রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সমকামীতা-ট্রান্সসেক্সুয়ালিটি ঃ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রেক্ষিত


আপনাদের মনে আছে জুলহাজ আর তনয় এর কথা? ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে জুলহাজ এর বাসায় ঢুকে তাদের দুজনকে হত্যা করা হয়। হত্যার কারণ ছিলো, তারা সমকামী অধিকার কর্মী। বাংলাদেশের একমাত্র সমকামীদের পত্রিকা রুপবান এর অন্যতম ফাউন্ডার। তাদের অপরাধ, তারা সমকামী। বাংলাদেশে ধর্মীয়, রাজনৈতিক এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর চাইতে বড় অপরাধ খুব কম আছে। জুলহাজ-তনয় হত্যার পরে এমনকি দেশের প্রধাণমন্ত্রী ,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যন্ত জুলহাজদেরকেই দায়ী করেন মৃত্যুর জন্যে। তাদের বক্তব্য ছিলো, নাকি বিকৃতি, জুলহাজদের নাকি উচিৎ ছিল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে পশ্চিমা বিকৃতিকে বর্জন করা। একবার ভাবুন তো তাদের মনুষ্যত্ববোধ। ভাবুন তো একবার এদেশের সমাজের মনস্তত্ববোধ। ২০১৪ সালে রূপবান ম্যাগাজিন এবং বয়েজ অফ বংলাদেশ নামে একটি গ্রুপ বাংলাদেশ জুড়ে জরিপ চালায়।  জরিপের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে সেখানে তারা বলছে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ সমকামী জনগোষ্ঠী রয়েছে। জরিপে তৃতীয় লিঙ্গকে আওতায় নেয়া হয়নি। সমাজ ও রাষ্ট্রের বক্তব্য , তাদের ১০ শতাংশ মানুষ নাকি শ্রেফ বিকৃতিতে আসক্ত। যেই দেশে ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে . কোটি মানুষ সমকামী, সেখানে সমকামীদের অধিকারের কি সার্বিক পরিস্থিতি তা দেখা যাকঃ

২০১৪
২০১৪ সালের ১৮ই জানুয়ারি দেশে সমকামীদের পত্রিকারূপবানপ্রকাশিত হলে তুলকালাম সৃষ্টি হয়। চারদিকে এগুলোকে নির্মূল করার আহ্বান জানানো হয়। বছরেরই পহেলা বৈশাখে প্রথমবারের মত রংধনু র‍্যালি আয়োজন করা হয়। এই খবরটি প্রায় নিউজ ব্ল্যাক আউট এর শিকার হয়। হাতে গোনা দু একটি খবরের কাগজে ছোট করে নিউজ আসে বটে, কিন্তু আপনি এখন হাজার চেষ্টা করেও তেমন কোথাও এই প্রথম র‍্যালির খবর খুঁজে পাবেন না। অনলাইন থেকে প্রায় মুছে ফেলা হয়েছে।

২০১৫
২০১৫ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর বৃটিশ কাউন্সিলে একটি সমকামী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেদিন ২০০-এর বেশি সমকামী তরুণ-তরুণী জড়ো হয়েছিল। যেখানেধীনামে একটি সমকামী কমিক উপস্থাপন করা হয়েছিল। আর এর চরিত্র ধারণ করেছিলেন দেশের খ্যাতনামা এক সাংস্কৃতিক দম্পতির মেয়ে। সেদিনকার সমাবেশে সমকামীদের অধিকারের পক্ষেনিজেরা করিএনজিওর সমন্বয়কারী নানা কথা বলেছিলেন। কারণে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। বৃটিশ কাউন্সিলের সমকামীদের সে সমাবেশের খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশে নিন্দা-প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়।

২০১৬
২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখে টিএসসি তে ফের একবার রংধনু ্যালির আয়োজন করা হয়। কিন্তু ্যালিটি ঠিক শুরুর মুখেই পুলিশ লাঠিচার্জ করে অংশগ্রহণকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। গ্রেফতার করে জন সমকামীকে। মূলত এই সময় থেকেই টার্গেট হন জুলহাজ মান্নান। যার পরবর্তিতে ২৫ এপ্রিল খুন হন জুলহাজ তনয়। থেমে যায় সমকামী অধিকার আন্দোলনের প্রকাশ্য সকল কার্যক্রম। গা ঢাকা দিতে হয় এই আন্দলোনের সম্মুখভাগের প্রকাশ্য মুখদেরকে।

২০১৭
২০১৭ সালের ১৯ মে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এর একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে গ্রেফতার করা হয় ২৮ জন সমকামীকে। সকলেই ছিলেইন সমকামি অধিকার কর্মী। তাঁদের সেই অপরাধেই  গ্রেফতার করা হয় বটে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে মুখরক্ষার খাতিরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে। আদালত তাদের মধ্যে থেকে জনকে রিমান্ডে পাঠায়। বছরেরই জুন মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে সমকামীদের মৃত্যুদন্ড বিলোপের বিপক্ষে ভোট দেয় বাংলাদেশ সরকার।

২০১৮
২০১৮ সাল প্রায় শেষের মুখে। এবছরই ভারতে এলজিবিটি অধিকারবিরোধী ৩৭৭ ধারা বাতিল করা হয়। কিন্তু ঠিকা পাশের দেশ বাংলাদেশে সমকামীদের অধিকার নিয়ে একটা টুশব্দও শোনা যায় না কোথাও। এতটাই নিপুণভাবে স্টিমরোলার চালানো হয়েছে, সমকামী অধিকার কর্মীরা জীবনের ভয়ে প্রকাশ্য কোন ধরণের কথা বলা তো দূরে থাক আজকাল হয়তো গোপনে একত্রিত হতেও আর সাহস পান না পার্শ্ববর্তী ভারতে এত বিশাল বিজ্যের পরেও তাই বাংলাদেশে সমকামীদের তরফ থেকে কোন মিডিয়াতেই কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি। সুনিপুণভাবে দমন করা হয়েছে তাদের অধিকারের দাবী।

তো গেল সমকামী অধিকার কর্মীদের কথা। তাদের বিরুদ্ধে এদেশের সামাজিক রাষ্ট্রীয়ভাবে  মনোভাবের দিকে একটু নজর বুলিয়ে নেয়া যাক। ৩৭৭ ধারা বাংলাদেশেও বিদ্যমান। এই ধারা অনুযায়ী সমকামীতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন সর্বনিম্ন শাস্তি ১০ বছরর কারাদন্ড। সাথে বাধ্যতামূলক অর্থদন্ড। কোন ধরণের ভিজুয়াল মিডিয়ায় সমকাম নিয়ে যেকোন ধরণের আলোচনা ব্লায়ক আউট এর শিকার। নেগেটিভ বা পজিটিভ কোন ধরণের কথাই আনফিশিয়ালি নিষিদ্ধ। প্রিন্ট মিডিয়াতে তথাকথিত প্রগতিশীল এবং রক্ষণশীল খবরের কাগজ বা পত্রিকাগুলো সমকামীদের নিয়ে সমস্ত আলোচনা পজিটিভ আলোচনা বয়কট করে চলছে। চালিয়ে যাচ্ছে নানাবিধ অপপ্রচার প্রচারণা। ভারতের আদালতে ৩৭৭ ধারা বাতিলের পরে, প্রাথিমকভাবে জনপ্রিয় সকল প্রিন্ট অনলাইন মিডিয়া দায়সারাভাবে তথ্য সম্প্রচার করলেও,   ডুকরে আর্তনাদ করে ওঠে বাংলাদেশের রক্ষণশীল মিডিয়া , নামকরা সমাজকর্মী এবং গোটা বাংলাদেশ সমাজ।  নিজেদের আধুনিক প্রগতিশীল দাবি করা জাতীয় দৈনিককালের কন্ঠধর্মের দোহাই পেড়ে প্রচার করেঃ

হাজারো বছর আগে লুত (.)-এর জাতি সমকামিতার মতো ঘৃণ্য অপকর্ম আবিষ্কার করেছিল। বর্তমান যুগেরসভ্যলোকেরা সে জাতিকে অজ্ঞ, অশিক্ষিত মূর্খ ছাড়া আর কিছুই বলে না। আশ্চর্য হলো, সেই অজ্ঞ, অশিক্ষিত মূর্খ জাতির মাধ্যমে আবিষ্কৃত এই সমকামিতা বর্তমানের সভ্যতা-গর্বিত লোকেরা সাদরে গ্রহণ করেছে! বর্তমানে পাশ্চাত্যের বেশির ভাগ ব্যক্তি সমাজজীবনে নৈতিকতার কোনো অস্তিত্ব নেই। পাশ্চাত্য জগতে অবাধ যৌনাচার কথিত সভ্য লোকদের পশুত্বের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়েছে। ফলে পরিবার গঠন, সামাজিক শৃঙ্খলা বিবাহ পদ্ধতি সেসব দেশে বিলুপ্তির পথে। সমকামিতার মতো ঘৃণ্য অপকর্ম লুত (.)-এর জাতির মাধ্যমে শুরু হলেও এর সপক্ষেযুক্তিবাদী ব্যাখ্যাদাঁড় করিয়েছে গ্রিক জাতি। তাদের দর্শন ঘৃণ্য অপরাধকে চারিত্রিক সৌন্দর্যের মর্যাদায় ভূষিত করতে চেষ্টা করেছে। গ্রিক সভ্যতার ধ্বংসস্তূপে আধুনিক ইউরোপের জন্ম। আর সমকামিতার বাস্তবিক কাঠামো তৈরিতে অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করেছে আধুনিক ইউরোপ। পশ্চিমা দেশগুলোতে এর সপক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

  জাগো নিউজ নামে একটি জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকাভারতে এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ এইডস এর ঝুঁকিতে পড়ে যাবে শীর্ষক প্রচারণা চালায়। তাদের বক্তব্য
সমকামিতার পক্ষের এই রায়কে দেশটির সমাজ কাঠামোর জন্য ঝুঁকি হিসেবেও বিবেচনা করছেন অনেকে। মরণঘাতি রোগ এইডস-এর বিস্তারেও সহায়ক হবে এই রায়, এমনটি মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রায়ে ভাবনা বাড়িয়েছে বাংলাদেশেও। ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা বাংলাদেশের সামাজিক রীতিনীতি এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বহু আগে থেকেই হয়ে আসছে। দুদেশের মানুষের মধ্যকার আচরণগত মিলও দৃশমান। বাংলাদেশে মরণঘাতি এইডস-এর বিস্তারে যে কয়টি কারণ উল্লেখযোগ্য তার মধ্যে ভারতের সীমান্ত অন্যতম। বিশেষত, পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে এইডস-এর ঝুঁকি বাড়ছে ভারতের সীমানা থেকেই। সীমান্তের স্থলবন্দরগুলোয় যৌনকর্মীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশাই ঝুঁকির কারণ বলে বিভিন্ন গবেষণায় ওঠে এসেছে।
সমকামিতা নিয়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের ব্যাপারে কথা হয় বাংলাদেশের সমাজবিদ সাবেক মন্ত্রী . মীযানূর রহমান শেলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই রায়টি বাংলাদেশ তো নয়-, ভারতের সমাজ বাস্তবতার সঙ্গেও যায় না। ভারতে এই রায়ের প্রভাব পড়লে, বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়বে। ভারতে এইডস-এর ঝুঁকি বাড়লে বাংলাদেশেও বাড়তে পারে।
একই বিষয়ে কথা হয়, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (ন্যাশনাল এইডস/এসডিসি কন্ট্রোল) ডা. শের মোস্তফা সাদীক খান-এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি ভারতের আদালতের রায় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে সমকামিতা বা যে কোনো বিকৃত যৌনকর্মই এইডস জন্য ঝুঁকি বাড়ায়। মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ায় আমাদের এখানে এমন যৌনকর্মকে কখনই সমাজ বা রাষ্ট্র সমর্থন করবে না। তবে পাশের দেশ ভারতে এইডস বিস্তার ঘটলে বাংলাদেশে ঝুঁকি বাড়তেই পারে!

রক্ষণশীল মৌলবাদি গোষ্ঠী পরিচালিত জনপ্রিয় দৈনিক নয়া দিগন্ত এই রায়ের পরে প্রচার করে
মূলত কথিত পশ্চিমা সভ্যতার বিকারগ্রস্ততা থেকেই সমকাম নামক ফেতনার আবির্ভাব হয়েছে। দ্বৈত যৌনজীবন একটি স্বীকৃত স্বাভাবিক মাধ্যম হলেও রুচিবিকৃতির কারণেই যৌনতাকে নানা অপবিশেষণ দেয়া হয়েছে। লত সব বিষয়ে যেমন স্বাভাবিক স্বীকৃত পন্থা আছে, ঠিক তেমনি যৌনতাও সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই সংবিধিবদ্ধ। অনেকে সমকামিতাকে মানবাধিকারের সাথে গুলিয়ে ফেললেও তা কোনো বিচারেই গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় না। সমকামিতাকে যদি মানবাধিকার বলা হয়, তাহলে ড্রাগ নেয়া, আত্মহত্যা নিজ শরীরের যেকোনো ক্ষতিসাধনকেও বৈধতা দিতে হবে। কারণ, সমকামিতা যেমন অন্যের অধিকার লঙ্ঘন বা ক্ষতি করে না, ঠিক তেমনি ড্রাগ গ্রহণ, আত্মহত্যা বা নিজের শরীরের ক্ষতিসাধনও ব্যক্তিসংশ্লিষ্ট। এতে অন্যের ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা থাকে না।
আসলে সমকামিতা কোনো কামাচার নয়, বরং রুচিবিকৃতির নিকৃষ্টতম পর্যায়। কারণ, এতে অতিপ্রাকৃত নিয়মের লঙ্ঘন করা হয়। মানুষসহ প্রত্যেক জীবের জৈবিক প্রবৃত্তি নিবৃতির জন্য একটি নিয়মতান্ত্রিক পন্থা রয়েছে। বস্তুত বিপরীত লিঙ্গের প্রতি শুধু মানুষ নয়, সব জীবই আকর্ষণ অনুভব করে। আর এভাবেই সৃষ্টির ধারাবাহিকতাও রক্ষিত হচ্ছে। মজার বিষয় হলো- মানুষ রুচিবিকৃতির কারণে বিপরীত লিঙ্গের পরিবর্তে সমলিঙ্গে আকর্ষণ অনুভব করলেও কোনো ইতর প্রাণীকে এমনটা কখনো দেখা যায়নি। যদিও সমকামিতার পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে কেউ কেউ ইতর প্রাণী বিশেষের সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণের কল্পকাহিনী প্রচার করে থাকেন। কিন্তু তথ্য-প্রমাণ যৌক্তিকতার মানদণ্ডে তা গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব হয়নি।

তো গেল সমকামীতা নিয়ে  বাংলাদেশের মূলস্রোতের অবস্থান। স্রোতের বিপরীতে চলা বাংলাদেশের নাস্তিক মুক্তমনা কমিউনিটি কিন্তু সমকামী অধিকার প্রসঙ্গে সুস্পষ্টভাবে দ্বিধাবিভক্ত। অধিকাংশই নিয়ে বিপক্ষে অবস্থান করেন। সমকামীতা এখানেও অধিকাংশের কাছে বিকৃতি। তাঁরাও সামাজিক প্রেজুডিস  ইনহিবিশন থেকে বেরোতে পারেন নি সকলে। মুক্তমনা আন্দোলনের পুরধা বাংলাদেশে সমকামীতা নিয়ে প্রথম বই এর রচয়িতা অভিজিত রায় , তাঁর স্ত্রী বন্যা আহমেদ, সমকামী অধিকারের পক্ষে নাস্তিক কমিউনিটির সবথেকে সরব কন্ঠ ছিলেন। অভিজিত এর জীবিত থাকাকালে তাঁকে নিজেদের কমিউনিটি থেকেও প্রচুর গালমন্দ শুনতে হয়েছে। নিরব এবং সরব দুরকমের অসহযোগীতাই পেতে হয়েছে সহযোদ্ধাদের থেকে। মৌলবাদীদের হাতে ২০১৫ সালে তিনি নিহত হবার পরে সেভাবে দৃঢ় কোন বক্তব্য আমরা আর কারো তরফ থেকে দেখি না। নাস্তিকেরা ধর্মের বিরুদ্ধে তাদের তথাকথিত জিহাদ চালানোয় যতটা ব্যস্ত, ধর্ম নিয়ে নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে যতটা সোচ্চার, দেশের ১০ শতাংশ মানুষের স্বাভাবিক যৌন অধিকারের প্রশ্নে তারা ততটাই নিশ্চুপ। এই মৌনতা কিন্তু সম্মতির লক্ষণ নয়, বরং এভাবে মৌন থেকে তাঁরাও প্রকারান্তে নিজেদের সমকাম বিরোধী অবস্থান প্রকাশ করছেন। হাতে গোনা দু চারজন সেলিব্রেটি এবং কতিপয় নন সেইব্রেটি নাস্তিকের থেকে কদাচিত বক্তব্য ব্যতীত সমকামীতার পক্ষে বিষমকামী লিবারালদের তরফ থেকে কোন ধরণের শক্তিশালী সমর্থন বা প্রচার আমরা পাই না। প্রকারান্তে এড়িয়েই চলেন তাঁরা।

তবুও আশার কথা জার্মানি ভিত্তিক বাংলা অনলাইন পোর্টাল ডয়েচ ভেল এবং লন্ডনভিত্তিক বিবিসি বাংলা পোর্টাল নিয়মিতভাবে সমকামী অধিকারের দাবী তুলে প্রবন্ধ প্রকাশ করে। বাংলাদেশের সমকামীদের বক্তব্য, তাদের পরিস্থিতি ফুটিয়ে তোলে। পুরোপুরি সমর্থনহীন অবস্থান হয়তো নয় এদেশের সমকামী জনগোষ্ঠী। তবে রূপান্তরকামী বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদেরকে নিয়ে আমি কাউকেই বলতে শুনি না, সমকামীদেরকেও না। তাঁরা সর্বত্র ব্রাত্য।

আমার এত কিছু লেখার উদ্দেশ্য খুব সিম্পল। আমাদের আসলে সময় পেরিয়ে গ্যাছে, আমাদের দেশের প্রান্তিক যৌনতার এই মানুষগুলোর সাংবিধানিক মৌলিক জীবনাধিকার নিয়ে কাজ করার। আমরা যারা নাস্তিক , নিজেদেরকে মুক্তমনা, প্রগতিশীল, লিবারাল, বিজ্ঞানমনষ্ক বলে দাবী করি, তারাই যদি সোচ্চার না হই এক বিশাল জনগোষ্ঠীর মৌলিক যৌন অধিকারের দাবীতে, না দাঁড়াই এই প্রান্তিক যৌনতার মানুষদের পাশে, তবে কিসের মুক্তমনা, কিসের অধিকার আদায় কর্মী আমরা? সমাজের মৌলবাদ, রক্ষণশীলতা, অধিকার হরণ অতীতমুখীতার বিরুদ্ধে কিসের সংগ্রাম আমাদের , যদি আমরা এই প্রান্তিক যৌনতার মানুষদের সহযোদ্ধা না হতে পারি? শুরু হোক প্রতিবাদ, প্রতিরোধ। যুদ্ধে আসুক নতুন মোড়। আসুন সবাই একজোট হয়ে  লড়াই করি ভালোবাসার অধিকার আদায়ের লক্ষে, মানবাধিকারের পক্ষে, সাংবিধানিক অধিকার, নিজস্ব যৌন অধিকারের পক্ষে। আমাদের কিন্তু আসলেই হারানোর কিছু নেই

যাপিত জীবন - ১১


ধর্মতলা থেকে নিউমার্কেট হয়ে মিউজিয়াম, বার তিনেক পাক খেতে খেতে বোধহয় হলো, কোলকাতা শহরে একা একা একা সময় কাটানো প্রায় ঢাকার মতই বোরিং। উদ্দেশ্যবিহীন কত ঘোরা যায়। দিনটা ছুটির বলে তাঁর সাথে দেখা কিছুতেই হবে না, তিনি গৃহবন্দী। অগত্যা তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “বল তো আমি এই বিশাল শহরে একাকী কি করে আরো কয়েকঘন্টা পার করতে পারি, ঘরে ফিরে আরো বোর হওয়া সম্ভব না। এ আমার শহর নয়, এ তোর শহর তুইই বুঝবি ভালো।

তিনি যেকটা সাজেশন দিলেন, ভেবেচিন্তে আমার পছন্দ হলো নন্দন। শুনেছিলাম, নন্দনে নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের খানিকটা ছোঁয়া আছে। দলবেঁধে বহু লোকে শুধু আড্ডা দিতেই যায়। তো ভাবলাম যাই বরং দেখে আসি আড্ডা কিভাবে চলে এই শহরে। জেনে নিলাম, মেট্রোয় চেপে এসপ্লানেড থেকে রবীন্দ্র সদন স্টেশন গিয়ে নামতে হবে। ১০/১৫ মিনিটের পথ। আড্ডা দেখে সময় পার করা কনসেপ্টটা নতুন। তাই সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই রবীন্দ্র সদন পৌঁছে গেলাম। নামার পরে পুরো তালগোল পকিয়ে গেল। এবারে বেরোবো কোন পথে? /৪ টে পথ পাতাল থেকে উপরে ওঠার, চক্কর কাটতে থাকলাম, ম্যাপ দেখেও ঠিক বুঝলাম না, কোন দিকে উঠবো। আরো অনেকেই দেখলাম আমার মতই চক্কর কাটছে, ভাবলাম এটাই হয়তো রীতি। জিজ্ঞেস করে খুব সুবিধা হলো না, যাকেই জিজ্ঞেস করি, কাকতালীয়ভাবে সেইই দেখি আমার মত কেস। আমার ভারি ইগোতে লাগলো, এভাবে আটকে যাওয়া অপমানজনক। সামনে যেই পথ পেলাম উঠে পড়লাম উপরে। জিপিএস অন করে দেখলাম, আমি নাকি প্রায় ১ কিলো দূরে। এমনই হবার কথা, আমার লটারীভাগ্য জঘন্য।        

পৌঁছে নাহয় গেলাম, এবারে করবোটা কি জুন মাসের এর এই ঝাঁ ঝাঁ দুপুরে। ছোট্টই তো যায়গা দুপা দুপা করে আটদিকে হাঁটলেই শেষ। লোক দেখি প্রচুর, কিন্তু আড্ডা তো দেখি না। চিন্তা করে দেখলাম, আড্ডা হয়তো শেষ বিকালে জমে। সেপর্যন্ত উপায় একটাই, একটা যায়গা বেছে নিয়ে বসে ফোনে বই পড়া। তবে, তার আগে চা। ফাইন আর্টস এর দিকে গেটের পাশে চায়ের দোকানের ভাঁড় দেখে খুব পছন্দ হলো। বেশ বড় সাইজের ভাঁড়, ১০ টাকা করে অনেকটা চা। ওমা চা’ও দেখি ভালো। কোলকাতায় ঢোকার পর থেকে চায়ে কিছু একটা মিসিং মনে হচ্ছিলো। বাংলাদেশে আমরা যেমন খেয়ে অভ্যস্ত কিছুতেই যেন তেমন না। কিন্তু এই একটা চা, যা খেয়ে কোন মিসিং লিঙ্ক খুঁজতে হলো না। প্রায় ঘন্টা ২/৩ তিন পার করে দিলাম, যায়গা বদল করে করে বসে বই পড়ে। কিন্তু কিছুতেই যে শান্তি মেলে না। মিলবে কি করে? লোকের আড্ডা দেখে ঈর্ষা হচ্ছে তো। সন্ধ্যার একটু আগে মনে হলো, এনাফ ইজ এনাফ। যথেষ্ট হয়েছে। আই কুইট। এর চাইতে মে বি ঘরে বসে বোর হওয়াও ভালো। সবাই আড্ডা দিচ্ছে আশেপাশে,আর আমি ছিঁড়ছি। লাস্ট একটা সিগারেট খাবো, দেন কেটে পড়বো। এগিয়ে গেলাম একাডেমি বিল্ডিং এর পাশে সিগারেটের দোকানে। সিগারেট ধরিয়ে দুপা এগিয়েছি, পাশের রোল এর দোকান থেকে আওয়াজ এলো, দুটো এগ রোল দিন। ইন্সটিংক্ট বড় আজব জিনিস, পাশের আওয়াজে ঘুরে তাকানোটা এবসেন্ট মাইন্ডেড ইন্সটিঙ্কট। ঝাঁকড়া চুল আর অন্তত দুসপ্তা’র দাড়ি মুখে একটা ছেলে টাকা হাতে দাঁড়ানো। আরেহ যাহ বাঁড়া , এটা কৌস্তভ না?

দুজনের বহু প্ল্যান ছিলো আমি কোলকাতা গেলে আমরা কি কি করতে পারি। সবথেকে বড় প্ল্যান ছিল , আড্ডা দিতে পারি জমিয়ে। কিন্তু দেখা হওয়া তো দূরে থাক, আমি যাওয়ার ৩/৪ দিনের মাথায় হোয়াটসএপ এও কথা বন্ধ করে দিলো ছোকরা। প্রচন্ড চটে ছিলাম মনে মনে। কিন্তু ঐ সময়ে আমি প্রচন্ড মজা পেয়ে গেলাম। আমি চিনে ফেলেছি, কিন্তু আমাকে দেখেইনি। সাথে দেখলাম, প্রচন্ড মোটা লেন্সের চশমা পরা রোগা একটা ছেলে। আমি যখন মিটিমিটি হাসি নিয়ে ওদের চারপাশে বারবার ঘুরে ডাইনামিক এন্ট্রি প্ল্যান করছি, ছেলেটা দেখলাম আমকে খেয়াল করে বারবার সন্দেহ নিয়ে তাকাচ্ছে। স্বাভাবিক, আমার আচরণ সন্দেহজনক ছিলো তো বটেই। শেষমেষ , নাটকীয়তা আর না বাড়ীয়ে জোর গলায় বললাম, “কৌস্তভ, বলো তো, তোমাকে আমার  এখন কি করা উচিত?” রোল চিবোনো থমকে গেল। আমার দিকে মুখ তুলে, জাস্ট তাকিয়ে রইলো, অন্তত ঝাড়া ১৫ সেকেন্ড। প্রতি ক্ষণে ক্ষণে মুখে অনুভূতির এত পরিবর্তন আমি আগে দেখিনি কখনো। হতবাক, খুশি, অপ্রস্তুত, উচ্ছাস আরো কতরকম শেড। “আবাহন দা এটা তুমি?” চিৎকার দিয়ে এক লাফে জড়িয়ে ধরলো কৌস্তভ।

কিচ্ছু মনে রইলো না আমাদের, রাগ, বিরক্তি, হতবিহ্বলতা, কিচ্ছু না। মনে হলো আড্ডাটা জাস্ট সুইচ টিপে অন করে দেয়া হলো। চশমাওলা ছেলেটার নাম জানলাম সৌরজিত। শুরুতে একটু জড়তা থাকলেও , আমাদের উচ্ছাসের তোড়ে ওও ভেসে গেল। মনেই হচ্ছিলো না যে এই প্রথম আড্ডা দিচ্ছি, আগে সামনাসামনি দেখা হয় নি, বা সৌরজিতের ক্ষেত্রে এই প্রথম পরিচয়। প্রাণোচ্ছল আড্ডা বোধহয় একেই বলে, যেটার খোঁজে আমরা হয়ত তিনজনেই ছিলাম। কি করবো আর কি করবো না , তাই নিয়ে ভাবতে ভাবতে, কৌস্তভই বোধহয় জিজ্ঞেস করলো, দাদা ফাইন আর্টস এ ঢুকেছো কখনো? আমি আজই এলাম প্রথম, ওখানে কি ঢুকবো। তো দুজনেই বললো, চলো চলো, ইন্টারেস্টিং জিনিস আছে। ভাবছিলাম, কি এমন থাকত পারে একটা আর্ট গ্যালারিতে, যা আমার মত আর্ট জ্ঞানহীন পাবলিকের জন্যে ইন্টারেস্টিং হবে। একবার দু’বার বোধহয় বলেওছিলাম, যে সময়টা খামাখা নষ্ট করার দরকার নেই। একটু বাদেই ফিরতে হবে, সন্ধে পেরিয়েছে। ওরা জোর করেই ধরে নিয়ে গেল। টেনে নিয়ে দাঁড় করিয়ে দিলো, এক শিল্পীর প্রদর্শনীর সামনে। জাস্ট হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। লিটারালি হাঁ, মেটাফরিক না। ছবি আমি একেবারে যে দেখিনি তা তো না। কিন্তু এ আবার কিরাম ছবি। ছোট্ট একটা এবসট্রাক্ট মাথা, সুতোর মত বডি নেমে গিয়ে বিশাল আকৃতির পাছা, তাতে  শুঁড়ের মত পা। গোটা সিরিজটাই এমন। নানান ভঙ্গিমায়, এই একই জিনিস। ঘুরেফিরে শুধু বিশাল পাছা। আরো বেশ কজন শক্ত শক্ত মুখ নিয়ে বোদ্ধার মত করে মাথা নাড়িয়ে দেখছে ছবিগুলো। একবার ভবলাম কাউকে বলি কেসটা বুঝিয়ে দিতে। বেটার জাজমেন্ট মানা করলো। এখানেই শেষ নয় বস, ছবির নিচে আবার দামও লেখা আছে। দামের অংক দেখে আমার মনে হলো আমার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, সব ছবিই কুড়ি হাজারের উপরে। আমরা তিনজনে একে অন্যের দিকে তাকিয়ে আচমকা হল কাঁপিয়ে হেসে উঠলাম। আশেপাশের অনুরাগীরা হয়তোবা বিরক্ত কয়েই তাকালো আমাদের দিকে , কে কেয়ার করে। সবাই কি আর শিল্পের কদর বোঝে? আমরা ঠিকঠাক বুঝেছি, ওগুলো কমেডি ছবি।

আমি বললাম, আজকের মত আমার এবসট্রাকশন হজম করার ক্ষমতা শেষ, আর কিছু দেখাতে চাও? পাশের গ্যালারিতে গেলাম, কি চমৎকার সব ল্যান্ডস্কেপ আঁকা। একটু দূর থেকে দেখলে মনেই হয় না যে হাতে আঁকা। অপর পাশের দেয়ালে নানান থিমেটিক ছবি। এই মনে হলো , না আসলেই উপভোগ করতে এসেছি আমরা। কিন্তু লোকের ভালো অন্যের সহ্য হবে কেন। গ্যালারির লোক এসে বললো, এবারে কেটে পড়ূন, আমরা বন্ধ করবো। চাপা স্বরে বাছা বাছা খিস্তি দিতে দিতে বেরিয়ে এলাম। অনেক বাজে, আমাকে ফিরতে হবে সোনারপুর, সৌরজিতকে দমদম, কৌস্তভই কেবল কাছেকোলে। তবুও আড্ডা ছাড়তে মন চায় না, একেই মে বি আড্ডাবাজ বলে। অন্তত একটা চা খাওয়া যাক, ওটা তো ডিউ আছে। সেই ১০ টাকার ভাঁড়। চা শেষ করে হাতুর তালুতে আঙুলের চাপে ভাঁড় ভাঙার ছেলেমানুষী। তবুও শেষ হতে হয় একসময় , সময়। ফিক্স হলো, নেক্সট শনি, ঠিক বিকাল ৪ টেয়। এভাবেই শুরু নন্দনে আমাদের ৩ জনের বিখ্যাত আড্ডা। যেই আড্ডায় কখনো সঙ্গী ছিলো কোন ইভেন্ট কাভার করতে আসা রিপোর্টার, যে আমাদের গাঁজা খাইয়েছিল। কখনো সঙ্গী ছিলো দিল্লী থেকে শর্ট ফিল্ম বানাতে কোল্কাতায় আসা এক মুসলিম ছেলে, যার ধারণা মানুষ যখন তখন হোমোসেক্সুয়াল হয়ে যেতে পারে। কখনো বা সঞগী ছিলো আমার বাঁকা হয়ে যাওয়া গিটার বা কৌস্তভের নিয়ে আসা গাঁজা। সময় উপভোগে এতই ব্যস্ত থাকতাম আমরা, টানা প্রায় ৩ মাস আড্ডার পরেও আমাদের কোন গ্রুপ সেলফি নেই। দরকার হবে মনেই আসে নি। হয়তো ভেবেছিলাম, এভাবেই যাবে দিনগুলো। ট্র্যাজেডি উইল নেভার কাম। কিন্তু তখন কি জানতাম, ট্র্যাজেডিই যে ভবিতব্য। সে অন্য দিনের জন্যে তোলা থাক।

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০১৬

বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্মৃতি রোমন্থন

১)
অক্টোবর ১৯৯৯ থেকে মার্চ ২০০৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ টানা ৭৫টা আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয় দেখে নি, ৭১ টা হার, দুটো ড্র, দুটো বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত।
২০০০ সালের জুন এ বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার মুহূর্তে, বাংলাদেশের কোন ফার্স্ট ক্লাস টুর্নামেন্ট ছিল না। স্কুল ক্রিকেট হত ৩৫ ওভার নক আউট, ক্লাব ক্রিকেটে ছিল শুধুই ওয়ান ডে। আন্তঃ জেলা টুর্নামেন্টের শেষ ধাপ, যেখানে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়নরা মুখোমুখি হয়, ৩ দিনের ম্যাচ হত। কিন্তু ফাইনাল ছাড়া আর কোন ম্যাচ আদৌ ৩ দিনে গড়াতো কিনা সন্দেহ। অর্থাৎ বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ ডিউরেবিলিটি ছিল ৩ দিন। ফলে নভেম্বরে প্রথম টেস্টে কি হলো, তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল এর ভাষ্যে জেনে নেয়া যাক, ”চতুর্থ দিন আসতে আসতে আমরা ভুলেই গেলাম, যে আমাদের আরো ১৮০ ওভার বাকি আছে। আমাদের ড্রেসিং রুমের অবস্থা পুরো মেছোহাটের মত, মন্ত্রী আসছেন, বিসিবি প্রেসিডেন্ট, অতিথিরা আসছেন, সাবেক কোচরা আসছেন। অভিজ্ঞতার অভাব শুধু খেলোয়াড়দের না, সবার মধ্যে। ইংল্যান্ড এ, হায়দ্রাবাদ ব্লুজ এরকম দলের সাথে ৩ দিনের ম্যাচ খেলা টুকটাক অভিজ্ঞতা আমাদের ছিল, কিন্তু আমাদের কোন ধারণাই ছিল না, ৫ দিনের ম্যাচ আসলে কি। আমরা টেস্ট খেললাম ৩ দিনের ম্যাচের মত। প্রথম তিন দিন আমরা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় তাও ছিলাম, চতুর্থ দিন থেকে আমরা পুরো অবিন্যস্ত, হারতামই”।

ক্রিকেট বোর্ড চলত তুঘলকি কায়দায়। এই আজকে প্রচুর খরচ করে এস্ট্রো টার্ফ বসানো হচ্ছে, দু’বছর পরের টুর্নামেন্টের জন্যে, এই আচমকা সবার প্রিয় কোচ গ্রিনিজকে বরখাস্ত করা হচ্ছে, কারণ খেলোয়াড়দের অভাব অভিযোগ ,সুযোগ সুবিধা নিয়ে তিনি বেশী মাথা ঘামান। ৯৯ সালের বিশ্বকাপ’এর এক বছর আগে ইংল্যান্ডে কন্ডিশনিং এ জাতীয় দলকে পাঠাতে প্রায় এক কোটি টাকা (১২৭০০০ ইউএস ডলার প্রায়) খরচ করা হলো, কিন্তু ৯০ দশকের গোড়ায় বাৎসরিক ৩০০০ ডলার বেতনে ডেভ হোয়াটমোর সেধে এসেছিলেন, কোচ করা হয় নি। বুলবুল এর ভাষ্যে, না তারা হোয়াটমোর সম্পর্কে জানতো, না আদৌ জানার কোন চেষ্টা তাদের মধ্যে ছিল। ১৯৯৯ থেকে টানা ৪৭ ওয়ানডে ম্যাচে ৩৯ জন নতুন মুখ আনা হয়েছিলো, (যা একটি বিশ্বরেকর্ড)।
২০১৪ সালে একের পর এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ হার, ৩৫ ম্যাচে ২২ টা। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ শুধু নেপাল , জিম্বাবুই আর আফগানিস্তানের সাথে ম্যাচ জিতেছিলো, আফগানদের সাথে একটা ম্যাচ হেরেছিলোও। পরের ম্যাচ র‍্যাঙ্ক টার্নার পিচ বানিয়ে জেতে।

কেন?

২)
বর্তমান “বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড” এর প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৭২ সালে “বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড” নামে। একটা টেবিল সহ এক রুম এবং লাগোয়া ছোট্ট রান্নাঘর নিয়ে ছিল অফিস। রান্নাঘরে ছিল একটা সাইক্লোস্টাইল ছাপার মেশিন আর একটা কেরোসিন স্টোভ। অফিসের পিওন ওখানে নিজের সাইকেল এবং আনুসঙ্গিকও রাখতো, এই অফিসটাই তার থাকার যায়গা ছিল। অফিস কর্মকর্তারা স্টোভে চা ফুটিয়ে নিতো, পিওন রাঁধতো ভাত। মাঝে মাঝেই ক্লাব কর্তারা আসতো বোর্ড অফিসে, এসে পিওনকে পাঠাত পাশের ফুটবল ফেডারেশন অফিসে পরিচিত কেউ আছে কিনা দেখতে। চেনা লোক থাকলে টুক করে তারা ফেডারেশন অফিসে গিয়ে গল্প জুড়ে দিত, কারণ তাহলে কিঞ্চিত চা-নাস্তা মিলবে। ক্রিকেট বোর্ডের সামর্থও ছিলো না, সামান্য চা-নাস্তার ব্যবস্থা করে
বোর্ডের বর্তমান ডিরেক্টর আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি’র স্মৃতিচারণে ফুটে ওঠে সেই সময়ের কথা। তখন ১৯৭৬-৭৭ মরশুম। আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে ক্রিকেটারদের প্র্যাকটিস সেশনের সময় সামান্য কোন খাবারও তাদের দেয়া যেত না। টাকা ছিলো না বোর্ডের। ববি রেডক্রসের অফিসে গিয়ে রিলিফের জন্যে আসা আহাই–প্রোটিন বিস্কুট চেয়ে নিয়ে আসতেন, প্লেয়ারদের খাওয়াতে। কিন্তু রিলিফ বিস্কুট দিয়ে তো ক্রিকেট হয় না, ক্রিকেট একটা স্পোর্টস, যেখানে সরঞ্জাম, মাঠ, আম্পায়ার ইত্যাদির জন্যে টাকা চাই। ক্লাবগুলো যদি জাতীয় দলের সাহায্যার্থে না এগিয়ে আসতো সেসময়, আজ হয়তো এতদূর ক্রিকেট গড়াতোই না। ববি বলেন, ”আইসিসি স্ট্যাটাস, টেস্ট পারফরমেন্স দূরে থাক, একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পেলেই আমরা খুশি থাকতাম”
১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে। চার বছর পরে, অস্ট্রেলেশিয়া কাপে বাংলাদেশের সপ্তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ, অস্ট্রেলিয়ার সাথে। অজি অফ-স্পিনার পিটার টাইলর বাংলাদেশের তৎকালীন সেরা ব্যাটসম্যান আকরাম খানকে আগে কখনো ব্যাটিং করতে দেখেন নি। তিনি একটা বল করলেন আকরামের বিরুদ্ধে, সাথে সাথেই লেগ সাইডে একজন এক্স্ট্রা ফিল্ডার দাঁড় করিয়ে দিলেন। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা অবাক, এটা কি হলো? কেমন হলো? কেম্নে কি? একটু পরেই তাঁরা সবাই বুঝে গেলেন, আকরামের বটম-হ্যান্ড ব্যাট গ্রিপিং টাইলর বুঝে গেছেন। গ্রিপ দেখেই বুঝেছেন, আকরাম লেগ সাইডে বেশী খেলেন। আকরাম ওই ম্যাচে করেছিলেন ৪৪ বলে ১৩, বাংলাদেশ ধুঁকতে ধুঁকতে ৫০ ওভারে ১৩৪। এমন কিছু এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট ঠিকঠাক জানতোই না।

নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ মানেই যে মুহূর্তে সব এক্সপোজড, এই অতি সাধারণ বোধটা এর পরেও পুরোপুরি আসার সুযোগ ছিলো না, কারন একটাই। বাংলাদেশ ক্রিকেটে বোর্ডের চাইতে ক্লাবের দৌরাত্ম বেশী থাকা। তখন অবশ্য ক্লাবের বদান্যতায় জাতীয় দল চলত, পয়সা দিই ব্যাডা, স্বাভাবিক। আর কবে কোনকালে বছরে ১/২ ম্যাচ, কি আসে যায়? কিন্তু হচ্ছিলো টা কি আসলে? “যে কোন মূল্যে ম্যাচ জিততে হবে” ক্লাবগুলোর এটাই ছিলো মূলমন্ত্র। আর বংলাদেশের এভারেজ পিচে কে ম্যাচ জেতাতে পারে? কে আবার? অফব্রেক ফিঙ্গার স্পিনার। জোরের উপরে বলটা ছেড়ে দাও, আনইভেন বাউন্স আর মিনিমাম স্পিনেই হয়ে যাবে। ফাস্ট বোলারদের অস্তিত্বই ছিলো না বলতে গেলে, দুই চারজন যাও বা লিগ পেত , ম্যাচ পেত না। না, আপনাদের অনেকেরই ভুল ধারণা, যে বাংলাদেশ বরাবর বাঁহাতি স্পিনের খনি। ২০০০ এর গোড়ায় রফিকের উত্থানের পরেই শুধু বাঁহাতি স্পিন ওভারহাইপড হয়, তার আগে ঐ জোরের উপরে ডানহাতি স্পিনই হতো। ট্রাজেক্টরি চেঞ্জ করতে হাত বাঁকানো সোজা করা আকছার চলতো। তো এদিকে আন্তর্জাতিক খেলতে এসে বাংলাদেশ দল পেল শুধু আনরিলায়েবল একদল বোলার, আনরিয়ালেবল একদল ব্যাটসম্যান, এবং মোহাম্মদ আশরাফুল, যিনি কুম্ভকর্নের মত বছরে দু বার ঘুম থেকে জেগে ভালো ইনিংস খেলেন।

২০০৭ এর গোড়ায় কিছু ন্যাচারাল তরুণ ক্রিকেটার প্রায় স্থায়ী হলো বাংলাদেশ দলে; তামিম, সাকিব, মুশফিক, আফতাব, নাফিস, নাজিমুদ্দিন, কাপালি । ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারত , সাউথ আফ্রিকাকে হারালো এই টিম। তারপরের বছরই প্রতিবেশী দেশের ধাক্কা, ICL (ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ)। বোর্ডবিদ্রোহী লিগ খেলতে গেলো; আফতাব, যার কথা তামিম বলেন বাংলাদেশ দলের সবথেকে বড় ক্ষতি; অলক কাপালি, ২০০৮ এশিয়া কাপ এ ভারপ্তের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি ছিলো; শাহরিয়ার নাফিস, অস্ট্রেলিয়ার সাথে টেস্ট সেঞ্চুরি ছিলো। বাংলাদেশ ১৫ জনের স্কোয়াডে ফার্স্ট চয়েস এমন ৬ জন প্লেয়ার নাম লেখালেন আইসিএল এ। ফলাফল তামিমের মুখে, “একটা গ্রুপ হয়ে আমরা ২০০৭-৮ এ অনেকগুলো ম্যাচ খেলে ফেলেছিলাম। সবার অভিজ্ঞতা বাড়ছিল। সবাই জয়ের স্বাদ পাচ্ছিল। ঠিক এমন সময় আমাদের বাধ্য হতে হলো একদম নতুন একটা দল তৈরী করতে, তাদেরকে আরো ২/৩/৪ বছর সময় দিতে। আইসিএল এ খেলতে যাওয়া প্রতিটা সক্রিয় খেলোয়াড়কে প্রাথমিকভাবে ১০ বছরের জন্যে বাংলাদেশ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো।

৩)
এরপরে জিমি সিডন্সকে বাংলাদেশ দল তৈরীটা একদম স্ক্র্যাচ থেকে শুরু করতে হয়েছিলো। সেই বিল্ড আপ প্রোসেস চলতে চলতে কখনো তামিম, কখনো সাকিব, কখনো মাশরাফির ইন্ডিভিজুয়াল পারফরমেন্স। সিডন্সের পরে স্টুয়ার্ট ল আর ইউর্গেনসেন এর সাথে ২০১১, ২০১৩ নিউজিল্যান্ড সিরিজ জয়, মাহমুদুল্লাহ, নাসিরদের মত পারফরমারদের আগমন, সামনে নিজের দেশে ওয়ার্ল্ড টি২০, এশিয়া কাপ সব মিলে ২০১৪ তো সাফল্যের চুড়ায় ওঠারই কথা ছিলো। কিন্তু ২০১৪ তে বাংলাদেশ দলের পিঠ একেবারেই ঠেকে গেলো দেয়ালে, কিছুতেই ম্যাচ জেতাটা আর হয়ে উঠছিলো না। সেই সাথে ২০১৪ সালে বড় ৩ বোর্ড ক্রিকেট বিশ্বকে হাতের মুঠোয় পুরে ফেললো। বাংলাদেশের ভয় , তারাই সবার আগে হয়তো দ্বিতীয় সারিতে নেমে যাবে, এতদিনের সব পরিশ্রম বৃথা।
কোথায় ফলদায়ক বছর হওয়ার কথা, উল্টো একগাদা ক্লোজ ম্যাচ হেরে গেলো – ২ রান, ১৩ রান আর দুইবার ৩ উইকেটে শ্রীলংকার সাথে, পাকিস্তানের সাথে ৩ উইকেটে, হংকং এর সাথে ২ উইকেটে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ৩ উইকেটে। ভারতের সাথে ২৭৯ করে হেরেছে, পাকিস্তানের সাথে ৩২৬ করেও। ৬৭ রানে শ্রীলঙ্কার ৮ উইকেট ফেলে দিয়ে, হেরেছে। ভারতকে ১০৫ অলআউট করেও হার, পরের ম্যাচে ভারতকে ১১৯/৯ এ দাঁড় করানোর পরে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়। তামিম বলেন, “জয়ের অভ্যাসই যদি না থাকে, কি করে জিততে হয় তা আপনার ধারনাতেও থাকবে না। একটা সময় ছিলো, আমরা জানতামই না ,আসলে ম্যাচ জেতার জন্যে কি করতে হয়”।

২০১৫ এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে এই যে জয়ের অভ্যাস, জয়ের ধারা চলছে, এমনি আসেনি। আসলে একটা সময় আসতেই হতো, হয়তো এক বছর আগেই আসতো ২০১৪ সালে, কিন্তু এমনটা হতোই। হয়তো ঘরের মাঠে, তাও জয়টা অভ্যাস করাটাই তো আগে কখনো হয়ে ওঠেনি। এখন খুব সতর্কতার সময়, ক্রিকেটিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দলের জন্যে, সমর্থকদের জন্যে। এই দুই বছরে বাংলাদেশ দল দেখিয়েছে, দেশের মাটিতে তারা যে কোন ম্যাচ জিততে পারে। অন্তত ওয়ান্ডে ম্যাচ এ তারা আশা করে যে কোনখানে য্বে কাউকে হারাতে পারবে। ক্রিকেটাররা নিজেদের অল্পবয়সী খামখেয়ালিপনা ছেড়েও বেরিয়ে এসেছেন। তাঁরা ঘরের মাঠে এবং দেশের বাইরে পেশাদারিত্বের সাথেই ক্রিকেটে আরও জয় আনবেন, অন্তত জেতার চেষ্টা করবেন, এটা সমর্থক সহ সকলের কাম্য। সমর্থকের মধ্যে সহিষ্ণুতা চাই, জিতছে মানেই অতীত ভুলে যাওয়া নয়, জিতছে মানেই প্রতিপক্ষ দেশ নোংরামির লক্ষবস্তু নয়, এটুকু পরিপক্কতা বাংলাদেশের আবেগী একনিষ্ঠ সমর্থকদের থেকে আশা করাই যায়। বাংলাদেশ দল এরপরে শুধু জিতবেই না, আরো অনেক ম্যাচ হারবেও, এটা ভুলে যাওয়া কারোই উচিৎ হবে না।

http://www.thecricketmonthly.com/…/1046331/we-are-bangladesh এই আর্টিকেল থেকে সংক্ষেপিত

সোমবার, ৩০ মে, ২০১৬

ইসলামের উত্থানে রোমান ক্যাথলিকদের ভুমিকা - একটি কপটিক গল্প

এক বিষয় নিয়ে তথ্য খুঁজতে গিয়ে আকষ্মিকভাবে মাঝেমধ্যে অদ্ভুত  অদ্ভুত এক একটা বিষয় নজরে আসে।  তেমনি, সেদিন নজরে এলো, একটা Web Text Repository. কপ্টিক খ্রিস্টানদের সাথে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের বা আরেকটু বিস্তারিতভাবে দেখলে, ক্যাথলিকদের সাথে প্রোটেস্টেন্টদের বিরোধ নিয়ে মূলত: এই ওয়েব লাইব্রেরি। কপ্টিক অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা নিজেদেরকে প্রকৃত খ্রিস্টান ভাবে, রোমান ক্যাথলিকরা ওদের দৃষ্টিতে ভন্ড স্বার্থান্বেষী। কপ্টিক ক্রিশ্চিয়ান সম্পর্কে একটু ছোট্ট ইন্ট্রো দেই, কনস্ট্যানটাইন ক্যাথলিক ক্রিশ্চিয়ানিজম আমদানি করার আগের ৩০০ বছরে, রোমান এবং ইহুদীদের তাড়া খেয়ে প্রারম্ভিক যুগের খ্রিস্টানরা উত্তর আফ্রিকা এবং আরব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ওদের বক্তব্যমতে Mark the Evangelist এই কপটিকদের নিয়ে বেরিয়ে আসে এবং আরব ও আফ্রিকায় ছড়িয়ে দেয় খ্রিস্টের গসপেল (ক্যাথলিক গসপেল এর সাথে বেশ কিছু অমিল আছে, কপটিকদের ভাষায়, রোমানরা নিজেদের সুবিধামত চেঞ্জ করে নিয়েছে)। 

নিচে আমি লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি, স্বাভাবিকভাবেই ইংরেজীতে সবকিছু। যাঁরা ইংরেজী দেখলেই সাপ দেখার মত আঁতকে ওঠেন, তাঁদের জন্যে সংক্ষেপিত একটা অনুবাদ দিচ্ছি, মূল বক্তব্য বুঝতে পারবেন। কিন্তু পুরোপুরি রস আস্বাদন করতে হলে, আপনাকে মূল লেখাটা পড়তে হবে। এদের বক্তব্য অনুসারে মূল লেখাটা Alberto Rivera নামে একজন সাবেক Jesuit প্রিস্টের, যিনি পরবর্তিতে প্রোটেস্টেন্ট মতে কনভার্টেড হন। The Prophet নামে একটি বই প্রকাশ করেন  তিনি, যেখানে তাঁর ভাষ্যমতে ভ্যাটিকান এ লুকিয়ে রাখা ক্যাথলিকদের বিভিন্ন অপকর্ম প্রকাশ করেছেন। এই বইটা প্রকাশের পর থেকেই তাঁর উপরে বহুবার হত্যাপ্রচেষ্টা চালানো হয় এবং অবশেষে খাবারে বিষ মিশিয়ে তাঁর মুখ চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হয়। 

ভূমিকা শেষ। এবারে মূল গল্প (তীব্র ধর্মান্ধতাপূর্ণ লেখা, এটা পড়তে গিয়ে মাথায় রাখতে হবে, লেখক একজন খ্রিস্টান প্রিস্ট, তাঁ্র কাছে পুরো ব্যাপারটাই ঐশ্বরিক এবং শয়তানী শক্তির দ্বন্দ্ব। ঈশ্বরবিরোধী কোনকিছু এখানে নেই। এবং এটা একটা Alternate History, বেশ কিছু ভ্রান্তি আছে ইতিহাস নিয়ে।  সত্যতা বা রেফারেন্স আমার কাছে জানতে না চেয়ে নিচের মূল সোর্স দেখাটাই কাম্য। নিচে মূল আর্টিকেল এর লিঙ্ক আছে, সাথে The Vision at Fatima নামে একটা ধর্মীয় ঘটনার উইকি লিঙ্ক, ঘটনাটা অন্য সোর্স থেকেও নিশ্চিত হতে পারবেন):

"প্রারম্ভিক যুগের খ্রিস্টানরা  গসপেল'এর মতাদর্শ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছিলো চতুর্দিকে এবং ছোট ছোট চার্চ স্থাপন ও বাণী প্রচারের মধ্যেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছিলো। কিন্তু শুধু এটুকু করতে গিয়েও তারা ইহুদী এবং শক্তিশালী রোমান সাম্রাজ্যের তীব্র বিরোধিতা, অত্যাচার ও বিতাড়ণের শিকার হয়। কিন্তু ইহুদীরা রোমানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করে এবং ৭০ খ্রিস্টাব্দে জেনারেল টাইটাস এর নেতৃত্বে রোমান সেনাবাহিনী জেরুজালেম এ প্রবেশ করে সলোমনের মন্দির, ইহুদীদের সবথেকে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থনাস্থল সম্পূর্ণ  ধ্বংস করে দেয়, জীবিত ইহুদীরা ছড়িয়ে যায় বিভিন্ন দিকে। 

হাওয়া চিরকাল একদিকে বয় না। দুর্নীতি, লালসা, বিকৃতি, নৃশংসতা এবং বিদ্রোহ রোমান সাম্রাজ্যের ভিত কুরে কুরে খেয়ে ফেলছিলো, একদিন ভেঙেচুরে পড়তোই। খ্রিস্টানদের উপরে নির্যাতন চালানোটা, আসলে কোন কাজেই আসেনি। প্রারম্ভিক খ্রিস্টানেরা গসপেল বিশ্বাসকে বজায় রাখতে রোমান তলোয়ারের নিচে মাথা ঝুঁকিয়ে দিতে, জীবন বিসর্জন দিতেও পিছপা হয় নি। শুধু শয়তানের পক্ষেই সম্ভব ছিলো ঈশ্বরের দেখানো পথ বানচাল করে, সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী এক খ্রিস্টান ধর্ম সৃষ্টি করা। 

আর এর জন্যে শয়তানের হাতে একমাত্র সমাধান ছিলো রোম। এই সেই রোম, যাদের ধর্মের উদ্ভব হয়েছিলো অভিশপ্ত ব্যাবিলন থেকে, শুধু নবরূপ দেয়াটুকুর প্রয়োজন ছিলো। তবে রাতারাতি কিছুই হয় নি, প্রারম্ভিক "Church Father"দের লেখনীর মাধ্যমে শুধু আরম্ভ হয়েছিলো। তাদের লেখনীর মাধ্যমেই ধীরে ধীরে এই নতুন ধর্ম রূপ লাভ করতে থাকে, রোম শহরের জুপিটারের মূর্তি হয়ে যায় সেইন্ট পিটার, ভেনাসের মূর্তি হয়ে দাঁড়ায় ভার্জিন মেরি। নিজেদের সদরদপ্তরের জন্যে তারা বেছে নেয় "Vaticanus" নামে এক পাহাড়চূড়া, যেখানে আগে ছিলো দানবীয় দেবতা Janus'এর (আরম্ভ, সময়, সিদ্ধান্ত, দরজা এবং যাত্রাপথের রোমান দেবতা) মন্দির।

সমধর্মী প্রধাণ তিনটে ধর্মের একটা ব্যাপারে খুব মিল আছে। ক্যাথলিকেরা তাদের সমস্ত আশা প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে থাকে পবিত্র ভ্যাটিকান শহরের দিকে, ইহুদিদের কাছে আশা ভরসার স্থল জেরুজালেমের বিলাপরত দেয়াল এবং মুসলিমদের কাছে, কাবাঘর। এদের প্রত্যেকেই বিশ্বাস করে, একবার তারা তাদের সব থেকে পবিত্র স্থান ভ্রমণ করে প্রার্থণা করলেই, সারাজীবনের জন্যে ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হবে। কালে কালে জেরুজালেম শহর ক্যাথলিকদের হাতছাড়া হয়ে যায়। কিন্তু অমূল্য ধর্মীয়, ঐতিহাসিক এবং স্ট্যাটেজিক অবস্থানের জন্যে জেরুজালেমকে দখলে রাখা খুব জরুরী হয়ে পড়েছিলো ক্যাথলিকদের জন্যে। তাদের নিজেদের তো লোকবল এত ছিলো না, তাই তাদের নজর পড়েছিলো, ইসমাইলের বংশধর, বেচারা আরবদের দিকে।

গোড়ার দিকে,  বিভিন্ন আরব গোত্র এই "ঈশ্বরের গৃহে" অর্ঘ এবং উপহারসামগ্রী নিয়ে আসতো, কাবা'র তত্বাবধায়কেরা আগমনকারী সবাইকেই সমান সদয় দৃষ্টিতে দেখতো। এমনকি অনেকে নিজেদের গোত্রের দেবমূর্তি নিয়ে এলেও তাদের মনে যেন আঘাত না লাগে, তাই মূর্তিগুলোকে এই পবিত্র স্থানে রেখে দেয়া হতো। বলা হয়ে থাকে, পার্শ্ববর্তি ইহুদিরা কাবা'কে প্রত্যন্ত মন্দির ভেবে ভক্তি শ্রদ্ধা করতো, কিন্তু মূর্তি স্থাপনের ফলে দুষিত হয়ে যাওয়ায় তারা এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। জমজম কূপ নিয়ে গোত্রদ্বন্দের কারণে একসময় কাবা থেকে সমস্ত উপঢৌকন এবং মূর্তি নিয়ে এসে জমজমে ফেলে বালি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়, জমজমের অবস্থান লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। বহু বছর পরে, আব্দুল মুত্তালিব স্বপ্নে দেখে জমজম কূপ খুঁজে বের করে। সে মক্কার সবথেকে মান্যগণ্য ব্যক্তি হয়ে যায়, এবং মোহাম্মদের পিতামহ হওয়াটাও তার ভবিতব্য হয়ে দাঁড়ায়।

এর বেশি কিছুদিন আগে, অগাস্টিন যখন উত্তর আফ্রিকার বিশপ হলো , তার স্বপ্ন ছিলো গোটা আরবে রোমান ক্যাথলিসিজম ছড়িয়ে দেয়া। তার অনুসারীরা শুধু ব্যাক্তি বিশেষ নয়, কিছু ক্ষেত্রে গোটা গোত্রকেও কনভার্ট করতে সক্ষম হয়েছিলো। এই কনভার্টেড আরব ক্যাথলিকদের মধ্যেই আস্তে আস্তে একজন আরব নবীর ভাবনা ডালপালা মেলতে শুরু করে।

শৈশবেই পিতা, মাতা এবং পিতামহকে হারানো মোহাম্মদ, চাচার ঘরে বেড়ে উঠছিলো। একবার ব্যাবসায়িক প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার সময় মোহাম্মদকে সাথে নিয়ে যায়, আবু তালিব। সেখানে তাদের সাথে দেখা হয় এক ক্যাথলিক সন্ন্যাসীর। মোহাম্মদের পরিচয় জানার পরে সে তালিবকে বলে,

"যত দ্রুত সম্ভব তোমার এই ভাতিজাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাও, আর ওকে ভালোভাবে পাহারা দিয়ে রাখো। কারণ আমি এর সম্পর্কে যা জানি, তা যদি ইহুদীরা জানতে জানতে পারে,  তাহলে ওর বিভিন্ন রকম ক্ষতি করার চেষ্টা করবে। এই ছেলে ভবিষ্যতে বিশাল বড় কিছু হতে চলেছে"

মোহাম্মদের অনুসারীদের হাতে ভবিষ্যত ইহুদী নিধনযজ্ঞের বীজ, মূলত: এই রোমান ক্যাথলিক সন্ন্যাসীর মাধ্যমেই প্রেত্থিত হয়।

জেরুজালেম শহরের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক এবং স্ট্রাটেজিক গুরুত্বের কারণে ক্যাথলিকেরা এই শহরটিকে করায়ত্ব করার ওতপ্রোত চেষ্টা করছিলো, বাধা হয়ে ছিলো ইহুদীরা। ওদের আরেকটা জ্বলজ্যান্ত সমস্যা ছিলো উত্তর আফ্রিকার গসপেল অনুসারী সত্যিকারের খ্রিস্টানরা। শক্তি এবং ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতিপক্ষের প্রতি অসহিষ্ণুতাও উত্তরোত্তর বেড়ে চলছিলো। রোমান ক্যাথলিকদের জন্যে জরুরী হয়ে পড়েছিলো এমন একটা অস্ত্র, যা দিয়ে একইসাথে ইহুদি এবং ক্যাথলিসিজম অস্বীকারকারী সত্যিকারের খ্রিস্টানদের নির্মূল করা যায়। আরব থেকে শুরু করে উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত তাকিয়ে, তাদের নজরে এসেছিলো, বিশাল আরব সম্প্রদায়, যাদের ব্যবহার করে নিজেদের নোংরা কার্য্য সমাধা করা সম্ভব। রোমান নেতাদের প্রতিনিধি হিসেবে কিছু আরব ক্যাথলিককে সরাসরি নিয়োগ করা হয়েছিলো, যাদের কাজ ছিলো এলাকাভিত্তিক তথ্য ভ্যাটিকানে সরবরাহ করা। বাকিদের দিয়ে গড়ে তোলা হয় আন্ডারগ্রাউন্ড স্পাই নেটওয়ার্ক, যারা ঐ ক্যাথলিসিজম প্রত্যাখ্যানকারী বিশাল আরব সম্প্রদায়কে নিয়ন্ত্রণ করার রোমান মাস্টারপ্ল্যানকে সুচতুরভাবে এগিয়ে নিয়ে চলছিলো। 

অগাস্টিন যখন দৃশ্যপটে এলো, অনেকদূর এগিয়ে গেছে কার্যক্রম। তার নেতৃত্বে ক্যাথলিক মঠগুলোর কাজ ছিলো, মূল খ্রিস্টানদের থেকে আসল বাইবেলের কপি খুঁজে বের করে বিনষ্ট করে ফেলা। ভ্যাটিকান চাইছিলো, আরবদের মধ্য থেকে একজন মসীহা তৈরী করতে, এমন একজন যাকে বড় মাপের নেতা হিসেবে সামনে রাখা যায়, অসামান্য প্রতিভাধর একজন মানুষ যাকে তারা প্রশিক্ষিন দিতে পারে, এবং একসময় সকল নন-ক্যাথলিক আরব জনতাকে তার অনুসারী বানিয়ে গড়ে তোলা যেতে পারে এক বিশাল সেনাবাহিনী, যার মাধ্যমে জেরুজালেমকে হাতের মুঠোয় নেয়া যাবে।

ভ্যাটিকান কার্ডিনাল Augustine Bea জেসুইট দের ব্রিফিং দেয়ার সময়  বলেছিলো:

পোপের বিশ্বস্ত অনুসারী এক ধন্যাঢ্য আরব মহিলা ছিলো এই নাটকের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায়। তার নাম ছিলো খাদিজা, একজন বিধবা। নিজের সমস্ত সম্পত্তি চার্চে দান করে, কনভেন্টে সন্ন্যাসীর জীবন কাটাচ্ছিলো, কিন্তু তাকে একটা এসাইনমেন্ট দেয়া হলো, সেই মুহাম্মদ এখন এক প্রত্যয়দীপ্ত মেধাবী যুবক, তাকে করায়ত্ব করতে হবে। ভ্যাটিকানের আরেক বিশ্বস্ত অনুসারী, খাদিজার চাচাতো ভাই ওয়ারাক্বাহকে নিযুক্ত করা হলো মুহাম্মদের পরামর্শদাতা হিসেবে এবং সেই সাথে নিযুক্ত করা হলো আরো কিছু প্রশিক্ষক, যারা সেইন্ট অগাস্টিনের লেখাগুলো বোঝানোর মাধ্যমে মোহাম্মদকে প্রস্তুত করবে তার নবুওতের জন্যে। ক্যাথলিক আরবদের মাধ্যমে গোটা আরব-উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে রটিয়ে দেয়া হলো, ঈশ্বরের মনোনীত এক মহামহিমান্বিত পুরুষের আগমন ঘটতে যাচ্ছে। মোহাম্মদকে বোঝানো হলো, রোমান ক্যাথলিকরাই আসল ঈশ্বরবিশ্বাসী খ্রিস্টান, ইহুদীরা শয়তান, আর বাকি খ্রিস্টানরা ভ্রান্ত পথের পথিক, যাদের অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে।

অবশেষে এক সময় মোহাম্মদ "ওহী" প্রাপ্ত হতে থাকলো  এবং ওহী বিশ্নেষনের কাজে ওয়ারাক্বাহ সাহায্য করতে থাকলো। শুরু হলো কোরান রচনা। পূর্বাত্মন ধর্মবিশ্বাসকে অস্বীকার করায় মক্কায় অত্যাচারের শিকার হতে শুরু করার পরে, মোহাম্মদ তার কিছু অনুসারীকে আবিসিনিয়া পাঠালো, এবং সেখানকার রোমান ক্যাথলিক রাজা নেগি তাদের সাদর অভ্যর্থনা জানালো, কারণ মোহাম্মদের দৃষ্টিভঙ্গীতে বর্ণিত ভার্জিন মেরীর সাথে ক্যাথলিক বিশ্বাসের বেশ মিল ছিলো। 

ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, ইসলামের আবির্ভাবেরও বহূ আগে থেকে আরবের Sabean সম্প্রদায় উপাসনা করতো এক চন্দ্র দেবতার, যার তিন দেবী সন্তান ছিলো, যাদেরকে গোটা আরবে "আল্লাহর কন্যাত্রয়" হিসেবে উপাসনা করা হতো। ১৯৫০ সালে প্যালেস্টাইনের হাজর এ খননকার্য্যের সময় পাওয়া যায় একটি মূর্তি, সিংহাসনে আল্লাহ আসীন, যার বুকের উপরে বাঁকা চাঁদ। মুহাম্মদ ঘোষনা দিলো , আল্লাহর তরফ থেকে ওহী এসেছে, "তুমি আল্লাহর রাসুল"। মুহাম্মদের যখন মৃত্যু হয়, ইসলাম তখন বিষ্ফোরণোন্মুখ।  যাযাবর আরব গোত্রগুলো আল্লাহ এবং তার রাসুল মোহাম্মদের নামে একীভুত হচ্ছিলো। মোহাম্মদের কিছু বক্তব্য কোরান হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়েছে, বাকিগুলো জনসম্মুখে আসে নি, ওগুলো আছে, আয়াতুল্লাহদের হাতে। কার্ডিনাল বি'র ভাষ্যমতে,
"মুহাম্মদের এসমস্ত কথা সুরক্ষিত রাখা, কারণ এগুলোতে ইসলামের সৃষ্টির পিছনে ভ্যাটিকানের কলকাঠি নাড়ার  তথ্য আছে।" 
মুসলিম এবং ক্যাথলিক, উভয়ের হাতেই দুপক্ষের সম্পর্কে এত গোপনীয় তথ্য আছে, যে যদি কখনো প্রকাশ পায়, দুটো ধর্মের জন্যেই তা হবে প্রলয়ঙ্করী

কোরানে জেসাসকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নবী হিসেবে উল্লেখ করা আছে। যদি পোপ দুনিয়াতে সেই জেসাস এর প্রতিনিধি হয়, তাহলে পোপ নিজেও ঈশ্বরের দূত। এই কারণেই মুহাম্মদের অনুসারীরা পোপকে বড় মাপের ঐশী পুরুষ হিসেবে ভয় পেত, শ্রদ্ধা করতো। পোপ আরব জেনারেলদের উত্তর আফ্রিকা আক্রমণের অনুমতি দিলো। শুধু তাইনা, কয়েকটা শর্তে আরবদের অভিযানে অর্থ সংস্থানও করলো। শর্তগুলো হচ্ছে:
১) সকল ইহুদী এবং ভিন্ন মতাবলম্বী  খ্রিস্টানদের খতম করতে হবে
২) অগাস্টিনিয়ান সন্ন্যাসী এবং ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের  সুরক্ষা দিতে হবে
৩) ভ্যাটিকানের তরফ থেকে জেরুজালেম দখল করতে হবে।

সময়ের সাথে সাথে মুসলিমদের সামরিক শক্তি প্রচন্ডরূপ ধারণ করলো। ইহুদী এবং প্রকৃত খ্রিস্টানরা হত্যাকান্ডের শিকার হলো, জেরুজালেম মুসলিমদের হস্তগত হলো। কিনতি এই গোটা সময়টাতে না ক্যাথলিকদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হলো, না তাদের কোন মঠ আক্রান্ত হলো। কিন্তু যখন তাদের কাছ থেকে জেরুজালেম বুঝে নিতে চাওয়া হলো, পোপকে হতবাক করে দিয়ে  তারা অস্বীকার করে বসলো। নিজেদের সামরিক শক্তি এবং সাফল্যে মত্ত মুসলিম জেনারেলদের, পোপের কথায় ভয় পাওয়ার কোনই কারণ ছিলো না এবং তাদের নিজেদের পরিকল্পনার বাইরে অন্য কিছু ভাবার ইচ্ছাও ছিলো না। 

ওয়ারাক্বার পরিকল্পনামাফিক মুহাম্মদ লিখেছিলো, ইব্রাহিম তার সন্তান ইসমাইলকে উৎসর্গ করতে যাচ্ছিলো। বাইবেল এ ইসহাকের কথা লেখা থাকলেও, মুহাম্মদ সেটা সরিয়ে  ইসমাইলের নাম ঢুকিয়েছিলো। ইসমাইলকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং মেরাজ এর কাহিনীর কারণে বিশ্বাসী মুসলিমেরা ডম অফ রক নামে একটা মসজিদ তৈরী করেছিলো জেরুজালেমের ঠিক সেই স্থানে, যেখানে ৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমানরা ইহুদিদের মন্দির গুঁড়িয়ে দিয়েছিলো। এটা মুসলিমদের কাছে দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থান। বিদ্রোহ  জন্ম না দিয়ে  কিভাবে সম্ভব জেরুজালেমকে পোপের হাতে তুলে দেয়া?

পোপ যখন শুনতে পেলো, তাকে মুসলিমেরা কাফির বলছে, তখন তার উপলব্ধি হলো, তারা যেই দানবের জন্ম দিয়েছে, সে এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ততদিনে মুসলিম সেনাপতিরা আল্লাহর নামে পৃথিবী দখল করার পাঁয়তারা কষছে এবং তাদের নজর পড়েছে ইউরোপের দিকে। ইসলামী দূত ভ্যাটিকানে এসে পোপের কাছে ইউরোপিয়ান দেশগুলো আক্রমণের অধিকার দাবী করলো। ভ্যাটিকান ক্ষোভে ফেটে পড়লো, অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠলো যুদ্ধ। মুসলিমরা ইউরোপ আক্রমণ করলো, স্পেন থেকে পর্তুগালের কিছু অংশ পর্যন্ত দখল করে ফেললো। মুহাম্মদের মেয়ে ফাতিমার নামে পর্তুগালের একটা পাহাড়ি এলাকার নামকরণও করলো (অবশ্য ওরা স্বপ্নেও হয়তো ভাবে নি, একদিন এই নাম বিখ্যাত হয়ে যাবে),  আরেকদিকে তুরষ্কের উপরে চলতে লাগলো মুহুর্মুহু আক্রমণ। 

ভ্যাটিকানের কিছু সময় লেগে গেলো, নিজেদের সামরিক শক্তি গুছিয়ে নিতে। কিন্তু অবশেষে ইসমাইলের বংশধরদের থেকে ক্যাথলিক ইউরোপকে রক্ষা এবং পবিত্র জেরুজালেম উদ্ধারের লক্ষে ক্রুসেড শুরু করা হলো। কয়েকশো বছর ধরে, ক্রুসেড চলার পরেও জেরুজালেম তো উদ্ধার হলোই না, উলটো তুরষ্কও মুসলিমদের করায়ত্ব হয়ে গেলো। শেষ পর্যন্ত, যখন সার্ডিনিয়া এবং কর্সিকা দ্বীপে সেনা জমায়েত করলো, ইটালি আক্রমণের জন্যে, মুসলিম সেনাপতিদের বোধোদয় হলো, তারা তাদের সামরিক শক্তি খুব বেশি এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ফেলেছে, যুদ্ধ না করে বরং শান্তি আলোচনা করাই উত্তম। মুসলিমদেরকে ক্যাথলিক বিশ্বে তুরষ্ক অধিকৃত রাখতে দেয়া হলো এবং বিনিময়ে ক্যাথলিকরা আরব বিশ্বে লিবিয়া অধিকৃত রাখলো। চুক্তিতে এটাও ছিলো, মুসলিমেরা যেকোন ক্যাথলিক দেশে মসজিদ তৈরী করতে পারবে, যতক্ষন পর্যন্ত ক্যাথলিকদেরকে মুসলিম দেশে ধর্ম প্রচার করতে দেয়া হবে।। 

এভবেই আস্তে আস্তে বাইবেলের প্রকৃত সত্য থেকে পৃথিবীবাসীকে বিমুখ করে ফেলা হলো। মানুষকে বিভ্রান্ত রাখার এবং নিয়ন্ত্রণ করার ক্যাথলিক প্রচেষ্টা এখানেই শেষ নয়। ১৯১০ সালের দিকে  পর্তুগাল সোশালিজমের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলো, লালা পতাকা উড়ছিলো, ক্যাথলিক চার্চগুলো বন্ধের উপক্রম হচ্ছিলো। ১৯১৭ সালে সেই ফাতিমা গ্রামে "The Vision at Fatimah" নামে একটি নাটক মঞ্চস্থ করা হয়, ভার্জিন মেরি এসে দেখা দিলো , তিনটে ভবিষ্যতবাণী করলো। এতটাই সফল মঞ্চায়ন ছিলো এই বিশ্বাসের নাটকের, পর্তুগাল থেকে সোশালিজম চিরতরে বিদায় নেয়, ক্যাথলিক চার্চ ফের পূর্বাবস্থা ফিরে পায়। এই ভবিষ্যতবাণীর রেশ ধরেই পরবর্তিতে পোপ Pius XII, নাৎসিদের দিয়ে ইহুদী নিধনযজ্ঞ চালায়, রাশিয়া এবং তার অর্থোডক্স চার্চ ধ্বংস করতে রাশিয়া আক্রমণ করায়। শয়তান এভাবেই ১৭০০ বছর ধরে ক্যাথলিকদের মাধ্যমে পৃথিবীবাসীকে ভ্রান্তির পথে নিয়ে যাচ্ছে"

মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০১৬

স্বগতোক্তি

ভাবনা ভাবিতে মোর লাগে বড় শঙ্কা
এত ভেবে হবে কিবা, কোন লবডঙ্কা
চিন্তা মুক্ত নই, মুক্তির চিন্তা
মুক্ত চিন্তা মোর, তা ধিন ধিন তা
চারপাশে যত দেখি, footage'এর রাজ্য
Footage আমারও চাই, জ্ঞান পরিত্যাজ্য
মুখস্থ বিদ্যায়, কিবোর্ড ও মাউসে
একই কথা ঘুরে ফিরে, একঘেয়ে হাউশে
ধর্মকে তুলোধুনা, মারি চার ছক্কা
এই এলো চাপাতি, এই হলো অক্কা
উদার গ্রহণ মনে, চায় কোন জন
জয় গুরু Rigidity, কষে বাঁধি মন
সকলে সমান, আরে, বলছো এ কি গো?
আমি ম্যাঁও, হুলো ক্যাট, মোর আছে ego
"আমি" তো অনেক হলো, মোর কথা কই
এত কেন ভাগাভাগি, ভাগের পরেও ভাগ?
আমরা আমরাই তো, তবু কেন এত রাগ?
কাঁদি, হাসি, ভালোবাসি, রোজ অনলাইনে
কবে  কে বা ঠুকে দেবে, ৫৭ আইনে
ভারি লেখা, মোটা বই, হয়নাকো পড়া
বসে বসে তাই লিখি, কাপলেট এ ছড়া

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০১৬

যৌন মনস্তত্ব - ১

বিবেক বলে আসলে কিছু হয় না, ভাগ্য টাইপ ধ্যানধারণা। আসল কারণ Psychosexuality (হায় রে মাতৃভাষা মোর, এসব শব্দের একটা সহজ বাংলা নেই, "অবচেতন যৌন মনস্তত্ব" এর চাইতে সাইকোসেক্সুয়ালিটি সহজবোধ্য)। ধরা যাক একটা ছেলেকে ছোটবেলায় তার Biological পরিবার থেকে আলাদা করা হলো। সে আর কোনদিনও জানতে পারলো না , নিজের বায়োলজিকাল ফ্যামিলি মেম্বারদের ব্যাপারে। ধরা যাক তার একটা বোন আছে , কিন্তু সে জানে না, এটা তার বোন। এবারে ছেলেটা সেই মেয়েটার প্রতি Sexual Atraction ফিল করতে পারে, সেক্স হতে পারে।  আমাদের সমাজের Social Construct (Construct অর্থ সাইকোসেক্সুয়ালিটিকে প্রভাবিত এবং বাধাগ্রস্ত করে এমন কিছু) আসলে এধরণের সম্পর্কগুলোকে জেনেশুনে তৈরী না হওয়ার পিছে মূল ভুমিকায়। সামাজিকভাবে ধারাটা এমন, তাই, জেনারেশনের পরে জেনারেশন এটাই ফলো করে আসছে।

কিন্তু সাইকোসেক্সুয়ালিটি এত সহজে ডিফাইন করে ফেলা যায় না। অনেক রকমের কন্ট্রাস্ট। তাই তো বর্তমান সমাজেও মা-ছেলে বাবা-মেয়ে ভাই-বোন, তথাকথিত অজাচার দেখা যায়, উল্লেখ্যোগ্যরকম কম হলেও। এখানে বিবেকের ভুমিকা খুব কম। সাইকোসেক্সুয়ালিটিকে যদি সোশাল কন্সট্রাক্ট ব্যহত না করতো। তাহলে হয়তো অজাচার নামক টার্মটা থাকতো না। একটা সময় তুলনামূলক সভ্য সমাজেও সেক্সুয়ালিটি এত গোপন গহীন কোটরে রাখার ব্যাপার ছিলো না। তাই প্রাচীন স্ক্রিপচারে আমরা বিভিন্ন রকম সেক্সুয়াল রিলেশনশিপ পাই, যেগুলো সেই সময় অজাচার বা ব্যাভিচাররূপে গন্য ছিলো না। Freud নামক লোকটিকে অপছন্দ করার আমার অনেক কারণ আছে। Freudian তত্বানুসারে সাইকোসেক্সুয়ালিটি জগৎময়, কৃষ্ণের মত। ভদ্রলোক মায়ের দুধ খাওয়ার সময়কালীন বাচ্চাদের মায়ের স্তনের প্রতি এডিকশনকে সাইকোসেক্সুয়ালিটির প্রারম্ভিকতা বলেছেন। এবং আপনি ভালো খাবার খাওয়ার খেয়ে পাওয়া পরিতৃপ্তি, Pleasure, আপনার Sexuality'র অংশ, Freud-Jung এর তত্বানুসারে। গল্পের গরু গাছে ওঠার আগে প্রসঙ্গে আসি।

এই দুই ভদ্রলোক Oedipus Complex নামক একধরনের সাইকোসেক্সুয়াল থিওরি দিয়েছেন, এবং সম্ভবত এখন পর্যন্ত সবথেকে প্রতিষ্ঠিত হাইপোথিসিস। মায়ের প্রতি ছেলের অবিচেতন যৌন আকর্ষন বা ভাইস ভার্সা। হয়তো আমাদের অনেকের ধারণা নেই, আমাদের সমাজে এমন সাইকোসেক্সুয়াল প্রান্তিক মানুষ আছেন, তাঁ্রা পারেন না নিজেদের সাইকোসেক্সুয়ালিটিকে সামাজিক কন্সট্রাক্ট'এ আটকে রাখতে, তাঁ্রা সেক্সুয়ালি একটিভ হয়ে যান, যা থেকে পুত্রবধুর আত্মহত্যা পর্যন্ত ঘটে থাকে অনেকক্ষেত্রে। এখানে পারষ্পরিক আপত্যস্নেহের সেক্সুয়াল দখলদারিত্ব দেখা যায়। আমাদের চোখে এটা অজাচার কারণ অন্তত গত এক হাজার বছর ধরে একে সম্পূর্ণরূপে সামাজিক অজাচার বলে গণ্য করে আসছে, তার আগে পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে অজাচার হিসেবে গণ্য হতো না। তবে এই Oedipus আমার কাছে Freud এর নিষ্ঠুরতা মনে হয় আমার কাছে। গ্রিক মূল গল্পে, ওদিপাউস আর তার মা  জন্মলগ্নে আলাদা হয়ে যায়, কেউ কাউকে চিনতো না, পাকেচক্রে পড়ে আলাদা হওয়ার ২৫ বছর পরে বিয়ে হয় এবং তাদের সন্তান হয়। এবং একসময় তারা জানতে পারে, মহিলা আত্মহত্যা করেন, ওদিপাউস নিজের চোখ উপড়ে ফেলে পরিতাপ করতে সব ছেড়ে চলে যায়। এটা মোটামুটি ২০০০ বছর আগের গল্প, তখন একে অজাচার ধরা হহতো, কিন্তু ঠিক হাজার কখানেক ববছর আগেও গ্রিসে মমা ছেলে সম্পর্ক অজাচার গণ্য হতো না। আমি সবার আগে যে কথা বলছিলাম, আপনার না জানা থাকলে সেক্সুয়াল এট্রাকশন থেকে সেক্স সবই হতে পারে। এবং শুধু সোশাল কন্সট্রাক্টের কারণে এধরণের সাইকোসেক্সুয়ালিটি সচরাচর প্রস্ফুটিত হয় না।

এঁদের আরেকটা অবদান Electra Complex, বাবা-মেয়ে সাইকোসেক্সুয়ালিটি। উদাহরণ কম চোখে বাধে না। আরব অসভ্যরাই নয় শুধু, পশ্চিমা তথাকথিত সভ্য থেকে আমাদের মত মডারেট রক্ষণশীল সমাজেও। ওদিপাউস কমপ্লেক্স যেখানে স্নেহমূলক দখলদারিত্বের সাইকোসেক্সুয়াল প্রতিরূপ, ইলেক্ট্রা কমপ্লেক্স সেখানে Power and Dominance মূলক মনস্তাত্বিক যৌন দখলদারিত্ব। তবে ওদিপাউসের গল্পটা যদিওবা তত্বের সাথে Relevant, ইলেক্ট্রার গল্প দেখলে একেবারে বাজে Metaphor. কোন এক গ্রিক দ্বীপের রাজা বর্তমান স্ত্রী এবং তার প্রেমিকের ষড়যন্ত্রে খুন হয়। রাজার আগের পক্ষের মেয়ে ইলাক্ট্রা, প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে এতটাই ফ্যানাটিক হয়ে ওঠে, প্রতিশোধ না নিয়ে মৃতদেহ সৎকার অস্বীকার করে এবং একসময় সৎ মা ও তার প্রেমিককে খুন করে প্রতিশোধ নেয়। তত্বের সাথে কোন মিল পেলেন? :D যাই হোক, বাবার অধিকার নিয়ে বা নজরে বেশি আসা নিয়ে মা মেয়ের নির্মল মধুর দ্বন্দ, Freud-Jung এএ দৃষ্টিতে ইলেক্ট্রা কমপ্লেক্স সাইকোসেক্সুয়ালিটি এবং এটা যে একেবারে ফেলে দেয়ার মত নয় তার প্রমাণ, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অনেকসময় বাবা-মা-মেয়ের সাইকোসেক্সুয়াল ট্রায়াঙ্গল আমাদের কানে আসে। এটা অসুস্থতা নয়, সাইকোসেক্সুয়াল স্বাভাবিকতা।

ভাই-বোন "অজাচার" কিভাবে সামাজিক কন্সট্রাক্টের উপরে ভিত্তি করে প্রেথিত, তার একটা সহজ উদাহরণ দেয়া যাক। মুসলিম সমাজে তুতো ভাই-বোনের  মধ্যে বিয়ে অসম্ভব কমন ব্যাপার। এদিকে ইহুদি-খ্রিস্টানরা ফার্স্ট কাজিনের সাথে (মানে আপন চাচাতো বা মামাতো) বিয়ে এলাউ করে না। হিন্দুদের সমাজে সকল কাজিন ভাই বোন (অন্তরালে যৌন সম্পর্ক অনেক আছে)।  তাহলে সেই কন্সট্রাক্ট, কাউকে যৌনাচার এলাউ করছে, কাউকে বলছে এটা অজাচার। যদি সোশাল কন্সট্রাক্ট না থাকতো, তাহলে এই সাইকোসেক্সুয়ালিটি অনেকের মধ্যেই প্রস্ফুটিত হতে পারতো হয়তো বা। যেমনটা হয়েছিলো রোমান সাম্রাজ্যে। ক্রিশ্চিয়ানিটি রোমকে গ্রাস করার আগে পর্যন্তও ভাই বোন যৌনতা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা ছিলো তৎকালীন রোম এ, অজাচার বলতে কিছুর অস্তিত্বও ছিলো না।

তাহলে, অজাচার বা Incest নামক কালের বিচারে সাম্প্রতিক টার্মকে কিছুতেই বিবেক বা ধর্ম নামক বায়বীয় অযৌক্তিকতা দিয়ে বিচার করতে পারি না। মানুষের স্বাভাবিক সাইকোসেক্সুয়ালিটি, সামাজিক কন্সট্রাক্ট দ্বারা অবদমিত হয়ে, অজাচারে রূপান্তরিত হয়েছে। কারণ আসলে আমাদের সমাজ সাইকোসেক্সুয়াল প্রান্তিকতা নিয়ে সচেতন নয়। আমার মনে হয়, আধুনিকতা এবং  যৌক্তিকতার বর্তমান বিশ্বে প্রান্তিক যৌনতার মানুষ এবং প্রান্তিক মনস্তাত্বিক যৌনতা নিয়ে সচেতন হওয়ার সময় এসেছে।