২০০৬ সাল, কুষ্টিয়াতে আছি প্রায় ৩ বছর হতে চললো, কেন কে জানে, লালন জন্মোৎসব তো দূর লালনের আখড়াতেই যাওয়া হয়ে ওঠে নি। সেবার ফাল্গুনে আর সহ্য হলো না ব্যাপারটা, এবার লালন উৎসবে যাবোই যাবো, যেতেই হবে। আমার চুল কাটে রেগুলার যে নাপিত, পাঁড় লালনভক্ত। তাকে বলতে সে সোৎসাহে একটা রিকশা ঠিক করে দিলো, ভাড়াও দিয়ে দিলো, আমি শত না না করা স্বত্বেও।
বেশি দূরে না, এই এক দিক দিয়ে গেলে ৩ কিলো, আরেক দিক থেকে দেড় কিলো, কুষ্টিয়ার প্রাচীন মোহিনি মিল এরিয়ার গা ঘেঁসে, ছেউড়িয়া গ্রাম, কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে। এখানেই সেই কোনকালে সদলেবলে আস্তানা গেঁড়েছিলেন লালন সাঁইজি, আজীবন প্রচার করেছেন মানবধর্ম। সরকারী উদ্যোগে তাঁর কবরের উপরে মেমোরিয়াল তৈরী হয়েছে, কিন্তু ডিজাইন দেখলে মনে হয়ে এ বোধহয় কোন পীরের মাজার, গম্বুজ মিনার সহ। যেই লালন মানুষ ভজনার কথা, নিজেকে রিয়ালাইজ করার কথা বলে গেলেন আজীবন, ধর্মকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে, আজ তাঁর শেষ বিশ্রামস্থল দেখলে মনে হবে খাঁটি মুসলিম সুফী ছিলেন।
তো যাই হোক, গিয়ে পৌঁছুলাম সন্ধ্যের একটু আগে, লালন মেলায়, কালীগঙ্গার পাড়ে বিশাল মাঠের পুরোটা জুড়ে। আমি যেদিক দিয়ে ঢুকলাম, সেটা পেছনদিক, সামনে শত শত স্টল, কত রকমের খাবার, কত কিছুর দোকান, নাগরদোলা, ইত্যাদি ইত্যাদি। ঐ সামনে দেখা যাচ্ছে স্টেজ যেখানে প্রোগ্রাম চলছে। আগে পেটপুজো, খাবারের স্টলগুলো দেখেই খিদে পেয়ে গেলো, ভাবছি আগে খাবো, না পরে খাবো। ইয়ে মানে এটা তো হচ্ছে লালন জন্মোৎসব, মানে বাউলদের উৎসব, মানে গাঁজা, তো আপাতত বাদাম চিবোই, পরে হবে।
পচ্চন্ড ভিড়, পচ্চন্ড। ভাবলাম এভাবে কিছুই তাল পাবো না, বরং স্টেজের কাছে যাই সেখান থেকে তাল ঠিক করে নিই কোনদিকে কি। আস্তে আস্তে গুটি গুটি পায়ে স্টেজের কাছে গিয়ে যা দেখলাম তা আমি সারাজীবনে ভুলবো না। স্টেজের উপরে তখন গন্যমান্য ব্যক্তিরা বসে, বক্তব্যবাজী চলছে। স্টেজের সামনে ৮/১০ সারি চেয়ার। তারপরে ১০ টা রো বাউলদের, কম করেও ৬০/৭০ টা গ্রুপ, আর গোটা সব কিছু ঘিরে বড় বড় তাঁবু স্পেশাল বাউলদের। এটা আসলে বিষয় না, বিষয় হচ্ছে, এই ৬০/৭০ টা গ্রুপের প্রতিটাতেই হয় গাঁজা কাটছে, নয় ডলছে, নয় কল্কেতে পুরছে, নয় টানছে। এভারেজে অন্তত ১০/১৫ টা কল্কে তো অলটাইম চলছেই। আর ঐ চেয়ার আর বাউলদের মাঝে অন্তত ২৫/৩০ জন বিভিন্ন কোয়ালিটির গাঁজা নিয়ে বসে আছে, কারো কারো কাছে ২/৩ পদের মাল।
আমি দেখে শুনে কমপ্লিট চোদনা হয়ে গেলাম। ওরে শালা, এ আমি কোথায় এলাম। কি কারবার রে ভাই, কি থুয়ে কি করবো, গাঁজা কিনবো, না কোথাও বসে গিয়ে খাবো। ভাবলাম আগে বাল গাঁজাই কিনবো, এতদিন জানতাম না কোথায় ভালো মাল পাওয়া যায় কুষ্টিয়ায়। বাঁড়া কাঙাল দেখেছে শাকের খেত, আমি ৭/৮ রকমের কিনলাম ২০/২৫ টাকা করে। কে জানে বাল কোনটা বেশি ভালো, কোনটা কম ভালো, কেরোসিন ল্যাম্পের আলোয় কি করে বুঝবো। রেন্ডম বাছাই, বিচি কম দেখে। রাত বাড়ছে, এখন গাঁজা খেতে হবে, এবং কেনা মালে আমি সন্তুষ্ট নই, খুব ভালো মাল চাই।
স্টেজের সামনের ঔ বাউলরা অনেক আলোর মধ্যে বসে, ওদের মধ্যে গিয়ে বসা চাপ। বাইরে দু চক্কর ঘুরে একটা সাধু টাইপ বাউল পছন্দ হলো এক কোনে আলোর দিকে পেছন ফিরে বসা, সামনে ২/৩ জন বসা আমিও বসে পড়লাম, একজন সামনে গাঁজা কাটছে। ঐ আমি কে , কোথায় থাকি, কি করি'র ফাঁকে আমার দু:খ, ভালো গাঁজা চাই, কোথায় পাই। পাশ থেকে একজন জিজ্ঞেস করলো, কতটুকু, কি জবাব হয় রে ভাই, আমতা আমতা করে বললাম, এই ৫০ টাকার। এর মধ্যে কল্কে রেডি, মুখাগ্নি। আহা! আহা! কি মাল এক দমেই সব চক্কর দিয়ে উঠলো, ইন্সট্যান্ট চোখমুখ হাসিহাসি হয়ে গেলো আমার। কল্কেটা ছোট ছিলো, সাধু সহ আমরা ৫ জন ছিলাম, ৩/৪ টানের বেশি হয় নি, দরকারও ছিলো না, আমি ফুল হাই, হালকা, ফুররুরে। জিজ্ঞেস করলো এমন মাল হলে হয়? হয় মানে? ব্যাপকেস্ট হয়। কতটুকু দিলো, বোধহয় ৫/৬ স্টিকের মত মাল। আমি বিগলিত
উঠে যখন আবার নামলাম তখন আমি এতই হালকা, কালিগঙ্গার উপর থেকে আসা বসন্তের এলোমেলো হাওয়া আমাকে দেখি একেক দিকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, বেলুনের মত, কি চাপ রে ভাই, খেতে হবে যদি তাতে একটু ভারী হয় শরীর, মাটিতে থাকতে পারি। ওদিকে যাওয়ার পথে দেখি পাশেই এক ডালা ভর্তি কল্কে নিয়ে বসে আছে। তিন সাইজের কল্কে বোধহয় ছিলো, মনে নেই, সেখান থেকে দুটো কলকে কিনলাম। সামনে দিয়ে ২৫০ গুড়ের জিলাপি আর গোটা ছয় চপ চালিয়ে দিয়ে মনে হলো না এবার একটু ঠিক আছে,। গজা, খাগড়াই, ছাঁচ, এরকম আরো কি কি যেন কিনে সেদিনের মত বাড়ির পথ ধরলাম।
আয়রনি হচ্ছে, সে বছরের শেষ দিকে এদেশের পলিটিকাল হেজিমনি হলো, আর্মি ব্যাকড সরকার এলো, বাউলিদের এই ওপেন উৎসব চুদে দিলো। ঐ এলাকায় রেন্ডম গাঁজা খাওয়া ফের চালু হতেই প্রায় ৬/৭ বছর। এখন বাউলদের খোলা অডিটোরিয়ামে রাখা হয়, গাঁজা তো তারা খাবেই, কিন্তু সেই গাঁজা উৎসব সে বছরই শেষ। আমি প্রায় ৭/৮ মাস ঐ ছেউড়িয়া গ্রাম থেকে মাল কিনেছি। ওহহহহহ কি মাল বেচতো রওশন। আহা! আহা! মাইসোরের মালও অত ব্যাপক নয়। ঐ উৎসব ওয়াজ অসাম, অসাম, আজীবন মনে থাকবে আমার, আজীবন।
বেশি দূরে না, এই এক দিক দিয়ে গেলে ৩ কিলো, আরেক দিক থেকে দেড় কিলো, কুষ্টিয়ার প্রাচীন মোহিনি মিল এরিয়ার গা ঘেঁসে, ছেউড়িয়া গ্রাম, কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে। এখানেই সেই কোনকালে সদলেবলে আস্তানা গেঁড়েছিলেন লালন সাঁইজি, আজীবন প্রচার করেছেন মানবধর্ম। সরকারী উদ্যোগে তাঁর কবরের উপরে মেমোরিয়াল তৈরী হয়েছে, কিন্তু ডিজাইন দেখলে মনে হয়ে এ বোধহয় কোন পীরের মাজার, গম্বুজ মিনার সহ। যেই লালন মানুষ ভজনার কথা, নিজেকে রিয়ালাইজ করার কথা বলে গেলেন আজীবন, ধর্মকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে, আজ তাঁর শেষ বিশ্রামস্থল দেখলে মনে হবে খাঁটি মুসলিম সুফী ছিলেন।
তো যাই হোক, গিয়ে পৌঁছুলাম সন্ধ্যের একটু আগে, লালন মেলায়, কালীগঙ্গার পাড়ে বিশাল মাঠের পুরোটা জুড়ে। আমি যেদিক দিয়ে ঢুকলাম, সেটা পেছনদিক, সামনে শত শত স্টল, কত রকমের খাবার, কত কিছুর দোকান, নাগরদোলা, ইত্যাদি ইত্যাদি। ঐ সামনে দেখা যাচ্ছে স্টেজ যেখানে প্রোগ্রাম চলছে। আগে পেটপুজো, খাবারের স্টলগুলো দেখেই খিদে পেয়ে গেলো, ভাবছি আগে খাবো, না পরে খাবো। ইয়ে মানে এটা তো হচ্ছে লালন জন্মোৎসব, মানে বাউলদের উৎসব, মানে গাঁজা, তো আপাতত বাদাম চিবোই, পরে হবে।
পচ্চন্ড ভিড়, পচ্চন্ড। ভাবলাম এভাবে কিছুই তাল পাবো না, বরং স্টেজের কাছে যাই সেখান থেকে তাল ঠিক করে নিই কোনদিকে কি। আস্তে আস্তে গুটি গুটি পায়ে স্টেজের কাছে গিয়ে যা দেখলাম তা আমি সারাজীবনে ভুলবো না। স্টেজের উপরে তখন গন্যমান্য ব্যক্তিরা বসে, বক্তব্যবাজী চলছে। স্টেজের সামনে ৮/১০ সারি চেয়ার। তারপরে ১০ টা রো বাউলদের, কম করেও ৬০/৭০ টা গ্রুপ, আর গোটা সব কিছু ঘিরে বড় বড় তাঁবু স্পেশাল বাউলদের। এটা আসলে বিষয় না, বিষয় হচ্ছে, এই ৬০/৭০ টা গ্রুপের প্রতিটাতেই হয় গাঁজা কাটছে, নয় ডলছে, নয় কল্কেতে পুরছে, নয় টানছে। এভারেজে অন্তত ১০/১৫ টা কল্কে তো অলটাইম চলছেই। আর ঐ চেয়ার আর বাউলদের মাঝে অন্তত ২৫/৩০ জন বিভিন্ন কোয়ালিটির গাঁজা নিয়ে বসে আছে, কারো কারো কাছে ২/৩ পদের মাল।
আমি দেখে শুনে কমপ্লিট চোদনা হয়ে গেলাম। ওরে শালা, এ আমি কোথায় এলাম। কি কারবার রে ভাই, কি থুয়ে কি করবো, গাঁজা কিনবো, না কোথাও বসে গিয়ে খাবো। ভাবলাম আগে বাল গাঁজাই কিনবো, এতদিন জানতাম না কোথায় ভালো মাল পাওয়া যায় কুষ্টিয়ায়। বাঁড়া কাঙাল দেখেছে শাকের খেত, আমি ৭/৮ রকমের কিনলাম ২০/২৫ টাকা করে। কে জানে বাল কোনটা বেশি ভালো, কোনটা কম ভালো, কেরোসিন ল্যাম্পের আলোয় কি করে বুঝবো। রেন্ডম বাছাই, বিচি কম দেখে। রাত বাড়ছে, এখন গাঁজা খেতে হবে, এবং কেনা মালে আমি সন্তুষ্ট নই, খুব ভালো মাল চাই।
স্টেজের সামনের ঔ বাউলরা অনেক আলোর মধ্যে বসে, ওদের মধ্যে গিয়ে বসা চাপ। বাইরে দু চক্কর ঘুরে একটা সাধু টাইপ বাউল পছন্দ হলো এক কোনে আলোর দিকে পেছন ফিরে বসা, সামনে ২/৩ জন বসা আমিও বসে পড়লাম, একজন সামনে গাঁজা কাটছে। ঐ আমি কে , কোথায় থাকি, কি করি'র ফাঁকে আমার দু:খ, ভালো গাঁজা চাই, কোথায় পাই। পাশ থেকে একজন জিজ্ঞেস করলো, কতটুকু, কি জবাব হয় রে ভাই, আমতা আমতা করে বললাম, এই ৫০ টাকার। এর মধ্যে কল্কে রেডি, মুখাগ্নি। আহা! আহা! কি মাল এক দমেই সব চক্কর দিয়ে উঠলো, ইন্সট্যান্ট চোখমুখ হাসিহাসি হয়ে গেলো আমার। কল্কেটা ছোট ছিলো, সাধু সহ আমরা ৫ জন ছিলাম, ৩/৪ টানের বেশি হয় নি, দরকারও ছিলো না, আমি ফুল হাই, হালকা, ফুররুরে। জিজ্ঞেস করলো এমন মাল হলে হয়? হয় মানে? ব্যাপকেস্ট হয়। কতটুকু দিলো, বোধহয় ৫/৬ স্টিকের মত মাল। আমি বিগলিত
উঠে যখন আবার নামলাম তখন আমি এতই হালকা, কালিগঙ্গার উপর থেকে আসা বসন্তের এলোমেলো হাওয়া আমাকে দেখি একেক দিকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, বেলুনের মত, কি চাপ রে ভাই, খেতে হবে যদি তাতে একটু ভারী হয় শরীর, মাটিতে থাকতে পারি। ওদিকে যাওয়ার পথে দেখি পাশেই এক ডালা ভর্তি কল্কে নিয়ে বসে আছে। তিন সাইজের কল্কে বোধহয় ছিলো, মনে নেই, সেখান থেকে দুটো কলকে কিনলাম। সামনে দিয়ে ২৫০ গুড়ের জিলাপি আর গোটা ছয় চপ চালিয়ে দিয়ে মনে হলো না এবার একটু ঠিক আছে,। গজা, খাগড়াই, ছাঁচ, এরকম আরো কি কি যেন কিনে সেদিনের মত বাড়ির পথ ধরলাম।
আয়রনি হচ্ছে, সে বছরের শেষ দিকে এদেশের পলিটিকাল হেজিমনি হলো, আর্মি ব্যাকড সরকার এলো, বাউলিদের এই ওপেন উৎসব চুদে দিলো। ঐ এলাকায় রেন্ডম গাঁজা খাওয়া ফের চালু হতেই প্রায় ৬/৭ বছর। এখন বাউলদের খোলা অডিটোরিয়ামে রাখা হয়, গাঁজা তো তারা খাবেই, কিন্তু সেই গাঁজা উৎসব সে বছরই শেষ। আমি প্রায় ৭/৮ মাস ঐ ছেউড়িয়া গ্রাম থেকে মাল কিনেছি। ওহহহহহ কি মাল বেচতো রওশন। আহা! আহা! মাইসোরের মালও অত ব্যাপক নয়। ঐ উৎসব ওয়াজ অসাম, অসাম, আজীবন মনে থাকবে আমার, আজীবন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন