মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৫

নাস্তিকের আত্মজিজ্ঞাসা

  নাস্তিক, অর্থাৎ সিম্পলি অবিশ্বাসীদের যেকোন কিছু করতে একটাই বাধা, তাদের conscience, এটা কিভাবে কাজ করে তা নির্ভর করছে পুরোটাই তার শিক্ষা, রিয়ালাইজেশন, রেশনালিটি, ওপেননেস, ইত্যাদির উপরে। ধর্ম ঘেঁষা রক্ষনশীল রাডিক্যাল সমাজ আমাদের যৌক্তিক এবং সুস্থ সংস্কার নিয়ে বেড়ে ওঠায় কোন ভুমিকাই রাখে না বলতে গেলে চলে। আমাদের এগুলো কষ্ট করে অর্জন করতে হয়েছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। প্রসেসটা যদি, আগে নিজেকে লিবারাল এবং রাশনাল হিসেবে তৈরী করার পরে কেউ ধর্মে অবিশ্বাস আনা হয় সেটাই স্থায়ী এবং কার্যকর হয় এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা তাদের নধ্যে দেখা যায়। কিন্তু আগেই ইন্সট্যান্ট নাস্তিকতা, তারপরে "আমি নাস্তিক" পরিতৃপ্তি, এখানে আর নিজের মূল্যবোধ গঠনের সময় বা সুযোগ থাকে না।


বিজ্ঞানমনস্কতার কথা আমি ছেড়েই দিচ্ছি, নাস্তিকেরা ধর্মগ্রন্থ পড়তে ধার্মিকদের থেকেও বেশি আগ্রহী অধিকাংশ সময়, কেন? ধর্মকে খিস্তাতে হবে বলে। কিন্তু কজন নাস্তিক এটলিস্ট প্রাইমারি এন্টি ক্রিয়েশন থিয়োরি, ডারউইনিজম নিয়ে পড়েছেন? বিগ ব্যাং থিওরি, স্ট্রিং থিওরি, বা ডকিন্স হিচেন্স ছেড়েই দিলাম, মেন্ডেলের সাকসেশন থিয়োরিই বা কজন জানেন? "নবীপোন্দন সপ্তাহ" যেই উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পার করা হয়, কার্টুনে কার্টুনে ভরিয়ে দেয়া হয় ভার্চুয়াল জগত,  তার এক শতাংশ এনথুজিয়াজম কি থিওরি অফ এভোলুশন নিয়ে কার্টুন আঁকার পেছনে ব্যয় করা হয়? আমি নাস্তিক তাই আমি বিজ্ঞানমনস্ক বলে গরিলার মত বুকে কিল মারা মানুষগুলো কি আদৌ বিজ্ঞান পড়েন? আর শুধু নিজে পড়াই নয়, বিজ্ঞানের জ্ঞানকে সহজবোধ্য করে ছড়িয়ে দেয়ার কথা কি চিন্তা করেন? নিজের পরিবারে চলে আসা বোরখা বা সিঁদুরের ব্যবহার কি লজিকালি দূর করার চেষ্টা করেন? চেষ্টা করেন কি, পরিবারে দীর্ঘ্যদিন ধরে চলে আসা আচার বিচারের সংস্কার এবং কুসংস্কার দূর করার? বিজ্ঞানমনস্ক(?) অবিশ্বাসী  হয়েও যদি সুবিধাবাদী হিপোক্রেসি ধরে রাখা হয়, তবে বিশ্বাসী ধার্মিকের সুবিধাবাদী চরিত্র নিয়ে কেন এত উচ্চবাচ্য?

ধর্ম অস্বীকারকারী প্রচলিত ঈশ্বর অবিশ্বাসী মাত্রেই আমরা ঢালাওভাবে নাস্তিক বলে ফেলছি, অথচ ধর্ম অবিশ্বাসীদের আরো কিছু ফর্ম আছে যেটা আমরা বেমালুম ভুলে যাই। বোধহয় সময় এসেছে এই ফর্মেশনগুলো নিয়ে পরিষ্কারভাবে কথাবার্তা হওয়ার। তাছাড়া নাস্তিকতা নিয়ে আমরা এতই উচ্ছাসে থাকি যেন নাস্তিকতা ইটসেল্ফ একটা ভার্চু। ফলে অবিশ্বাসীদের মধ্যে সত্যিকারের ভার্চু আত্নস্থ করার ঝোঁকটাই কমে যাচ্ছে। নাস্তিকতা মানেই যেন এন্টি ধর্ম, এন্টি সোশাল এস্টাবলিশমেন্ট, সেক্সুয়াল লিবারালিজম, এবং ডিবেট, ব্যাস থেমে যাচ্ছে এখানেই। কিন্তু এটুকু দিয়ে সমাজের কি পরিবর্তন আনা যাবে? শ্রেফ বিশেষ একটা ক্লাস্টার হয়ে বসে থাকা ছাড়া আর আত্মগরিমা ছাড়া আর কিছু দেখি না। জানা, বোঝা, সমস্ত ক্ষেত্রে লিবারালিজম, রাশনালিজমের চর্চা একদম হচ্ছে না। জানি না আদৌ কবে হবে। আমাদের এই নাস্তিকতার তৃপ্তি কবে শেষ হবে, কে জানে। তবে নাস্তিকদের (?) নিজেদের জন্যই এখন উচিৎ এই আত্মতৃপ্তি থেকে বেরিয়ে আসা।

পি. এস.: অধুনা কোন এক আম্রিকান সংস্থার কি এক ঘোড়ারডিম জরীপে নাকি জানা গেছে, বাংলাদেশে এখন প্রায় ৩০ লাখ অনলাইন একটিভ মানুষ নাস্তিক মনোভাব সম্পন্ন। এতে আমি বড়ই হতভম্ব, কেননা আমি আমার এত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে জানি এদের মধ্যে সত্যিকার নাস্তিকের সংখ্যা সাকুল্যে ১০%। বাকিরা ট্রেন্ডি ফ্যাশন নাস্তিক বা সিজনাল নাস্তিক। এই ট্রেন্ড থেকে সরে আসার পরে, বাকি ৯০% যখন একযোগে স্ট্যাটাস মারবে, আমি নাস্তিক ছিলাম এখন ফের ধর্মের সুশীতল সায়াতলে এলাম, ম্যাস ইফেক্ট কি ক হবে, তা নিয়ে আমি আতঙ্কগ্রস্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন