেও ছিঁড়বে, ধ্যুস। চলে গেলো ওরা মালয়েশিয়া, সাথে গেলো বাংলা ধারাভাষ্য দিতে লিজেন্ডারি চৌধুরী জাফরুল্লা শরাফত এবং ইংরেজীর জন্যে শামীম আশরাফ চৌধুরী। শরাফত তখন ক্রিকেটারদের চাইতে বড় স্টার, বাংলাদেশের কমেন্ট্রি জগতের রজনীকান্ত।

ফলো করতে হবে তাই করা উদ্দেশ্য নিয়ে রেডিও খুলে বসতাম আমরা, ছুটি কোন কাজ নেই,  শরাফতের কমেন্ট্রি শুনি।  মনে মনে খসড়া করছি, জিম্বাবুয়ে নেই, মানে একটা ঝামেলা নেই।, কিন্তু কেনিয়া , আজ পর্যন্ত হারানো যায় নি। ধ্যুস,  হবে না। সেমি ফাইনালে আসার পরে আমরা আসলে একটু নড়ে চড়ে বসলাম। জাফরুল্লাহ শরাফত আর শামীম আশরাফ আমাদের নড়িয়ে ছাড়লো। এর আগে পর্যন্ত ১২ দেশের লিগ চলছিলো, এবারে সেমি ফাইনাল, শীর্ষ ৩, ৯৯ ওয়ার্ল্ড কাপ খেলবে।  এখন তো নিজের দেশ ছয়ের পরে ছয় খেলেও কাঠের মত মুখ করে তারিফ করতে হয় কমেন্ট্রি দিতে গেলে, তখন তো আর তা হতো না, ওরা দুইজনে সমস্ত আবেগ ঢেলে কমেন্ট্রি দিচ্ছিলো।  আমরা তখন ১৫ জনেরই নাম জানি, কে কে খেলছে।  অবাক হয়ে খেয়াল করলাম, বাংলাদেশ দল, প্লেইং ইলেভেনে ১০ জন ব্যাটসম্যান, ৯ টা বোলার :)।  রিয়েলি, ব্যাটসম্যানদের চারজন পার্টটাইম বোলার, বোলারদের ৩ জন পার্টটাইম ব্যাটসম্যান, একজন পার্টটাইম অলরাউন্ডার, একটু ব্যাটিং একটু বোলিং।  বাংলাদেশ টিম একটা চুড়ান্ত প্যাচ আপ। প্রতিটা আউন্স সামর্থ্য দিয়ে সেমি ফাইনাল পর্যন্ত এসেছে, দাঁত নখ সবকিছু দিয়ে হাঁচড়ে পাঁচড়ে ।  বাংলাদেশ যখন সেমি ফাইনাল জিতলো, আমরা, সিম্পলি স্টানড, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলবে, আমরা বিশ্বকাপ খেলবো। ফাইনাল, কেনিয়া, আমরা কোনদিন হারাতে পারিনি ,  শামীম আশরাফ চৌধুরী আজ মাফ চেয়ে নিচ্ছে, সে বাংলায় ধারাভাষ্য দেবে, আবেগের কাছে প্রোফেশনালিজম ছেঁড়া যায়। কেনিয়া যখন ২৪১  করে ফেললো,  আমরা হতাশ, হতাশ, আমাদের সামর্থ্যই নেই এত রান চেস করবো। কিন্তু সেদিন বৃষ্টি, বাংলাদেশের ইনিংস হলো না। রিজার্ভ ডে ছিলো হাতে, পরদিন বাংলাদেশ শুরু করলো, প্রপথম বলেই ওপেনার বোল্ড, বৃষ্টি শুরু ফের। বৃষ্টি থামার পরে ডি/এল মেথডে টার্গেট দাঁড়ালো ২৫ ওভারে ১৬৬। খেলা শুরু করতে হবে, নয়তো আরো পরে হয়তো আরো বিচ্ছিরি টার্গেট হবে।  শুধু কুয়ালামপুরের কিলাত ক্লাব মাঠের গ্রাউন্ডসম্যানরাই না, বাংলাদেশী রফিক পাইলট শান্ত সুজনরাও স্পঞ্জ আর বাকেট হাতে মাঠে নেমেছিলো, খেলা শুরু করতে হবে। আমরা ভুলতে পারি না সেই দিনগুলো। ভুলতে পারি না , কিভাবে সবাই মিলে একটু একটু করে জড়ো করেছিলো ১৬৬ রান।  বাংলাদেশ দলকে একটা ম্যাচ জিততে এমন আকুতি করতে দেখিনি আর কখনো। ১ বলে ১ রান দরকার ছিলো, পাইলটের ব্যাটে বল লাগার পরে, চোখ বন্ধ করে দৌড় দিয়েছিলো ও আর শান্ত। ভুলতে পারিনা চিৎকার করতে করতে, ভাঙা গলায় শামীম আশরাফের কমেন্ট্রি। আমাদের ক্রিকেটাররা তখনো আমিনুল ইসলাম বা খালেদ মাসুদ হয়নি, বুলবুল বা পাইলট ছিলো।

বাংলাদেশ ভেসে গেছিলো, ভেসে গেছিলো সেদিন, পরের দিন। একটা কোন গাড়ি ছিলোনা রাস্তায়, যেটা রঙিন নয়, রাস্তায় পয়েন্টে পয়েন্টে রঙের বালতি হাতে ছেলেপিলে, রঙ না খেয়ে কোন গাড়ি যাবে না। ভিল্ডিং এর ছাদ থেকে রঙ এর বালতি উপুড়, লোকের গায়ে। আমাদের এখানে তো হোলি বলে কিছু নেই, সেই দিনটা বোধহয় হোলির থেকেও রঙিন। মালয়েশিয়া গেছিলো প্রায় অখ্যাত কতগুলো ক্রিকেটার, ফিরে এলো হিরো, রফিক, পাইলট, আতাহার,দুর্জয়। উই আর ইন ওয়ার্ল্ড কাপ।

 এবারে আমরা দেখলাম আমাদের সমস্যা, আমাদের পাইপলাইন বলে কিছু নেই। এই যে ১৫ জন গিয়ে খেলে এলো, এদের কোন রিপ্লেসমেন্ট নেই। ৯৯ এ এই বুড়োরাই খেলবে, আমাদের সেকেন্ড পেসার, হাহ, ইন্টারন্যাশনাল খেলার মত সেকেন্ড পেসার একজন পেতে পেতে ফার্স্ট পেসার হারিয়ে গেলো, ১২৫+ গতির শান্ত ১৩৫+ তুলতে গিয়ে লাইন লেন্থ সব হারিয়ে ফেলেছে। জোড়াতালি দিয়েও পেসার মিলছে না। জিম্বাবুয়ে তো বটেই, কেনিয়াও বলে বলে হারাচ্ছে। সুজন থার্ড পেসার, স্পিনারের বলও বোধহয় ওর চাইতে বেশি গতির। আমাদের ভরসা সেই, বাঁ হাতি স্পিনার, তিনজন পার্টটাইম অফ স্পিনার। আমাদের ভারত পাকিস্তান সাপোর্টাররা এখনো বাংলাদেশকে সাপোর্ট করতে পারছে না একেবারে প্রাণ থেকে। বিশেষ করে পাকিস্তান সাপোর্টাররা, একই গ্রুপে পাকিস্তান বাংলাদেশ, একটা নোংরা মাছি। খুব আস্তে আমরা শিফটেড হচ্ছিলাম, নিজেদের টিমের দিকে। কত জল্পনা কল্পনা,  বাঁ হাতিপেসার, আহা শান্ত যদি গতি বাড়ানোর দিকে না ঝুঁকতে যেত। সুজন কি হাস্যকর একশনে বোলিং করে, একদম একটা গোলগাল পোকার মত লাগে, এই নিয়ে নাকি বিশ্বকাপ খেলবে। আমরা জানি  তো, বিশ্বকাপে আমাদের সবাই বলে বলেই হারাবে। কিন্তু ভাই, পরের বারে আইসিসি ট্রফি খেলে আবার আসতে পারবো কিনা জানিনা তো। আমাদের পাইপলাইনে কিচ্ছু নেই, এই বুড়োদের দলই আমাদের শেষ ভরসা। এটলিস্ট আমাদের এখন ওপেনিং ব্যাটসম্যান আছে।

৯৯, বিশ্বকাপ, ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ দল রওনা হবার আগে সংবাদ সম্মেলন করলো, হারজিত বড় কথা নয়, অংশগ্রহণই আসল। আমরা জানতাম তো, কি হতে চলেছে, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে খেলবে এই তো কত, আর কিছু আমাদের চাই না, ওরা বলে হারাতে চাইবে , টাইগারস তোমরা লড়ে হারবে। আর কিচ্ছু চাইনা। আচ্ছা স্কটল্যান্ডকে সেমিতে হারিয়েছুলাম। আমাদের গ্রুপেই, ওদের কি আরেকবার হয় না? আমাদের বুলবুল ইংল্যান্ডে খেলতো তো, হবে না? আমাদের জোড়াতালি বোলিং , কিন্তু রফিক আছে তো , বাঁ হাতি স্পিনে একটু তো চমকে দেবেই সবাইকে।   আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা আর বিশ্বকাপ একই সাথে। তাই বলে কি আর খেলা দেখা ছাড়া যায়, বাংলাদেশের খেলা তো একটা বলও মিস করা যাবে না। স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে দিলাম, বিশ্বকাপে ম্যাচ জয় পেয়ে গেলাম, আমাদের বাংলাদেশী দর্শকদের আশা পূর্ণ। নিউজিল্যান্ড ছেলে খেলা করে হারালো, অস্ট্রেলিয়া গলির ক্রিকেটার বানিয়ে ছাড়লো। আমাদের, সাপোর্টারদের কিচ্ছু ছেঁড়া যায় না তাতে, এমন হবে আমরা তো জানিই। এন্ড দেন পাকিস্তান ম্যাচ, ওরা সংবাদ সম্মেলনে বলছিলো , বাংলাদেশীরা নাকি ভাই এর মত, এ বাকি ভাই ভাই এর খেলা। আমরা গজরাচ্ছিলাম, অনেকেই। আমরা অনেকেই তখন সাবেক পাকিস্তান সাপোর্টার, পাকিস্তানকে সাপোর্ট করতাম বলে লজ্জিত হতে শুরু করেছি, ভাই তাই না, চুদির ভাই কোথাকার। আমার সবথেকে দুর্বল সাব্জেক্ট ছিলো ম্যাথ পার্ট টু, পরীক্ষার ঠিক আগেরদিন বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ। বাবার সাথে জরুরী বৈঠকে বসলাম, এমন ম্যাচ আর আসবে না , কোনটা আগে, ম্যাচ নাকি পরীক্ষা? অনেক যুক্তি তর্ক করে ডিসিশন নেয়া হলো, ফেল তো আর করবো না , আগে ম্যাচ, তারপরে অন্য কথা।


আমরা সেই স্পিন নির্ভর টিমই তো ছিলাম, কিন্তু দুজন বাঁহাতি স্পিনার অলরাউন্ডার খেলানোর সাহস আমাদের ছিলো না। মণি আর রফিক সমান ইফেক্টিভ ছিলো, বলে ব্যাটে। কিন্তু এক ম্যাচ রফিক, এক ম্যাচ মনি। যাকগে, তো আকরাম-ওয়াকার-শোয়েব-সাকলাইন আমাদের গিলে খেয়ে ফেলার চেষ্টা করলো, গিলেও ফেললো, কিন্তু লেজ বেরিয়ে রইলো। ২২৩/৯, সাকলাইন ৫/৩৫। জিতবি জেত, অল আউট তো করতে পারিস নি। ক্যাপ্টেন বুলবুল জুয়ো খেললো। দলের সবথেকে স্লো বোলার সুজনকে দিয়ে ওপেন করালো। সুইসাইড ওটা, সুইসাইড। সাইদ আনোয়ার আর শহীদ আফ্রিদির সামনে নতুন বলে ১১০-১২০ স্পিডের পেসার। আমরা খিস্তিয়ে লাট করে দিলাম, সুজনকে বল দিতে দেখে। প্রথম ওভারে আফ্রিদি আউট, চোখ বন্ধ করে চালাতে গিয়ে সুপার স্লোয়ার না বুঝে। সুজনের ৭ ওভারের ম্যাজিকের মত ওর এক স্পেলে পাকিস্তানের মেরুদন্ড ভেঙে গেলো। ১২.৩ ওভারে, ৪২/৫, আনোয়ার-আফ্রিদি-ইজাজ-ইনজি-মালিক আউট। কি থেকে কি হয়ে গেলো। আমরা পাগল হয়ে গেছি ততক্ষনে, পাগল। পাকিস্তানের তৎকালীন বিখ্যাত লম্বা লেজ, আজাহার-আকরাম-মইন, কিছুতে কিছু হলো না, আনবিলিভেবল। চাচা, সুজন, আমাদের দৃষ্টিতে ১১ জনের কোটা পুরণ করতে দলে রাখা। সে কিনা ম্যান অফ দা ম্যাচ হয়ে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে শ্যাম্পেনের বোতল নিচ্ছে (বাবার কাছে শুনেছিলাম, ইংল্যান্ডের মাঠে ম্যান অফ দা ম্যাচ হলে বোতল দেয়, সবাইকে নিতে দেখলাম, পাকিস্তানীদের নিতে দেখিনি, বাংলাদেশী কি করে সেটা দেখার আলাদা আগ্রহ ছিলো)। দিনকাল তখন অমনই ছিলো, অঘটন জন্ম না দিতে পারলে বাংলাদেশ জিততে পারতো না। আর আমাদের চাচাকে যে পাকিস্তানিরা খেলতে পারতো না, মুলতান টেস্ট তার প্রমাণ। আমদের ঐ দিনের মত খুশি বিশ্বকাপ জেতার পরেও অনেক সাপোর্টাররা হয় নি। ১০০ তে ৫২ পাওয়া মাফ হয়ে গেছিলো আমার, আর অন্য কিছু।



তারপরে তো ওয়ানডে স্ট্যাটাস, আর ডালমিয়ার বদান্যতায় তড়িঘড়ি টেস্ট স্ট্যাটাস। আমরা জানতাম আমাদের কি হাল, এই আশরাফুলের আগে, পাইপলাইন থেকে আমাদের কোন সম্ভাবনা ছিলো না। বিকেএসপি তখন সবে সাকিব, মুশফিকদের ব্যাচ তৈরী করছে। বুড়ো এবং কম বুড়ো অল্টার করে চালাতে হচ্ছিলো, বোর্ডকে। প্রতিটা ম্যাচ দেখতাম আমরা, দেখতাম কি করে এমনকি টাইট ম্যাচগুলোও ছেড়ে দিয়ে বেরিয়ে আসে, ক্রস ব্যাট স্ট্রেইট হয় না, শুধু স্নিক আর স্নিক, আউট সুইঙ্গার মানেই কুপোকাত, এক্সট্রা বাউন্স মানেই ক্রশ ব্যাট, কুপোকাত।  আহারে আমাদের বোলিং চলনসই ব্যাটিংটা যদি একটু হতো, একটু যদি ফিল্ডিংটা পাকিস্টান টাইপ না হতো, প্রাণ ভরে খিস্তাতাম ওদের ম্যাচ শেষে।  চোখে জল চলে আসতো একেকদিন, ঠিক করে ফেলতাম, এদের খেলা আর দেখবো না, ঠিকই পরের ম্যাচের আগেই ভুলে যেতাম আগের ম্যাচে কি হয়েছিলো। নতুন করে আশায় বসা। ম্যাচের পরে ম্যাচ হারতে দেখেছি, সিরিজের পরে সিরিজ হারতে দেখেছি, হোয়াইটওয়াশ হতে দেখেছি, আমাদের এগেইন্সটে বোলিং ব্যাটিং রেকর্ড হতে দেখেছি।   সমর্থন দিয়ে গেছি। ১০ বলে ১০০ রান যখন দরকার হয়েছে সমর্থন দিয়েছি, গিলেস্পি টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলেছে সমর্থন দিয়েছি, হেরে যাওয়া ম্যাচের শেষ বলে কেউ চার মারলে শেষ ওভারে কেউ উইকেট পেলেও উল্লাস করেছি। ছেলেরা চেষ্টা তো করে,  আমরা পাশে না থাকলে কি করে হবে। পাশে আছি, রণে বনে ঝড়ে ঝঞ্ঝাটে পাশে আছি। শত সহস্রবার হারুক, আমরা বাংলাদেশী সমর্থক, পরের ম্যাচে প্ল্যাকার্ড, পতাকা , পুতুল হাতে ফের লাফাবো।








কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন