আমরা ব্যাঙ্গালোর যাওয়ার আগে জানলাম, বছরে দু'বার ছুটি, অক্টোবরে পুজো ভ্যাকেশন আর এপ্রিলে, ফাইনালের পরে। ফার্স্ট ইয়ার স্বাভাবিকভাবেই সবথেকে অসহ্য সময় ছিলো, কালচারাল ডিফারেন্স, ভাষাগত ডিফারেন্স, খাবারের ডিফারেন্স, সেই সাথে হোমসিকনেস, হোস্টেলের বদ্ধ জীবন, ইত্যাদি, ইত্যাদি, সবারই বোঝার কথা। যাই হোক, আমরা তো কনফার্ম, ছুটি পাচ্ছিই অক্টোবরে, তাই সিনিয়রদের পরামর্শে জুলাইতেই রিজার্ভেশন করিয়ে ফেললাম, কারণ যত দেরী তত চাপ। তো এবার কলেজ শুরু করলো ফাজলামী, বলে পুজোয় কোন ছুটি হবে না। আররে হবে না মানে? কি বলে বাঁড়া? আমরা পুরো ভিসুভিয়াস। রিজার্ভেশন কনফার্ম, আমরা কে ছুটিতে কি করবো, সেসব প্ল্যানিং শেষ, দেশে যোগাযোগ করা হয়ে গ্যাছে, বাড়ির লোকেরাও প্ল্যান সেরে ফেলেছে, ছেলে ছুটিতে এলে কি করবে, এখন বাঁড়া বলছে ছুটি হবে না, ভাংচুর হয়ে যাবে। সিনিয়ররা অনেক বুঝিয়ে থামালো, ওরে এ নাটক প্রতিবছর হয়, চেয়ারম্যানের ফ্যামিলি খুব ভালোবাসে যে স্টুডেন্টরা গিয়ে অনুরোধ উপরোধ করবে, তোরা প্রিপারেশন নে। যেদিন ট্রেন, শ্রেফ ট্রেনে উঠে পড়বি, দুনিয়া রসাতলে যাক।
এর মধ্যে গাঁজা খেতেও শিখে গেলাম, দেশে থাকতে দু চারবার টেনেছি, ঐ পর্যন্তই, কিন্তু এবারে শুধু খেতেই শিখলাম না, বানাতেও শিখলাম এবং বানানোর পুরো দায়িত্ব আমার পাঁড় গাঁজাখোর বন্ধুরাও আমাকেই দিলো। তো যাই হোক, যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে হিসাব করতে বসলাম, কয় বোতল ইয়ে নিতে হবে, আমরা এই ফ্লোরের ১২ জন একসাথে যাবো, তার মধ্যে ইয়ে খাবো আমরা ৪ জন, বাকিরা কেউ জলস্পর্শ করে না। আর নিতে হবে গাঁজা, অন্তত ১০০ টাকার ৩ পোঁটলা। এত কেন? আরে আমি তো জানিনা দেশে কোথায় গাঁজার স্পট, স্টক নিতে হবে না? ওহো, আসল কথাই তো বলা হলো না, আমার যে একখানি প্রেমিকা আছে, ঢাকায়, যার সাথে এখানে আসার আগের লাস্ট একটা বছর কাটিয়েছি, আমাকে প্রথম তিনমাস প্রতি সপ্তাহে চিঠি লিখেছে, কুরিয়ার করে গোল্ডলিফ পাঠিয়েছে, আই ওয়াজ ডাইং টু মিট হার। তো প্ল্যান হচ্ছে, আগে ঢাকা যাবো, দেখা করবো, এক বা দুদিন থাকবো ঢাকা, তারপরে বাড়ি। আমি বাড়িতে জানাবো না এক্সাক্ট কবে যাচ্ছি, বা যদি জানাই, দুদিন পরের ডেট জানাবো, । সব ঠিক, এখন ট্রেনে ওঠার অপেক্ষা।
আসার সময়, সঙ্গে কয়েকজনের বাবা ছিলো, আমরা ফ্রিলি সিগারেটটাও খেতে পারিনি, এবার শালা আমরা ফুল ফ্রি, গাঁজা খেতে খেতে যাচ্ছি। শুনেছি এখন নাকি ট্রেনে সাদা পোশাকের পুলিশ থাকে স্মোকার ধরার জন্য, তখন এত কড়াকড়ি ছিলো না, পুলিশ খাকি পোশাকেই থাকতো, দুজনে দুদিকের করিডরে নজর রেখে গাঁজাও মারা যেত চান্স বুঝে। আমাদের সাথে তানভির নামে একটা ছেলে ছিলো, বাবা নেভির বিরাট অফিসার, ছেলে অসম্ভব রকম স্নব, আমার দেখা প্রথম স্নব, আমার কাছে আনটলারেবল ধরণের অসহ্য। হোস্টেলে আমাদের ঠিক অপজিটের রুমে থাকতো, আমাদের রুমে আসতো, আমার এক রুমমেট রাসেলের সাথে দাবা খেলতে আসতো। বড় বড় কথা, সবাই লোয়ার ক্লাস এমন এটিচ্যুড, বহুবার বলেছিলাম এটিচ্যুড ঠিক করতে, শেষে একদিন বিরক্তির সীমা পার হয়ে গেলো, গলায় ছুরি ধরে বললাম, খানকির ছেলে এটিচ্যুড ঠিক কর, নয়তো তুই শেষ, তারপর একটু শুধরেছিলো। কিন্তু, স্নবারি কি আর এত সহজে যায়, ট্রেনেও সেই অবস্থা, ছোঁয়া বাঁচিয়ে চলা, কথা বলে কৃতার্থ করে দেয়া, এবং ভুল করেও পকেট থেকে একটা টাকা বেরোয় না। একবার ভাবলাম দিই শালা ট্রেন থেকে ফেলে, কিন্তু সে কি আর সম্ভব, তাই অন্য ব্যবস্থা নিতেই হলো। ট্রেনে কয়েক দফা হিজড়া এটাক হয়, আর তানভীর সেই সময় ঘুমানোর ভান করে পড়ে থাকে আপার বার্থে। আমি আর আমার গাঁজার পার্টনার বাবু মিলে ঠিক করলাম এটাই একমাত্র পথ। নেক্সট যখন আমাদের কম্পার্টমেন্টে হিজড়ারা এলো, আমি একজনকে ডেকে বললাম, ঐ বাঞ্চোতকে তোমার সমস্ত মেধা খাটিয়ে হ্যারাস করতে হবে, তোমাকে ১০০ টাকা দেবো, যদি মিনিমাম ১০০ খসাতে পারো, আরো ১০০ দেবো। ওহহহহ রেএএএএ, যা করলো ওর সাথে, ভাবলে হাসিও আসে, দু:খও হয়, এমনভাবে হ্যারাসড হতে খুব কম মানুষকে দেখেছি, শুধু কাঁদতে বাকি রেখেছিলো, পাক্কা ২০০ টাকা দিয়ে মুক্তি মিলেছিলো ওর।
আর হ্যাঁ, গাঁজা খেয়েছিলাম বটে ঐ জার্নিতে, অত গাঁজা ওর আগে কখনো খাই নি, এতই বেশি ছিলো পরিমাণ, আমার রুমমেট তাপস সমস্ত তালজ্ঞান হারিয়ে ফেললো, বর্ডারে পথে সুমো তে বসে জিজ্ঞেস করছে, হ্যাঁ রে, এখন তো দেশে আমের সিজন তাই না? অক্টোবর মাসে আমের সিজন হওয়া সম্ভব না, কি করে বোঝাই, আমরাও তো লোড। ইমিগ্রেশনের ঝামেলা তো কাউন্টারের লোকই মেটাচ্ছে, আমরা গাঁজা খাচ্ছি। মন ফুরফুরে, আমি এদের সবার সাথে ঢাকা যাবো, ঢাকা যাওয়ার পথে ফেরীতে গাঁজা খাবো, ভোরে ঢাকায় নেমেই সোজা ইডেন, সারপ্রাইজ দেবো প্রেমিকাকে। লাগেজ নিয়ে ইন্ডিয়ান বর্ডারের অফিসিয়াল গেট যখন পার হচ্ছি, তখনও টলছি গাঁজার ঘোরে, নো ম্যানস ল্যান্ড পার হয়ে সামনে বাংলাদেশের গেট, উফফফফফ কতমাস পরে দেশে ঢুকছি, কতকাল পরে গোল্ডলিফ, গাঁজায় ইমোশন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। গেট পার হয়ে দেশের মাটিতে পা দিয়ে ফিল্মি কায়দায় চোখ বন্ধ করে বুক ভরে শ্বাস নিয়ে চোখ খুললাম, সামনে আমার বাবা, এতই শকড হলাম, অধিক শোকে পাথর হয়ে গেলাম, গাঁজার ঘোর মুহুর্তে হাওয়া হয়ে গেলো।
জানতে পারলাম, কালপ্রিট ঐ তাপস, কদিন আগে বাবা ফোন করেছিলো হোস্টেলের নাম্বারে, আমি ছিলাম না, রিসিভ করেছিলো তাপস, সে বিগলত হয়ে আঙ্কেলকে এক্সাক্ট ডেট জানিয়ে দিয়েছে। তারপরে আর কি সমস্ত হিসাব গড়বড়, বাবুকে ৫/৬ স্টিকের মত মাল দিয়ে দিলাম, বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত খাবে, মাঝে ফেরিতে খাবে। আর আমি শান্ত সুবোধ বালকের মত বাবার সাথে বাড়ির পথে। শালা বর্ডারে এসে একটা ফেন্সিডিল খেয়েছিলাম, সিগারেটের কি জোর টান, আমার বাবার ব্রান্ডও গোল্ডলিফ, ৪ ঘন্টার পথ, শালা অন্তত গোটা পাঁচেক সিগারেট খেলো আমার সামনে বসে বসে, আমি একবার প্রায় বলেই ফেলেছিলাম, একটা সিগারেট দাও না বাল। অবর্ণনীয়, সে অবর্ণনীয় মানসিক অত্যাচার কোনদিন ভুলবো না।
এর মধ্যে গাঁজা খেতেও শিখে গেলাম, দেশে থাকতে দু চারবার টেনেছি, ঐ পর্যন্তই, কিন্তু এবারে শুধু খেতেই শিখলাম না, বানাতেও শিখলাম এবং বানানোর পুরো দায়িত্ব আমার পাঁড় গাঁজাখোর বন্ধুরাও আমাকেই দিলো। তো যাই হোক, যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে হিসাব করতে বসলাম, কয় বোতল ইয়ে নিতে হবে, আমরা এই ফ্লোরের ১২ জন একসাথে যাবো, তার মধ্যে ইয়ে খাবো আমরা ৪ জন, বাকিরা কেউ জলস্পর্শ করে না। আর নিতে হবে গাঁজা, অন্তত ১০০ টাকার ৩ পোঁটলা। এত কেন? আরে আমি তো জানিনা দেশে কোথায় গাঁজার স্পট, স্টক নিতে হবে না? ওহো, আসল কথাই তো বলা হলো না, আমার যে একখানি প্রেমিকা আছে, ঢাকায়, যার সাথে এখানে আসার আগের লাস্ট একটা বছর কাটিয়েছি, আমাকে প্রথম তিনমাস প্রতি সপ্তাহে চিঠি লিখেছে, কুরিয়ার করে গোল্ডলিফ পাঠিয়েছে, আই ওয়াজ ডাইং টু মিট হার। তো প্ল্যান হচ্ছে, আগে ঢাকা যাবো, দেখা করবো, এক বা দুদিন থাকবো ঢাকা, তারপরে বাড়ি। আমি বাড়িতে জানাবো না এক্সাক্ট কবে যাচ্ছি, বা যদি জানাই, দুদিন পরের ডেট জানাবো, । সব ঠিক, এখন ট্রেনে ওঠার অপেক্ষা।
আসার সময়, সঙ্গে কয়েকজনের বাবা ছিলো, আমরা ফ্রিলি সিগারেটটাও খেতে পারিনি, এবার শালা আমরা ফুল ফ্রি, গাঁজা খেতে খেতে যাচ্ছি। শুনেছি এখন নাকি ট্রেনে সাদা পোশাকের পুলিশ থাকে স্মোকার ধরার জন্য, তখন এত কড়াকড়ি ছিলো না, পুলিশ খাকি পোশাকেই থাকতো, দুজনে দুদিকের করিডরে নজর রেখে গাঁজাও মারা যেত চান্স বুঝে। আমাদের সাথে তানভির নামে একটা ছেলে ছিলো, বাবা নেভির বিরাট অফিসার, ছেলে অসম্ভব রকম স্নব, আমার দেখা প্রথম স্নব, আমার কাছে আনটলারেবল ধরণের অসহ্য। হোস্টেলে আমাদের ঠিক অপজিটের রুমে থাকতো, আমাদের রুমে আসতো, আমার এক রুমমেট রাসেলের সাথে দাবা খেলতে আসতো। বড় বড় কথা, সবাই লোয়ার ক্লাস এমন এটিচ্যুড, বহুবার বলেছিলাম এটিচ্যুড ঠিক করতে, শেষে একদিন বিরক্তির সীমা পার হয়ে গেলো, গলায় ছুরি ধরে বললাম, খানকির ছেলে এটিচ্যুড ঠিক কর, নয়তো তুই শেষ, তারপর একটু শুধরেছিলো। কিন্তু, স্নবারি কি আর এত সহজে যায়, ট্রেনেও সেই অবস্থা, ছোঁয়া বাঁচিয়ে চলা, কথা বলে কৃতার্থ করে দেয়া, এবং ভুল করেও পকেট থেকে একটা টাকা বেরোয় না। একবার ভাবলাম দিই শালা ট্রেন থেকে ফেলে, কিন্তু সে কি আর সম্ভব, তাই অন্য ব্যবস্থা নিতেই হলো। ট্রেনে কয়েক দফা হিজড়া এটাক হয়, আর তানভীর সেই সময় ঘুমানোর ভান করে পড়ে থাকে আপার বার্থে। আমি আর আমার গাঁজার পার্টনার বাবু মিলে ঠিক করলাম এটাই একমাত্র পথ। নেক্সট যখন আমাদের কম্পার্টমেন্টে হিজড়ারা এলো, আমি একজনকে ডেকে বললাম, ঐ বাঞ্চোতকে তোমার সমস্ত মেধা খাটিয়ে হ্যারাস করতে হবে, তোমাকে ১০০ টাকা দেবো, যদি মিনিমাম ১০০ খসাতে পারো, আরো ১০০ দেবো। ওহহহহ রেএএএএ, যা করলো ওর সাথে, ভাবলে হাসিও আসে, দু:খও হয়, এমনভাবে হ্যারাসড হতে খুব কম মানুষকে দেখেছি, শুধু কাঁদতে বাকি রেখেছিলো, পাক্কা ২০০ টাকা দিয়ে মুক্তি মিলেছিলো ওর।
আর হ্যাঁ, গাঁজা খেয়েছিলাম বটে ঐ জার্নিতে, অত গাঁজা ওর আগে কখনো খাই নি, এতই বেশি ছিলো পরিমাণ, আমার রুমমেট তাপস সমস্ত তালজ্ঞান হারিয়ে ফেললো, বর্ডারে পথে সুমো তে বসে জিজ্ঞেস করছে, হ্যাঁ রে, এখন তো দেশে আমের সিজন তাই না? অক্টোবর মাসে আমের সিজন হওয়া সম্ভব না, কি করে বোঝাই, আমরাও তো লোড। ইমিগ্রেশনের ঝামেলা তো কাউন্টারের লোকই মেটাচ্ছে, আমরা গাঁজা খাচ্ছি। মন ফুরফুরে, আমি এদের সবার সাথে ঢাকা যাবো, ঢাকা যাওয়ার পথে ফেরীতে গাঁজা খাবো, ভোরে ঢাকায় নেমেই সোজা ইডেন, সারপ্রাইজ দেবো প্রেমিকাকে। লাগেজ নিয়ে ইন্ডিয়ান বর্ডারের অফিসিয়াল গেট যখন পার হচ্ছি, তখনও টলছি গাঁজার ঘোরে, নো ম্যানস ল্যান্ড পার হয়ে সামনে বাংলাদেশের গেট, উফফফফফ কতমাস পরে দেশে ঢুকছি, কতকাল পরে গোল্ডলিফ, গাঁজায় ইমোশন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। গেট পার হয়ে দেশের মাটিতে পা দিয়ে ফিল্মি কায়দায় চোখ বন্ধ করে বুক ভরে শ্বাস নিয়ে চোখ খুললাম, সামনে আমার বাবা, এতই শকড হলাম, অধিক শোকে পাথর হয়ে গেলাম, গাঁজার ঘোর মুহুর্তে হাওয়া হয়ে গেলো।
জানতে পারলাম, কালপ্রিট ঐ তাপস, কদিন আগে বাবা ফোন করেছিলো হোস্টেলের নাম্বারে, আমি ছিলাম না, রিসিভ করেছিলো তাপস, সে বিগলত হয়ে আঙ্কেলকে এক্সাক্ট ডেট জানিয়ে দিয়েছে। তারপরে আর কি সমস্ত হিসাব গড়বড়, বাবুকে ৫/৬ স্টিকের মত মাল দিয়ে দিলাম, বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত খাবে, মাঝে ফেরিতে খাবে। আর আমি শান্ত সুবোধ বালকের মত বাবার সাথে বাড়ির পথে। শালা বর্ডারে এসে একটা ফেন্সিডিল খেয়েছিলাম, সিগারেটের কি জোর টান, আমার বাবার ব্রান্ডও গোল্ডলিফ, ৪ ঘন্টার পথ, শালা অন্তত গোটা পাঁচেক সিগারেট খেলো আমার সামনে বসে বসে, আমি একবার প্রায় বলেই ফেলেছিলাম, একটা সিগারেট দাও না বাল। অবর্ণনীয়, সে অবর্ণনীয় মানসিক অত্যাচার কোনদিন ভুলবো না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন